somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অস্পষ্ট ভালোবাসা – ৪

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দুই বন্ধু দ্বাড়িয়ে আছি বটগাছের নিচে । বটগাছের ঘনপাতা ফাক দিয়ে সুর্যের রশ্নি এসে গায়ে লাগছে , আর আমরা সিগারেট খাচ্ছি । আচ্ছা সিগারেট কি কেউ খায় ? সবাইতো সিগারেটের ধোয়া ফুস্ফুসে নেয় । তারপরেও আমরা বলি সিগারেট খাচ্ছি । কেন ? অবশ্য আমি একজনকে দেখেছি যিনি সিগারেট পানিতে ভিজিয়ে খায় । একটা সিগারেট ভিজিয়ে তাতে সামান্য বিট লবন মেখে নিয়ে খাওয়ার চেস্টা করা লাগবে । হঠাৎ সাদিকের কথায় আমি সম্বিৎ হলাম ।
- দোস্ত চল কিছু খাই । পেট টা ক্ষিদায় চো চো করছে ?
- আচ্ছা দোস্ত চো চো করছে , মানে কি ?
- মানে খুব ক্ষিদা লাগছে ।
- ওহ তাই বল , আমি ভাবলাম তোর পেট থেকে চো চো আওয়াজ বের হচ্ছে । কই যাবি ?
- চল মোকসেদ মিয়ার স্পেশাল পুরি খেয়ে আসি ।
মোকসেদ মিয়া হচ্ছে আমাদের এলাকার একমাত্র ভি আই পি হোটেলের মালিক । এনার দোকানের পুরি হচ্ছে আমাদের এলাকা বিখ্যাত । সবাই পুরির সাথে ডাল দিয়ে ডালপুরি বানায় , আর ইনি বানায় ডিম পুরি । প্রত্যেকটা পুরির ভেতরে সেদ্ধ ডিমের কুসুম দিয়ে দেয় ।
দুজনে খেতে বসলাম । আমি পুরিতে একটা কামড় দিলাম । কেমন যেন চুন চুন স্বাদ পেলাম । পুরিতে ভালো করে তাকিয়ে দেখি ডিমের খোসা !
ধুর ...... এমনিতেই ডিম ভাল্লাগে না, তার উপর ডিমের খোসা । আমি বসে বসে সাদিকের খাওয়া দেখছি । আচ্ছা ওর পুরির মধ্যে ডিমের খোসা বের হয় না ?
সে বলল ,
- কিরে খাচ্ছিস না কেন ?
- এমনি মামা , ক্ষিদা নাই । তুই খা ।
সাদিক খাওয়া শেষ করলো , আমরা দুইজনেই বের হইলাম । ততক্ষনে বেলা দুপুর হয়েছে , আমরা যে যার আবাসে চলে গেলাম । বাসায় এসে খেয়ে দেয়ে দিলাম ঘুম । এভাবেই রেগুলার রুটিনে চলছিলো জীবন । আমি প্রতিদিন এর মতো সেই বটগাছের নিচে এসে কিছুক্ষন দ্বাড়াই , চড়ুই পাখি দেখি আবার চলে আসি । একদিন দেখলাম চড়ুই পাখির বাসায় কিচির মিচির বাচ্চা পাখির শব্দ ! বাহহ ! তাহলে ডিম গুলো বাজ পাখির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে । আমি খুশি মনে বাসায় এসে দেখি সাদিক বসে আছে আমার ঘরে । সে বলল ,
- মামা চল আমাদের গ্রামের বাড়ি থেকে ঘুরে আসি ।

ভার্সিটিতে শীতকালীন ছুটি, তাই কোন কাজ কর্ম ও নাই আমিও রাজি হইলাম । সাদিকের বাসা গাইবান্ধা শহর থেকে কিছুদূরে ব্রহ্মপুত্র নদীর কাছে । ওর বাড়ি থেকে নদী নাকি ৮ মিনিট হাটার পথ । আর ওর গ্রামে নাকি মাছ পৃথিবীর সবচেয়ে সস্তা আর সুস্বাদু । এইসব গল্প সাদিক ভার্সিটির ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি পর পর ই আমাকে বলেছিলো । ভার্সিটিতে আমার সাথে সবার আগে পরিচয় হয় এই সাদিকের ।
ঠিক করলাম পরশু দিন শনিবার বের হবো । পকেটে টাকার কমতি ছিলো , আম্মুর কাছে কিছু টাকা নিলাম । শনিবার সকালে বের হলাম । কেবল আমার বাসার মেইন গেটে পা দিয়েছি , দেখি রিফাত ।
- দোস্ত কই জাস ?
- এই সাদিকের বাড়ি ।
রিফাত হচ্ছে আমাদের ব্যাচের সবচেয়ে ছ্যাছড়া পোলা গুলার একটা । ভার্সিটির প্রায় ১০০ টা মেয়েকে প্রোপোজ করেছে । এর পর্যন্ত ৮ বার মেয়ের হাতে জুতাপেটার , তিন বার বড় ভাইয়ের হাতে মার , অগনিত থাপ্পড় খেয়েছে । এই ছ্যাছড়া কে সাথে নিলে কেমন হয় ?
- আচ্ছা দোস্ত তুই আমাদের সাথে যাবি ।
- ওর এলাকায় মাইয়া কেমন মামা ?
- যাহ ব্যাটা তোর খালি ঐ এক প্যাচাল ।
রিফাত হাসতে হাসতে বলল ,
- আচ্ছা ঠিক আছে তুই ৩০ মিনিট ওয়েট কর আমি জাস্ট ব্যাগ টা গুছিয়ে নিয়ে আসছি ।
ও হ্যা রিফাতের বাসা আমার বাসা থেকে উত্তরে ৫ টা বাসা পরে । ওর বাবা রাজউক এর ইঞ্জিনিয়ার , তাই পকেটে সবসময় ভালোই পয়সা কড়ি থাকে । তাকে সাথে নেওয়ার পরোক্ষ কারন এই অর্থই হতে পারে ।
বাসার গেটে আমি দ্বাড়িয়ে দ্বাড়িয়ে আমি মোবাইলে ফেসবুক গুতাচ্ছি , দেখি সেই মেয়েটা যাকে আমি সেদিন নক করেছিলাম সে রিপ্লাই দিয়েছে ।
“ কে আপনি ? ”
আমি মেসেজ দিলাম , “আমি রুপক ”
আপনি কেমন আছেন .........
মেয়েটার সাথে চ্যাটিং করতেছি , ঠিক ১৩ মিনিটের মাথায় আসলো সাদিক , আর ৪৯ মিনিটে রিফাত । তিন জনে রওনা হলাম কমলাপুর রেল স্টেশন । ( ভাবছি আর দু তিন টা পার্ট লিখে গল্পটা সমাপ্ত করে দিবো )
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:৫৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×