somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আমি : দ্বিতীয় পত্র
নিজের সম্পর্কে লেখা টা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ। লেখার সময় মনে হয় আসলেই আমি কে? একেক মানুষের কাছে তো আমি একেক রকম।

সম্রাট শাহজাহান ও নুডুলস আপার গল্প (রম্য)

৩১ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এক পড়ন্ত বিকাল।

দীর্ঘদিন পর সম্রাট শাহজাহান বের হইয়াছেন তাজমহলের চারিপাশে সান্ধ্যভ্রমণ করিতে।

যেদিকে তাকাইতেছেন চোখ টা জুড়িয়া যাইতেসে , আনন্দে মন ভরিয়া উঠিতেছে। সাড়ে তিনশ বছর পরেও যে তাজের রূপ এক বিন্দু কমিয়া যায় নাই। নিন্দুকেরা বলিতেছিল বেশিদিন টিকিবে নাহ। শকুনের দোয়ায় যে গরু মরিবে নাহ, তাহা তিনি ভালোভাবেই জানিতেন।
প্রশান্তিতে ঘুম আসিতে শুরু করিল সম্রাটের।

হঠাৎ কোথা হতে এক বোটকা গন্ধে সম্রাটের চিন্তায় ব্যাঘাত ঘটিল। কী ব্যাপার!

কিছুদূর গিয়ে থমকাইয়া দাঁড়াইলেন। একি দেখিতেছেন তিনি!

হস্তি বিলুপ্ত হইয়া তেলাপোকা টিকিয়া থাকার কথা থাকিলেও, সব হস্তি যে বিলুপ্ত হয় নাই, তাহা তিনি নিশ্চিত হইলেন। ব্যাপারখানা কী! এই বিশাল বপু রমণী কি তাহার তাজ মহলে আগুন ধরাইবার চক্রান্ত করিয়াছে নাকি!

সামনে আগাইয়া গেলেন সম্রাট।

"............অই সাজাইন্ন্যা! ব্যাটা ফাজিলের ফাজিল! ক্যামেরা আশেপাশেও ফোকাস কর। এত গুলান টাকা খরচ কইরা আইসি, একটু তাজ মহলের দিকেও ক্যামেরা ধর গাধা! "

ইতঃপূর্বে নিজের নামের সাথে এতো গুলান বিশেষণ আগে কখনো শ্রুত হয় নি সম্রাটের। তাই হজম করিতে সময় লাগিলো। যুগের এ কী অবস্থা! তাহার নাম নিয়াও মানুষ এতো অবজ্ঞা করিতে পারে। কষ্টে হু হু করে উঠিলো সম্রাটের মন।

এদিকে ক্যামেরাম্যান সাহজাহানের ঘাম ছুটিয়া যাইতেছে। কোনোভাবেই তাজ মহল ক্যামেরায় আসিতেছে নাহ।

"...............স্যার, ম্যাডামরেই তো ক্যামেরায় আটকে রাখা যাচ্ছি নে। ম্যাডামের পিছে তাজ মহল চাঁপা পড়ি যাচ্ছি যে। "

ডিরেক্টরের কোনো বোধোদয় হইল বলিয়া মনে হইলো নাহ, জায়গায় গিয়া শুধু বলিলেন- "অ্যাকশন"।

"..............দর্শকবৃন্দ, ‘প্রান গুঁড়া মশলা রান্নাঘর’ অনুষ্ঠানে আজ আমি আপনাদের রান্না করে দেখাবো একটি ঐতিহ্যবাহী মোঘল ডিস- নুডুলসের আচার!................................................।"

বাপের জন্মে এই খাবারের নাম শুনিয়াছেন বলিয়া স্মরণ করিতে পারিলেন নাহ সম্রাট। এতো জায়গা থাকিতে, তাহার প্রাণপ্রিয় স্ত্রী মমতাজের প্রতি ভালোবাসার এই তাজ মহলে শেষমেশ নুডুলসের আচার রান্না দেখিতে হইবে তাকে! কষ্টে আবার হু হু করিয়া উঠিল সম্রাটের মন।

আর থাকিতে পারিলেন নাহ সম্রাট।

"মমতাজ! ও মমতাজ!"

"কী হইসে! কও!" বিরক্ত হইয়া উত্তর করিলেন মমতাজ।

দরজায় আসিয়া থমকে দাঁড়াইলেন সম্রাট। এ কী! তাহার প্রাণপ্রিয় মমতাজও দেখি বোকাবাক্সে সেই উজবুক রমণীকে দেখিতেছে। পাশে গিয়া শুধু চুপ করিয়া বসিয়া পড়িলেন সম্রাট।

অতঃপর সময়ে সময়ে আগুন জ্বলিতে থাকিলো তাজমহলের সামনে, পুড়িতে থাকিলো সম্রাটের মন। নাহ! কোনো রমণী-ই পারিল নাহ তাহার ভালোবাসার কদর করিতে! ইহা আগে জানিলে কোটি টাকা খরচ করিয়া রন্ধন শিল্পেই মনোনিবেশ করিতেন।

"ভুল হইয়া গিয়াসে, বড় ভুল হইয়া গিয়াসে…………" অস্ফুটস্বরে বলিয়া উঠিলেন সম্রাট।

" কিসু কইলা তুমি?"

"ভুল হইয়া গিয়াসে, বড় ভুল হইয়া গিয়াসে ‘প্রাণ মশলা’ আনিতে…………।"

মমতাজের রাগান্বিত চক্ষু দেখিয়া নিজেকে সামলাইয়া লইলেন সম্রাট।

পাশে রিমোট খানা পড়িয়া থাকিলো, হাত দেবার সাহস হইলো নাহ সম্রাটের। কষ্টে আবার হু হু করিয়া উঠিলো সম্রাটের মন।


.
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্ভীক অভিযাত্রা

লিখেছেন আকিব হাসান জাভেদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩

আমি চলি ঐ প্রান্তে,
যেখানে অসৎ থেকে মানুষ হয়েছে সৎ।
আমি চলি উড়ে উড়ে,
ডানাহীন পাখির মতো,
যেখানে দুর্বলতাকে জয় করে
হয়েছে দুঃসাহস।
আমি চলি শক্তির সাথে,
দেহ যায় না ঝুঁকে।
করি না প্রণাম,
করি না চাটুকারিতা আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তবুও বেঁচে আছি

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:১৫

এই নিথর নগ্ন শরীরের প্রতিটা পল্লবের করুণ আর্তচিৎকার
পৃথিবীর মাটি ভেদ করে কোনদিনও
ওই মৃত কানে পৌঁছাবে না
আমি জেনে গেছি ।

বিপন্ন আকাশের গায়ে লেপ্টে থাকা
দেবতাদের প্রতারণার ফাঁদ আর মিথ্যা প্রলোভনের গল্পগুলি
আমার শুনতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৩



জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

১৫ আগস্ট আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম জুলাই মিউজিয়ামে। সেখানে গিয়ে মনে হলো- এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের বিরুদ্ধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×