somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আমি মিন্টু
এই ঘরটির জন্য আমরা কোন স্পেশাল ক্যারেক্টার / ইমোটিকন গ্রহন করছি না।nশুধুমাত্র সংখ্যা ও যে কোন সাধারন ক্যারেক্টার ব্যবহার করুন।n

মহররম বা পবিত্র আশুরা নিয়ে কিছু কথা ।

২৪ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মহররম হল আরবী বা ইসলামিক বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস । চারটি পবিত্রতম মাসের মধ্যে এটিও একটি মাস । মহররম শব্দটি আরবী যার অর্থ হল পবিত্র সম্মানিত । প্রাচীনকাল থেকে মহররম মাস হল পবিত্র হিসাবে গননা । মহররমের ১০ তারিখ বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন দিন যাকে আশুরা বলা হয়ে থাকে। মহররম মাসের পরবর্তি মাসের নাম সফর ।
মহররম বা আশুরা হল ইসলামের একটি বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস । যা প্রতি হিজরী চান্দ্রবর্ষের মহররম মাসের দশম দিবসে পালিত হয়ে থাকে । আরবীতে আশুরা মানে ১০ আর সে কারণে এই দিনটিকে আশুরা বলা হয় । মহররম মাসের ৯ তারিখের দিবাগত রাত থেকে আশুরা উদযাপন শুরু হয় । ইসলামের ইতিহাসে এই দিনটিকে বিশেষ তাৎপর্যমণ্ডিত কারণ বহু ঐতিহাসিক ঘটনা এই তারিখে ঘটেছিল । শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে এই দিনটি বিশেষ মর্যাদাময় কেননা এই দিনে মুহাম্মদ (সাঃ) এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রাঃ) ইসলামের তৎকালীন শাসনকর্তা এজিদের সৈন্য বাহিনীর হাতে কারবালার প্রান্তরে শহীদ হন । আশুরার দিনের ঘটনা বলে শেষ করার মত নয় ।মহররম মাসের দশম দিন ইসলামে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন একটি দিন কারণ এই দিনে ইসলাম ধর্মমতে অনেক ঘটনার অবতারণা হয়েছিল । বিভিন্ন ঘটনাবলীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এই দিনে প্রথম মানব আদি পিতা হযরত আদম আঃ কে সৃষ্টি করেন বআল্লাহ । হযরত আদম আঃ কে এদিনেই স্বর্গ অথবা বেহেশতে স্থান দেওয়া হয়েছিল । এবং পরবর্তীতে এই দিনেই তাকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে আল্লাহ আদম আঃ কে প্রতিনিধি মনোনীত করেছিলেন । হযরত নূহ আঃ এর সময়কালে এই দিনে মহাপ্লাবনও হয় । হযরত ইব্রাহীম আঃ পৃথবীতে আগমন করেন এই দিনে ।এবং হযরত মুসা ও সমস্ত বাহিনী ফেরাউনের কবল থেকে উদ্ধার পান এই একই দিনে । হযরত মুসা আঃ সমসাময়িক ফেরাউনকে আল্লাহ এই দিনে নীল নদের পানিতে ডুবিয়ে মারেন । হযরত ইউনুছ আঃ মাছের পেট থেকে মুক্তি পান এই মহররমের বা আশুরার দিনে ।হযরত আইয়ূব আঃ রোগ মুক্তি পান এই দিনে । খ্রিস্টধর্মমতে যিশু এবং মুসলীম বিশ্বের হযরত ঈসা আঃ এই দিনে জন্ম নেন এবং পরবর্তিতে তাকে সশরীরে উর্ধ্বাকাশে উঠিয়ে নেওয়া হয় এই একই দিনে । হযরত মুহাম্মদ সঃ এর দৌহিত্র হাসান আঃ এই দিন কারবালার ময়দানে ইয়েজিদের হাতে মৃত্যুবরণ করেন । সাধারনত মতামত বা ধারণায় আশুরা মূলত একটি শোকাবহ দিন কেননা এদিন হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর দৌহিত্র হুসাইন রাঃ কারবালার ময়দানে নির্মমভাবে শহীদ হয়েছিলেন । তাছাড়াও হাসিদে বর্ণিত আছে যে এই তারিখেই কেয়ামত সংঘটিত হবে ।


আশুরার ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথাঃ

হিজরী ৬০ সনে এজিদ বিন মুয়াবিয়া পিতার মৃত্যুর পর নিজেকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা হিসাবে ঘোষণা করেন । সে প্রকৃত মুসলমান ছিল না সে ছিল মোনাফেক । সে এমনই পথভ্রষ্ট ছিল যে সে মদ্যপানকে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন । অধিকন্তু সে একই সঙ্গে দুই সহোদরাকে বিয়ে করাকেও বৈধ ঘোষণা করেছিলেন । শাসক হিসাবে সে ছিল স্বৈরাচারী এবং অত্যাচারী । ইমাম হুসাইন (রাঃ) এজিদের আনুগত্য করতে অস্বীকৃত হন এবং ইসলামের সংস্কারের লক্ষ্যে মদীনা ছেড়ে মক্কা চলে আসেন । উল্লেখযোগ্য যে উমাইয়া শাসনামলে ইসলাম পথভ্রষ্ট হয়ে পড়েছিলেন । মক্কা থেকে তিনি কুফার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে । শেষ পর্যন্ত তিনিই কারবালার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন । এ সময় উমর ইবনে সাদ আবি ওক্কাসের নেতৃত্বে চার হাজার সৈন্য কারবালায় প্রবেশ করেন । কয়েক ঘণ্টা পর শিমার ইবনে জিলজুশান মুরাদির নেতৃত্বে আরো বহু নতুন সৈন্য এসে তার সাথে যোগ দেন ৷ কারবালায় দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেন । নানা নাটকীয় ঘটনার ভিতর দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় । এই অসম যুদ্ধে ইমাম হুসাইন (রাঃ) এবং তার ৭২ জন সঙ্গী শাহাদৎ বরণ করেন । শিমার ইবনে জিলজুশান মুরাদি নিজে কণ্ঠদেশে ছুরি চালিয়ে ইমাম হুসাইন (রাঃ) হত্যা করেন । সেদিন ছিল হিজরী ৬১ সনের ১০ মহররম ।


তথ্য ইন্টারনেট গুরে সংগ্রহ
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ২:২৮
৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×