
প্রতিটা জেনারেশনের নিয়ন্ত্রা সত্যিকার অর্থে তার পূর্ববর্তী জেনারেশন। এক্ষেত্রে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও যে কলকাঠি নাড়ান- তা বোধকরি মানতে কষ্ট হয়। তা নাহলে সুদীর্ঘ ১৪ বছরের সশ্রম শিক্ষাদণ্ডের পর আমাদের কেন নিজ নিজ স্বপ্নের কফিনে পেরেক ঠুকা লাগে!
প্রাচীনকাল থেকে আমাদের সমাজের আল্টিমেট লক্ষ্য হচ্ছে, চাকরি পেয়ে জীবন সার্থক করা। তাই তো দাদার বাবা দাদাকে বলেছেন, পড়-
“Rice is a kind of food. We get rice from paddy. It comes from grassy plant. It is our main food……..”
বাবার বাবা তাকে বলেছেন- নে,পড়-
“Rice is a kind of food. We get rice from paddy. It comes from grassy plant. It is our main food……..”
বাবা এসে ছেলেকে বলছেন, তুইও পড় তাহলে-
“Rice is a kind of food. We get rice from paddy. It comes from grassy plant. It is our main food……..”
দিন পাল্টেছে। দুধের শক্তি বাড়াতে আবির্ভাব ঘটেছে হরলিক্সের আর বেগম রোকেয়ার হাত ধরে অবরোধবাসিনীদের পাশাপাশি আমাদের জন্য আবির্ভাব ঘটেছে ‘ভাবী’ সমাজের।
আমাদের শৈশব যতটা নাহ আমাদের হাতে, তার থেকে বেশি পাশের বাসার ভাবীর হাতে। ভাবী সমাজের DELL Theory (Doctor, Engineer, Lawyer or Loser) – এর বদৌলতে হারিয়ে যাচ্ছে এযুগের জগদীশচন্দ্র বসু, সত্যেন বসু, রামানুজান কিংবা হুমায়ূন আহমেদ-রা। তার স্থলে ভাবীর ‘আগুনের গোলা’ ( আবাল of fire ) ছেলে হয়ে উঠছে জীবনের আদর্শ এবং স্বপ্নপুরুষ। রং-তুলি কিংবা বিধ্বংসী কলমখানা মাড়িয়ে যান্ত্রিকতার গোয়ালে প্রবেশ ঘটছে নিরীহ দু’পেয়ে জন্তুপালের।
দিন যাচ্ছে, অসূর্যম্পশ্যা নারীর মত আমরাও দিন দিন ‘অস্বপ্নম্পশ্যা’ হয়ে উঠছি। আমি মনে করি, অন্তত আমাদের জেনারেশন উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, ‘পেটপূজো’-ই জীবনের অন্তিম লক্ষ্য হতে পারে নাহ। আগেই তো বলেছি, প্রতিটা জেনারেশনের স্বপ্নের চাবিকাঠি তার পূর্ববর্তী জেনারেশনের কাছে। এই ভাবী সমাজের দুষ্টুচক্র হতে আমরা বের হতে পারি নি, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি আমাদের হাত ধরেই আসতে শুরু করবে পরবর্তী জগদীশচন্দ্র বসু কিংবা হুমায়ূন আহমেদ-রা। তাই হতাশার সাগরে ডুবে যাওয়ার আগেই স্বপ্নের সুতোখানা এগিয়ে দিয়ে বলি- “চলো, স্বপ্ন বুনি”!
শহরের খোরাক ছেড়ে বেরিয়ে আসতে দেই প্রতিটি স্বপ্নকে !
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



