somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ পুনরাবৃত্তি‬

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ১০:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৪ ফেব্রুয়ারি তে পাঞ্জাবী পরিধান করা একটা ছেলের ঘোরার কথা কোন মেয়ের সাথে, কিংবা বন্ধু বান্ধবীর গ্রুপের সাথে। তথাকথিত ভালোবাসা দিবসের কমন চিত্র। কিন্তু রাফসান বসে আছে চায়ের দোকানে। মুখ টা ঠিক বাংলা পাঁচের মত। পাশে দুটা লাল গোলাপ। এতক্ষণ যত্ন করে রাখা গোলাপ দুটা অবহেলিত অবস্থায় পরে আছে বেঞ্চে। কিছুক্ষণ পর চায়ের কাপ রাফসানের হাতে এসে পৌছালো। দুই চুমুক দেওয়ার পর রাফসান ভাবতে লাগলো কি হয়েছে।

অনিতা রাফসানের ক্লাস মেট। ক্লাসের সেরা সুন্দরী না হলেও মোটামুটি সুন্দরীদের একজন। সেকেন্ড সেমিস্টার থেকেই কেন যেন অনিতা কে মনের এক কোনে জায়গা দিয়ে ফেলে রাফসান। সেই থেকে নানান চেষ্টা অনিতার দৃষ্টি আকর্ষণের। যদিও বন্ধু হিসেবে কাছে যেতে বেশি দেরি করেনি রাফসান কিন্তু মনের কথা বলা কি এত সোজা। তাই অনিতার পিছনে কত ছোটা। বিচ্ছিরি জ্যাম ডিঙ্গিয়ে অনিতার বাসায় নোট পৌঁছে দেওয়া। সময় অসময়ে অ্যাসাইনমেন্ট মেইল করে দেওয়া, ফটোকপি করতে এক সাথে যাওয়া। মাঝে মাঝে একসাথে বার্গার কিংবা আইসক্রিম খাওয়া।

রাফসানের মনে হত অনিতা একদিন বুঝে ঠিকই জিজ্ঞেস করবে, “ কিরে রাফসান আমাকে পছন্দ করিস না কি”। কিন্তু সে প্রশ্ন করার কোন লক্ষণ দেখতে পাইনি রাফসান। যদিও তার প্রতি অনিতার আচরণ ছিল যথেষ্ট পজিটিভ। অনিতার ভাল রকমের বন্ধু বলতে সে একজন। তবুও গানের ভাষায় বন্ধুর চেয়ে একটু খানি বেশি হতে চেয়েছিল রাফসান। তাই নিজেই ১৪ তারিখে প্রপোজ করার জন্য গোলাপ ফুল আর পাঞ্জাবি পরে হাজির ক্যাম্পাসে। ক্যাম্পাসে ছিল এক্সট্রা ক্লাস।

কিন্তু সর্বনাশের মাথায় বাড়ি। বন্ধুদের আড্ডায় অনিতা এই কি বলল? সে রিয়াদ স্যারের প্রেমে পরেছে। আর রিয়াদ স্যার ও কিনা রাজী!!!! রিয়াদ আহমেদ রাফসানদের ভার্সিটির বিবিএ ফ্যাকাল্টির টিচার। হ্যান্ডসাম আর ড্যাশিং শব্দ টা উনার সাথে যায়। কিন্তু ব্যাটার চোখে অনিতাই পরল? আর অনিতা একজন কম্পিউটার সাইন্সের ছাত্রী হয়ে বিবিএ এর স্যার কে পছন্দ করল। যতদূর মনে পরে রাফসানের, রিয়াদ স্যার অ্যাকাউন্টিং এর ক্লাস নিয়েছিলেন এক সেমিস্টারে। তাতেই? আর সবচেয়ে বড় কথা অনিতা এই কথাটা আগে বলেনি? ওর সাথে একটু কথা বলতেই হবে...

- এই অনিতা একটু দাঁড়া
- কিরে রাফসান কই গেছিলি?
- চা খেতে
- ডাকলি না যে? আমিও যেতাম
- রিয়াদ স্যারের সাথে যাবি
- ধ্যাত এখন থেকে ক্ষেপানো শুরু করে দিয়েছিস?
- কথাটা আমাকে আগে জানালে পারতি না?
- কেন আগে জানালে কি হত?
- আগে জানানো যেত না?
- সরি দোস্ত, সত্যি সারপ্রাইজ দিতে চাইছিলাম। আর শুনেছি ভালোবাসার কথা আগে কাউকে বলা উচিত না
- কাউকে বলা উচিত না, কাউকে ভালোবাসাও উচিত না
- মানে?
- মানে কিছু না । প্রেমিক প্রেমিকা এক ইউনিভার্সিটিতে ভালই জমবে
- কচু জমবে, উনি এম এস করতে ইংল্যান্ডে যাচ্ছে।
- তুমিও যাবা এক সময়। যাই হোক বাড়ি গেলাম। পরে কথা হবে।

হাটা শুরু করল রাফসান । কিছুটা বিভ্রান্ত। গোলাপ দুটো তখন পরে রয়েছে চায়ের দোকানের বেঞ্চে। সূর্যের আলোয় গোলাপ দুটো শুকিয়ে যাচ্ছে, যে ভাবে ব্যর্থ প্রেমিকের প্রেম শুকিয়ে যায়।

প্রায় পাঁচ বছর পরের কথা। রিমো ছেলেটার মেজাজ খারাপ। মুখ দিয়ে গালি বের হয়ে যাচ্ছে অনবরত। নওরীন মেয়েটা এইটা কি করল?? রিমো বিবিএ তে পড়া ছেলে। স্পাইক দেওয়া চুল নিয়ে ডিবেট করে অসাধারণ। নওরীনের প্রতি ভাল রকমের দুর্বল। যদিও বুঝতে দেয় না। নওরীন তার ডিবেট পার্টনার। সেই নওরীন ক্লাসে বোম ফাটালো আজকে। তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। আরে একটা আধুনিক মেয়ে এত তাড়াতাড়ি কি করে বিয়ে করে। কিন্তু নওরীন কিনা খুশি! একবারো বুঝলো না তার প্রতি রিমোর দুর্বলতার কথা।
নওরীন বিয়ে করতে যাচ্ছে রাফসান নামে এক ছেলের সাথে। রাফসান দেশের সেরা প্রোগ্রামারদের একজন। বেচারা নওরীন সারাদিন পিসির সামনে পরে থাকা এক ছেলের ঘাড়ে যেয়ে পরবে। রিমো অবশ্য জানতো না রাফসান তাঁদের ভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েট কমপ্লিট করেছে।

হতাশ হয়ে বসে থাকলো রিমো। মিষ্টি টাইপের একটা মেয়েকে হারানোর বেদনা তার মনে। হিংসে হচ্ছে রাফসানের প্রতি। ইস আগে যদি নওরীন কে বলত তার ভালোবাসার কথাটা। নওরীনের সামনে দুটো গোলাপ নিয়ে যেয়ে বললেই হয়ত হত। আচ্ছা রাফসান ব্যাটা কি নওরীনের জন্য গোলাপ কিনেছিল? দুটো লাল গোলাপ।

৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Lost for words....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ সকাল ১০:৩৫

Lost for words....

ভৌগোলিক আয়তনে আমাদের দেশটা ছোট হলেও আমাদের দেশের অঞ্চলভিত্তিক ভাষার বিচিত্রিতা অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। আমরা অনেকেই আমাদের আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে ট্রল করি। ইদানিং আমাদের দেশের বস্তাপচা নাটক সিনেমায় আকছার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর মত উনার মন্ত্রীগুলোও এখন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেয়ে ব্রিজের পাশে দাঁড়ানোকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ দুপুর ২:৪০


'বাংলার পথেঘাটে এখন টাকা বেশি। পায়ের নিচে টাকা পড়ে এখন'
বন্যার্তদের পাশে না দাঁড়িয়ে বন্যার্ত এলাকার মন্ত্রী যখন মিডিয়ার সামনে এমন উদ্ভট কথাবার্তা বলে, তখন কেমন লাগে বলেন দেখি! উনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

উত্তরবঙ্গ ভ্রমণ ২০২২ : সীতাকোট বিহার

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ দুপুর ২:৫৫


ডিসেম্বর মাসে বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ থাকে দীর্ঘ দিন। বেড়ানোর জন্যও নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়টাই বেস্ট। এবার ইচ্ছে ছিলো ডিসেম্বরেই উত্তরবঙ্গ বেরাতে যাওয়ার, যদিও এই সময়টায় ঐ দিকে প্রচন্ড শীত থাকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ বিকাল ৪:০২

ছবি ব্লগ-১

মিগ-২১ প্রশিক্ষণ যুদ্ধ বিমানটি ১৯৭৩ সালে পাইলটদের প্রশিক্ষলেন জন্য অন্তর্ভুক্ত হয়।



এই বিমানটি ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এটি আকাশ তেকে ভুমিতে আক্রমনে পারদর্শী।
... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন কোন কোন সমস্যাকে মেগা-প্রজেক্ট হিসেবে প্রাইওরিটি দেয়ার দরকার?

লিখেছেন সোনাগাজী, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ রাত ৮:৩৮



পদ্মায় সেতুর প্রয়োজন ছিলো বলেই ইহা মেগা প্রজেক্টে পরিণত হয়েছিলো; যখন সরকারগুলো সেতু তৈরির জন্য মনস্হির করেনি, তখন তারা উনার বিকল্প ব্যবস্হা চালু রেখেছিলো (ফেরী ও লন্চ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×