somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফরিদপুরে সাংবাদিকরা কেমন আছেন?

০৫ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দুই পা ভেঙে বলে হাঁটো। আমাদের দুই চোখ খুচিয়ে বলে দেখো। আমাদের দুই হাত কুপিয়ে বলে লেখো। লেখো আর বগল বাজাও, চারপাশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। একটা ভুল নির্বাচন হইছে, বলা যাবেনা। একটা গুম হইছে, বলা যাবেনা। একটা খুন হইছে, বলা যাবেনা। পুলিশ ঘুষ খায়, বলা যাবেনা। সরকারি কর্মকর্তারা ঘুষ খায়, বলা যাবেনা। সাংবাদিক পার্সেন্টেজ নেয়, বলা যাবেনা। ডাক্তাররা হয়রানি করে, বলা যাবেনা। এলাকায় ডাকাতি হয়, বলা যাবেনা। লোকজন রাতে রাম দা নিয়ে পাহাড়া দেয়, বলা যাবেনা। সরকারি দলের নেতারা পাহাড়া দেওয়ার নামে ডাকাত বলে নিরীহ মানুষ পিটিয়ে মারে, বলা যাবেনা।

আচ্ছা বলা যাবে না কেন? কারণ? সেটাও বলা যাবেনা। কারণ, ক্ষমতা এক জায়গায় জমাট বেঁধেছে। কেউ তাঁর আত্মীয়, কেউ তার ঘনিষ্ঠ, কেউ তার অনুসারী। ক্ষমতার ভাই কেই আবার কেউ বেয়াই। ক্ষমতা মানে মন্ত্রী। মন্ত্রী মানে ইঞ্জিনিয়রা খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

কালের কণ্ঠের ফরিদপুরের নিজস্ব প্রতিবেদক নির্মলেন্দু চক্রবর্তী শঙ্করকে গত শুক্রবার দুপুর থেকে গত শনিবার দুপুর পর্যন্ত আটকে রেখেছিল পুলিশ। আসলে পুলিশ তাকে আটকে রাখে নাই, আটকে রাখছে ক্ষমতা। ক্ষমতা মানে মন্ত্রী। গত কয়েক বছরে মালয়েশিয়া বা সৌদি আরবে সরকারিভাবে লোক নিবেন বলে যিনি মুলা ঝুলিয়েছিলেন। সেই মুলা পচে গন্ধ উঠলেও তিনি টের পাননাই। বৈধ পথে যারা লোক পাঠাত, সেই রিক্রুট এজেন্সির ব্যবসা চাঙ্গে তুলছেন। লোকজন সমুদ্র দিয়া নৌকায় যেত। গেলেই কাজ। কারণ, সরকারিভাবে গেলে মালয়েশিয়ার কম্পানিগুলো শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারবেনা। বেতন আটকে রাখতে পারবেনা। দেশে আসার সময় টাকা আটকে রাখতে পারবেনা। ইচ্ছেমতো নিয়োগ, ছাটাই করতে পারবেনা। তাই, যে পথেই আসুক দাস হলেই তাদের ভাল। তো সেই দাস হতে গিয়ে মানুষগুলো পতঙ্গের মতো ডুবে, না খেয়ে, মারপিটে মারা গেল। কেউ কবর পেল, কেউ পেল গণকবর। মন্ত্রীর তো কোনো দায় নেই। তিনি ক্ষমতার বেয়াই, তাকে ছোয় অ্যাত্তবড় সাহস কারো নাই। তিনি বহাল।

এলাকায় ডাকাতি হলে মন্ত্রীর সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। দেশের মানুষ জেনে যায়, অমুক মন্ত্রীর এলাকায় মানুষ রাতে ঘুমায় না। ডাকাতের ভয়। তাই ডাকাতি হলেও নিউজ করা যাবেনা। লোকজন রাতে না ঘুমিয়ে পাহাড়া দিলেও নিউজ করা যাবেনা।

কিন্তু আসল ঘটনা তো আরও ভয়াবহ। সেসব কথা তো একেবারেই বলা যাবেনা। নিউজ করতে এভিডেন্স লাগে, এভিডেন্স নাই। যে লোকজন রাতে পাহাড়া দেয়। তাদের হাতে টর্চ লাইট, বাঁশ, লাঠি, দা, রাম দা থাকে। এগুলো তো দেখা যায়। এ সবের ছবি তোলা যাবেনা। এ সবের ছবি ছাপা যাবেনা। কিন্তু পকেটে যা থাকে তা কি দেখা যায়? সেসব কি লেখা যাবে? ঘটনা এখানেই শেষ না। যারা পাহাড়া দেন, তাদের সন্দেহ হলেই লোকজনকে পিটিয়ে মারেন। সন্দেহ বস্তুটা কি? এটা কি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ? প্রতিপক্ষ কি কেবল অন্য দল? নিজের দলেও তো প্রতিপক্ষ থাকে? তো মানুষ পিটিয়ে মারছে এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবেনা।

প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা সভা করে বিষয়টাকে গুজব বলছে। তায়লে কি ডাকাতিটা গুজব? নাকি পাহাড়ার নামে মানুষ পিটিয়ে মারা- এটা গুজব? এসব প্রশ্নও তোলা যাবেনা।

এ সবের কিছুই তিনি করেননি। কেবল বলছেন যে, লোকজন ডাকাতের ভয়ে পাহাড়া দিচ্ছে। আর প্রশাসন বিষয়টাকে গুজব বলছে। এতেই মন্ত্রী ক্ষেপে গেলেন। কেন ক্ষেপলেন? তার সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। এসপি আছেন চার বছর ধরে। মন্ত্রীর পছন্দে আছেন। মন্ত্রীর এলাকায় ডাকাতি হয়, এসপি কিছু করেনা? এসপি করলেন, সাংবাদিককে সাইজ করার উদ‌্যোগ নিলেন। এর আগে তিনি প্রথম আলোর সাংবাদিক পান্না বালাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছেন। সাইজ করতেই হয়। না করলে মন্ত্রীর সম্মান থাকে না।

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কমিটি ভেঙে অনুগতদের দিয়ে কমিটি করা হয়েছে। যাদের অধিকাংশ স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি দলের অনুগত। এরা আর কি করবেন? তারা চুপচাপ থাকেন। তারা পুতুল সাংবাদিক। আর যারা সাহস দেখান, তারা হয়রানির শিকার হন।

হে মহান ক্ষমতাময়ী, আর কতটা অপমানিত হলে আমাদের অপমান শেষ হবে?

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১২:৩২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×