somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৃত্যুর পরে গল্প

২৯ শে মে, ২০১৫ রাত ১২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যতদূর মনে পরে ওটা ঋতুরাজ বসন্তকাল ছিল । কখন হালকা কখন ফুরফুরে বাতাস শরীরের সাথে এসে বাড়ি খেত । গাছে কচি পাতা গজানো শেষ হয়নি । খুব ভোরবেলা কোকিলের সুমধুর কুহু কুহু ডাকে ঘুম ভাঙত । দক্ষিনা বাতাস । চারদিকে পলাশ শিমুল কৃঞ্চচূড়া বেলি জুঁই চামেলী নানা রকমের ফুলের ঘ্রাণ ছিল । দু একটি আম গাছে সবে মকুল লেগেছে ।
এমনি এক বিকেলে বারিন্দায় বসে আমাদের সামনের বাড়ির পারুল আপার ছেলে জয়ের সাথে বসে গল্প করতেছিলাম ।
হঠাৎ পাপনের শব্দ এল কানে । একটু উকি দিয়ে দেখি বাড়ির মেন দরজায় দাড়ানো পাপন । পাপনের ওপরে গম্ভির মুখে বসে আসে বন্ধু সজল । এক পা দু পা করে এগিয়ে গেলাম কিরে সজল এ অসময় তুই ? সজল বললো হ অসময় আমি আইমু না কি তোর মরা দাদা আইব কবর থেইকা । তা কেন আইবরে তা সজল বাড়ির দরজায় দাড়িয়ে সব কথা বলবি না বাড়ির ভিতরে আসবি ? না বাড়ির ভিতরে যাবো না শোন রায়হান তোকে আমার সাথে সিলেট যেতে হবে আজ যাবি ? আমি বললাম কেনরে সিলেট কেন ? সজল বললো সিলেট মাজারে যাবো ।
সে তো ভালো কথা সজল । তা মাজারেই যাবি যখন তাহলে ভাবীকে সঙ্গে নিলেই পারিছ । নারে তোর ভাবী ওর মামার বাড়ি গেছে ওর মামাতো বোনের বিয়ে । কথা ছিল রাস্তা থেকে তোর ভাবীকে নিয়ে যাবো কিন্ত এখন তোর ভাবীকে ফোন দেওয়ার পরে সে বলছে এ যাত্রায় নাকি সে যেতে পারবে না । কেনরে সজল ভাবীর সাথে কি আবার ঝগড়া করেছিছ ? সজল বললো রায়হান তুইতো সবই জানিছ বিয়ের কাবিন করেছি সবে মাত্র একবছর হয়েছে । এর মধ্যে তুই আর আমি বেশ কয়েকবার অনেক জায়গায় গুরে বেরিয়েছি । তোর ভাবীকে বললে সে কখন কোথাও আমার সাথে যেতে রাজি না । তাকে জিজ্ঞাসা করলে বলে তার নাকি আমার সাথে গুরে বেরাতে ভালো লাগে না । তা ছাড়াও সেদিন তোর ভাবীকে খুব জোড়াল ভাবে বলাতে সে বলেছে যতদিন তার বাপ মা তাকে আমার হাতে উঠিয়ে না দিবে ততদিন সে আমার সাথে কোথাও যাবে না । আমিও চিন্তে করেছি এখন থেকে আর তোর ভাবীকে না এখন থেকে আমার যেখানে মন চাইবে সেখানে আমি একা একাই চলে যাবো । এখন তুই বল যাবি নাকি ।
যাবো তা কি ভাবে যাবি । কি ভাবে যাবি মানে কেন প্রতিবারই তো পাপনে যাই আজ পাপনেই যাবো । পাপনে যাবি ঠিক আছে কিন্ত কথা হল খুব আস্তে চালাতে হবে । তুই তো আবার পাপনে উঠলে মনে হয় পঙ্খীরাজের মত চালাছ । ঠিক আছে এবার আর পাপনকে উরাধরা চালাবো না ।
তুই তাহলে রাত দশটায় রেডী হয়ে থাকবি । আমি চলে আসবো সময় মত ।
যাত্রা পথে প্রথমে যাত্রাবাড়ির চেক পোস্ট পড়লো আশ্চর্য ব্যাপার হলো আমাদের পিঁছনের বাইক আটকালো কিন্ত আমাদের বাইক মনে হয় ওদের চোখেই পড়লো না । পরে কাঁচপুর চেক পোস্ট সেখানেও একই অবস্থা ।
কাঁচপুর পার হওয়ার পরে কিছু দূর যাওয়ার পরে পাপনের অর্থাৎ বাইকের চেইন পড়ে গেল । ওখান থেকে পাপনের চেইন ঠিক করে পরে আবার পাপনে চরলাম পাপান ব ব করে দু তিনটি ডাক ছেড়ে সে ছুঁটলো তখন রাত দেরটা বাজে আমরা ততখনে হবিগঞ্জ পার হয়ে কিছু দূরে একটি বাজারে দাড়ালাম । ওখানে একটি চায়ের দোকানে সামনে পাপনকে রেখে আমরা দুজনে নেমে চা নাস্তা করলাম ।
দোকানের মালিককে জিজ্ঞাসা করলাম ওখান থেকে সিলেট যেতে আর কত সময় লাগবে ? উনি বললো আপনেরা কাছাকাছি এসে পড়ছেন আর বেশিদূর নেই । তো আপনেরা সিলেট যাচ্ছেন কোথায় ? আমরা বললাম মাজারে ।
আবার শুরু কিছুদূর যেতে না যেতেই হঠাৎ ফাকা রাস্তা চোখে খুব ভারি পাওয়ারে লাইটের আলো এসে পড়লো এসে পড়লো শুধু কান পযন্ত বড় ধরণের একটি শব্দ শুনেছিলাম ।
দুজনে অজ্ঞান হয়ে গেলাম কিছুক্ষন পরে জ্ঞ্যান ফিরল আমার । আমি রাস্তার এক পাশে পরে ছিলাম অপর পাশে দেখি সজল পরে ছিল ।
আমি প্রথমে উঠে দাড়ালাম । যতদূর মনে হলো কিছুক্ষন আগে বোধয় ওখানে একটি বাইকে দুট যুবক ছেলে রোড দূরঘটনায় মারা গেছে ।
আচ্ছা সজল এতক্ষনতো আমার সাথে ছিল ও গেল কোথায় ? হঠাৎ আমার চোখ যেয়ে পড়লো ঐ তো সজল ওখানে সে অনেক চেষ্টা করছে পাপনকে তুলে উঠানোর জন্য । কোন ভাবেই সে
পাপনকে তুলতে পারছেনা । আমি দৌড়ে গেলাম ওর সাথে সহযোগিতার জন্য । না পাপনের তেমন কিছু হয় নাই শুধু হেড লাইত আর সামন্য কিছু জায়গায় সমস্যা হয়েছে ওগুলো জালায় করে নিলে চলবে ।
কিন্ত এত রাত এখন গ্যারেজ পাবো কোথায় ?
যাই হোক ওখানে দাড়িয়ে দুজনে মিলে হাত বাড়িয়ে বেশ কয়েকটা গাড়ি থামানোর চেষ্টা করলাম না কোন কাজ হলো না
সব গাড়ি আমদের ওপর দিয়ে চলে যায় কেও গাড়ি থামায় না ।
কিছুক্ষন পরে দেখি একটি পুলিশের পিকাপ এসে ঐ যে যুবক দুটিনা দূরঘটনায় মারা গেছে তাদের লাশ দুটি আর তারা যে বাইকটিতে ছিল তাকে উঠিয়ে নিয়ে চলে গেল । আমরা ওখানেই পাথরের মূর্ত্তির মত দাড়িয়ে রইলাম ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টারজান থেকে আইনস্টাইন

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৭



১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাস। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা।
প্রচন্ড শীতে এক বালক রাস্তা দিয়ে একাএকা হাঁটছে। বালক জানে না- তার বাবা কে, মা কে? ক্ষুধা পেলে একটা খাবার দোকানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭


এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

একটা সময় ছিল- শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করলেই কারও চোখে ক্ষোভ, কারও মনে শ্রদ্ধা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার দৃষ্টিতে - 'ব্লগার ওমর খাই-আম' বনাম 'ব্লগার সত্যপথিক শাইয়্যান'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩২



চ্যাটজিপিটিকে আমার এবং ওমর খাই-আমের ব্লগপেইজের লিংক দিয়ে বলেছিলাম মূল্যায়ন করতে। সে আমাদের রেটিং দিয়েছে এরকম -
সত্যপথিক শাইয়্যানঃ 8.0/10, আর ব্লগার ওমর খাই-আমঃ 7.8/10!!!

বিস্তারিত মূল্যায়ন শেষে সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজগত বিষয়ে আমার গবেষণায় এআই সহায়তা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১





কোন কিছু না থাকা শূন্য অসীম ছিল। কারণ তাতে তাকে সীমা দেওয়ার মত কিছুই ছিল না। সেই শূন্যে কোন কিছু হতে কোন বাধা ছিল না। কে বাধা দিবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিসের রিকন্সিলিয়েশন‼️কার সাথে কে চায় এই রিকন্সিলিয়েশন⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০



বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে "রিকন্সিলিয়েশন" বা সমঝোতা-ভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে বিতর্কটা অনেক পুরনো, এবং প্রশ্নটা সেই বিতর্কের মূল জায়গায়।

এটা কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×