
আমরা অনেকেই মনে করি একজন মেয়ে বাবা মা ভাই
বোন ছেড়ে চেনা নাই জানা নাই বিয়ের পর স্বামীর
হাত ধরে যেহেতু নিজের বাড়ি ছেড়ে স্বামীর বাড়ি চলে যায়
সেহেতু স্বামীর কাছে মা বাবা আগে স্ত্রীর অধিকার আগে বা
স্ত্রীর হক বেশি।সেই সকল ভাই বোনদের বলছি আপনার
স্ত্রীর ওইটুকো ত্যাগের জন্য যদি আপনার ওপরে আপনার
মা বাবার চেয়ে আপনার স্ত্রী হক বেশি হয়,তাহলে যে মা
আপনাকে দশ মাস দশদিন গর্ভে ধারণ করল এবং পশ্রব দানের
মত কষ্ট সয়ে ধৈর্য্য ধারণ করে বহু কষ্টের মধ্যে আপনাকে পৃথিবীর
আলো দেখাল,দের থেকে দুই বছর এমন কি এর চেয়ে বেশিদিনও
হতে পারে আপনার মা আপনাকে তার বুকের দুধ পান করালো ।
সেই সবের কি কোনও ত্যাগই না সেগুলোর কি কোনও মূল্যই নেই।
পৃথিবীতে সব থেকে সহজ কাজ হল মা বাবাকে খুশি করা।
কোনও সংসারে মা বাবার সাথে যদি কোনও সন্তান কোনও
প্রকার অন্যায় বা অপরাধ করে তাহলে হয়ত প্রথমে মা বাবা
রাগ হন কিন্তু সন্তান যখন দূরে সরে যায় তখন মা বাবাই ছেলের
জন্য পথ চেয়ে বসে থাকে । একজন সন্তান যখন বিদেশ ভ্রমন করে
বাড়ি ফিরেন তখন মা বাবা সন্তানের শরীর সাস্থ্যের দিকে আগে নজর দেন।
আর একজন স্বামী যখন বিদেশ ভ্রমন করে বাড়ি ফিরেন স্ত্রীর কাছে স্ত্রী তখন
তার স্বামীর কাছে আগে দেখেন স্বামী তার জন্য বিদেশ থেকে কি সামগ্রী আনছে।
এখানেই বোঝা যায় যে সন্তানের জন্য মা বাবার কতটা মমতা আর একজন স্ত্রীরও
তার স্বামীর প্রতি কতটা ভালোবাসা।
কুরআনেও যে কোন সন্তানকে তাদের পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
হাদীসে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন মাতার পদতলে সন্তানের বেহেশত ।
সনাতন ধর্মে বা হিন্দু ধর্মে উল্লেখ আছে স্ববংশবৃদ্ধিকামঃ পুত্রমেকমাসাদ্য..”। আবার সন্তান লাভের পর নারী তার রমণীমূর্তি পরিত্যাগ করে মহীয়সী মাতৃরূপে সংসারের অধ্যক্ষতা করবেন। তাই মনু সন্তান প্রসবিনী মাকে গৃহলক্ষ্মী সম্মানে অভিহিত করেছেন। তিনি মাতৃ গৌরবের কথা বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন এভাবে উপাধ্যায়ান দশাচার্য্য আচায্যাণাং শতং পিতা। সহস্রন্তু পিতৃন্মাতা গৌরবেণাতিরিচ্যতে” (মনু,২/১৪৫) অর্থাৎ “দশজন উপাধ্যায় (ব্রাহ্মণ) অপেক্ষা একজন আচার্য্যরে গৌরব অধিক, একশত আচার্য্যরে গৌরব অপেক্ষা পিতার গৌরব অধিকতর; সর্বোপরি, সহস্য পিতা অপেক্ষা মাতা সম্মানার্হ।”

মা হচ্ছেন একজন পূর্ণাঙ্গ নারী, যিনি গর্ভধারণ, সন্তানের জন্ম এরপর সন্তানকে বড় করে তোলেন ।
প্রকৃতিভাবে একজন নারী বা মহিলাই সন্তানকে জন্ম দেয়ার অধিকারীনি। গর্ভধারণের ন্যায় জটিল এবং মায়ের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় অবস্থানে থেকে এ সংজ্ঞাটি বিশ্বজনীন গৃহীত হয়েছে।

মায়ের বিপরীত লিঙ্গ পুরুষ হচ্ছেন বাবা।পিতা হলেন একজন সন্তানের পুরুষ অভিভাবক। তিনি ছেলে কিং বা মেয়ে উভয় সন্তানের পুরুষ জন্মদাতা।আমরা অনেকেই আছি যে আমাদের বাবা মায়েদের বেশি বয়স হলেই সেই বৃদ্ধ বাবা মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসি।যা কোনও বাবা মায়েরাই তার সন্তানের কাছে কাম্য নয়।মহান স্রষ্টা আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন সন্তানের কাছে তার বাবা মায়ের মর্যাদা অনেকে উপরে দিয়েছেন।যে বাবা-মায়ের কারণে আমরা সন্তানেরা পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হই আর সেই বাবা মাকে আমরা যারা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসি, আমার মনে হয় আমরা তারা আর যাই হই না কেন অন্তত মানুষ না।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




