





বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে "রিকন্সিলিয়েশন" বা সমঝোতা-ভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে বিতর্কটা অনেক পুরনো, এবং প্রশ্নটা সেই বিতর্কের মূল জায়গায়।
এটা কেন এত জটিল, সেটা দুই দিক থেকে দেখা যায়:
রিকন্সিলিয়েশন বা ক্ষমা-সমঝোতার পক্ষে যে যুক্তি দেওয়া হয়:
দেশে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন কমিয়ে স্থিতিশীলতা আনা
দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রিকন্সিলিয়েশন কমিশনের মতো মডেল - যেখানে সত্য স্বীকারের বিনিময়ে ক্ষমা
সব পক্ষকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাখলে সহিংসতা কমে, অর্থনীতি সচল থাকে
এই মতের অনুসারীরা বলেন, বিচার ও রিকন্সিলিয়েশন একসাথে চলতে পারে
প্রথম দাবির পক্ষে যে যুক্তি দেওয়া হয়:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, সম্পদ ধ্বংস - এগুলো সাধারণ রাজনৈতিক অপরাধ নয়, এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ
ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার না দিয়ে সমঝোতা করলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়
স্বাধীনতার মূলনীতি - জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা - যারা অস্বীকার করে, তাদের রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়া সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী
অনেকের মতে, আগে সত্য উদঘাটন, ক্ষতিপূরণ ও দায়ীদের বিচার, তার পরেই সমাজে পুনর্মিলনের প্রশ্ন আসতে পারে
বাংলাদেশের আইনগত বাস্তবতা:
সংবিধানে যুদ্ধাপরাধ ও স্বাধীনতা বিরোধিতার বিচারের বিধান আছে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার হয়েছে
রাজনৈতিক অধিকার নিষিদ্ধ করার মতো বিধান করতে হলে সেটা সংবিধান, আইন ও আদালতের পরীক্ষায় টিকতে হয় - এটা শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে হয় না
যে "মেহনতি মানুষের উপর অত্যাচারের বিচার" এর কথা বলছেন, বাংলাদেশের বিচার-আন্দোলনের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে জোরালো দাবি হিসেবে থেকেছে - বিচার ছাড়া রিকন্সিলিয়েশন টেকসই হয় না।
আপনার অবস্থান থেকে লেখাটি তৈরি করে দিলাম:
---
রিকন্সিলিয়েশন, ইন্ডেমনিটির আরেকটি রূপ মাত্র।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যেমন ইন্ডেমনিটি অধ্যাদেশ দিয়ে খুনিদের বিচার বন্ধ করা হয়েছিল, আজ বিচার না করে রিকন্সিলিয়েশনের নামে একই কাজ করার চেষ্টা চলছে। নাম পাল্টেছে, চেতনা একই - অপরাধীদের বাঁচাও।
আমি মনে করি, বিচার ছাড়া রিকন্সিলিয়েশন একটি প্রতারণা।
বাংলাদেশের মাটিতে যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, যে মা-বোন ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা হয়েছে, যে মেহনতি মানুষের রক্তে রাজপথ ভেসেছে - তার বিচার না করে কিসের সমঝোতা?
যারা এই বাংলার স্বাধীনতাই মানেনি, যারা পাকিস্তানের পক্ষে দালালি করেছে, যারা আজও স্বাধীনতাকে কটাক্ষ করে, তাদের আবার রাজনৈতিক অধিকার কিসের? স্বাধীন দেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার থাকতে পারে না। এই বিধান সংবিধানে সংযুক্ত করা অপরিহার্য এবং সময়ের দাবি।
ইন্ডেমনিটি যেমন বাঙালি মেনে নেয়নি, রিকন্সিলিয়েশনের নামে এই নতুন ইন্ডেমনিটিও বাঙালি মেনে নেবে না।
আগে বিচার, আগে সত্যের স্বীকারোক্তি, আগে ভুক্তভোগীর কাছে ক্ষমা - তারপর অন্য কথা। বিচারহীন রিকন্সিলিয়েশন মানে শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




