
মহররম হল আরবী বা ইসলামিক বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস । চারটি পবিত্রতম মাসের মধ্যে এটিও একটি মাস । মহররম শব্দটি আরবী যার অর্থ হল পবিত্র সম্মানিত । প্রাচীনকাল থেকে মহররম মাস হল পবিত্র হিসাবে গননা । মহররমের ১০ তারিখ বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন দিন যাকে আশুরা বলা হয়ে থাকে। মহররম মাসের পরবর্তি মাসের নাম সফর ।
মহররম বা আশুরা হল ইসলামের একটি বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস । যা প্রতি হিজরী চান্দ্রবর্ষের মহররম মাসের দশম দিবসে পালিত হয়ে থাকে । আরবীতে আশুরা মানে ১০ আর সে কারণে এই দিনটিকে আশুরা বলা হয় । মহররম মাসের ৯ তারিখের দিবাগত রাত থেকে আশুরা উদযাপন শুরু হয় । ইসলামের ইতিহাসে এই দিনটিকে বিশেষ তাৎপর্যমণ্ডিত কারণ বহু ঐতিহাসিক ঘটনা এই তারিখে ঘটেছিল । শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে এই দিনটি বিশেষ মর্যাদাময় কেননা এই দিনে মুহাম্মদ (সাঃ) এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রাঃ) ইসলামের তৎকালীন শাসনকর্তা এজিদের সৈন্য বাহিনীর হাতে কারবালার প্রান্তরে শহীদ হন । আশুরার দিনের ঘটনা বলে শেষ করার মত নয় ।মহররম মাসের দশম দিন ইসলামে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন একটি দিন কারণ এই দিনে ইসলাম ধর্মমতে অনেক ঘটনার অবতারণা হয়েছিল । বিভিন্ন ঘটনাবলীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এই দিনে প্রথম মানব আদি পিতা হযরত আদম আঃ কে সৃষ্টি করেন বআল্লাহ । হযরত আদম আঃ কে এদিনেই স্বর্গ অথবা বেহেশতে স্থান দেওয়া হয়েছিল । এবং পরবর্তীতে এই দিনেই তাকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে আল্লাহ আদম আঃ কে প্রতিনিধি মনোনীত করেছিলেন । হযরত নূহ আঃ এর সময়কালে এই দিনে মহাপ্লাবনও হয় । হযরত ইব্রাহীম আঃ পৃথবীতে আগমন করেন এই দিনে ।এবং হযরত মুসা ও সমস্ত বাহিনী ফেরাউনের কবল থেকে উদ্ধার পান এই একই দিনে । হযরত মুসা আঃ সমসাময়িক ফেরাউনকে আল্লাহ এই দিনে নীল নদের পানিতে ডুবিয়ে মারেন । হযরত ইউনুছ আঃ মাছের পেট থেকে মুক্তি পান এই মহররমের বা আশুরার দিনে ।হযরত আইয়ূব আঃ রোগ মুক্তি পান এই দিনে । খ্রিস্টধর্মমতে যিশু এবং মুসলীম বিশ্বের হযরত ঈসা আঃ এই দিনে জন্ম নেন এবং পরবর্তিতে তাকে সশরীরে উর্ধ্বাকাশে উঠিয়ে নেওয়া হয় এই একই দিনে । হযরত মুহাম্মদ সঃ এর দৌহিত্র হাসান আঃ এই দিন কারবালার ময়দানে ইয়েজিদের হাতে মৃত্যুবরণ করেন । সাধারনত মতামত বা ধারণায় আশুরা মূলত একটি শোকাবহ দিন কেননা এদিন হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর দৌহিত্র হুসাইন রাঃ কারবালার ময়দানে নির্মমভাবে শহীদ হয়েছিলেন । তাছাড়াও হাসিদে বর্ণিত আছে যে এই তারিখেই কেয়ামত সংঘটিত হবে ।
আশুরার ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথাঃ
হিজরী ৬০ সনে এজিদ বিন মুয়াবিয়া পিতার মৃত্যুর পর নিজেকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা হিসাবে ঘোষণা করেন । সে প্রকৃত মুসলমান ছিল না সে ছিল মোনাফেক । সে এমনই পথভ্রষ্ট ছিল যে সে মদ্যপানকে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন । অধিকন্তু সে একই সঙ্গে দুই সহোদরাকে বিয়ে করাকেও বৈধ ঘোষণা করেছিলেন । শাসক হিসাবে সে ছিল স্বৈরাচারী এবং অত্যাচারী । ইমাম হুসাইন (রাঃ) এজিদের আনুগত্য করতে অস্বীকৃত হন এবং ইসলামের সংস্কারের লক্ষ্যে মদীনা ছেড়ে মক্কা চলে আসেন । উল্লেখযোগ্য যে উমাইয়া শাসনামলে ইসলাম পথভ্রষ্ট হয়ে পড়েছিলেন । মক্কা থেকে তিনি কুফার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে । শেষ পর্যন্ত তিনিই কারবালার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন । এ সময় উমর ইবনে সাদ আবি ওক্কাসের নেতৃত্বে চার হাজার সৈন্য কারবালায় প্রবেশ করেন । কয়েক ঘণ্টা পর শিমার ইবনে জিলজুশান মুরাদির নেতৃত্বে আরো বহু নতুন সৈন্য এসে তার সাথে যোগ দেন ৷ কারবালায় দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেন । নানা নাটকীয় ঘটনার ভিতর দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় । এই অসম যুদ্ধে ইমাম হুসাইন (রাঃ) এবং তার ৭২ জন সঙ্গী শাহাদৎ বরণ করেন । শিমার ইবনে জিলজুশান মুরাদি নিজে কণ্ঠদেশে ছুরি চালিয়ে ইমাম হুসাইন (রাঃ) হত্যা করেন । সেদিন ছিল হিজরী ৬১ সনের ১০ মহররম ।
তথ্য ইন্টারনেট গুরে সংগ্রহ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


