somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করায় হত্যা করা হয়েছিল ওমর ফারুককে ।

২৪ শে মার্চ, ২০১৫ রাত ১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


৭১-এর উত্তাল মার্চের ২৩ তারিখে পিরোজপুরের আকাশে স্বাধীন বাংলার পতাকা প্রথম উত্তোলন করেন তৎকালীন মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহরাওয়ার্দী কলেজের বিকম শ্রেণীর ছাত্র ওমর ফারুক । আর এ জন্যই লোহার রডে পাকিস্তানি পতাকা বেঁধে তার মাথায় ঢুকিয়ে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করে পাকস্তানি বাহিনী ।
২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে গাঢ় সবুজের জমিনের ওপর টকটকে লাল সূর্যের মধ্যে বাংলাদেশের সোনালী মানচিত্র অঙ্কিত একটি পতাকা নিয়ে পিরোজপুরে আসেন ওমর ফারুক । শহরের টাউন ক্লাব ময়দানের শহীদ মিনারের পাদদেশে ছাত্র জনতার অংশগ্রহণে এক সমাবেশে ২৩ মার্চ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ওমর ফারুক প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন । সকাল ১১টার মধ্যে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মাঠটি । এ সময় ছাত্রলীগ নেতা ওমর ফারুক এক জ্বালাময়ী বক্তব্য রেখে পতাকা উত্তোলন করার সময় জয়বাংলা সেস্নাগানে সমগ্র এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে ।

সে সময়ের ছাত্রলীগের নেতা সাবেক জেলা জজ ও বর্তমানে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এসইসি) সদস্য আবদুস সালাম সিকদার সেদিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন হাজারও ছাত্র জনতার জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশকে স্বাধীন কর তোমার আমার ঠিকানা,পদ্মা মেঘনা যমুনা সেস্নাগানে সমগ্র এলাকা প্রকম্পিত করে তোলে। এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শহরের সরকারি অফিস আদালতে পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে পুড়িয়ে দেয় ।

২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করলে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ । এ সময় ওমর ফারুক এলাকার ছাত্র-যুবকদের সংগঠিত করে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেন । ৪ মে পিরোজপুর শহর দখল করে নেয় পাক সেনারা । ফারুক তখন পিরোজুপর মহকুমার স্বরূপকাঠীর আটঘর-কুড়িয়ানার পেয়ারা বাগানে থেকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন । এক পর্যায় ২৯ মে ৭১' ওমর ফারুক স্বরূপকাঠীর বিলাঞ্চল হয়ে ভারত যাবার প্রস্তুতিকালে পিরোজপুরের পুলিশ সদস্য হানিফ তাকে চিনে ফেলে ও আলবদরদের সহায়তায় আটক করে বরিশালে পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে তুলে দেয় । ৪ জুন বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে ১৪ গোডাউন ঘাটের বধ্যভূমিতে নিয়ে ৩২ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের রক্ত পিপাসু নরপিচাশ কর্নেল আতিকের নির্দেশে সহযোদ্ধাদের নাম ও অবস্থান জানার জন্য অমানবিক নির্যাতন করা হয় । ওই কক্ষে আটক থাকা এক মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জানান, ফারুকের সঙ্গে থাকা ব্যাগের ভিতর তল্লাশি চালিয়ে ৭টি বাংলাদেশি পতাকা পেয়েছিল রাজাকাররা । আবদুল হক জানান, নির্যাতনের সময় তাকে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলতে বলা হয় । যতবার তাকে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলতে বলা হয় ততবার সে তার শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে জয় বাংলা বলে চিৎকার দেয় । এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কর্নেল আতিকের নির্দেশে একটি লোহার রডের এক মাথায় সেই বাংলাদেশি একটি পতাকা বেঁধে অন্য অংশটি একটি হাতুরি দিয়ে টাকিয়ে টাকিয়ে ওমর ফারুকের মাথায় ঢুকিয়ে তাকে হত্যা করা হয় । এক সময় শরীরের সব রক্ত ঝরে গেলে তার কণ্ঠ অস্ফুট হয়ে আসে এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আবদুল হক জানিয়ে ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের শিক্ষা দিতে তিনদিন গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছিল পাক সেনারা । পরে তার মৃতদেহটি কীর্তনখোলার উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে ছুড়ে ফেলে দেয় পাক হায়েনারা ।

তার প্রিয়জনরা আজও এই মৃতদেহের সন্ধান পায়নি। শহীদ ওমর ফারুকের অনুজ মুক্তিযোদ্ধা মো. লুৎফর রহমান বাবুল বলেন, আমি ওমর ফারুকের ভাই- এ গর্বে আমি গর্বিত। স্বাধীনতার পরে পিরোজপুর শহরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির নামকরণ করা হয়েছে শহীদ ওমর ফারুক সড়ক নামে। ওমর ফারুকের ছোট বোন বিশিষ্ট নারী নেত্রী সালমা রহমান হ্যাপী বলেন, পুত্র শোকে শোকাতুর পিতা সৈয়দুর রহমান শরীফ স্বাধীনতার বেশ কয়েক বছর পর ২০০৯ সালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বঙ্গবন্ধুর স্ব-হস্তে স্বাক্ষরিত সমবেদনার একটি চিঠি ওমর ফারুকের মাতা সংরক্ষণ করে রেখেছেন। প্রায় অন্ধ মা কুলসুম বেগম এখনও রাস্তার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন এই বুঝি বড় খোকা ফিরল। এখনই বলবে, 'মা ভাত দেও, খুব ক্ষুদা লেগেছে। তাইতো তার নির্দেশে এখনও প্রতিদিন রান্নার সময় দু'মুঠো চাল বেশি দিতে বলেন, আর রাতে যেন বাসার গেট বন্ধ করা না হয়। অনেক দিনপর খোকা ফিরে এসে গেট বন্ধ পেলে ডাকাডাকি করে ফিরে যেতে পারে তাই।তর্থ্য
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×