somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আমি মিন্টু
এই ঘরটির জন্য আমরা কোন স্পেশাল ক্যারেক্টার / ইমোটিকন গ্রহন করছি না।nশুধুমাত্র সংখ্যা ও যে কোন সাধারন ক্যারেক্টার ব্যবহার করুন।n

পানী গ্রাম এর একটি (ছবি ব্লগ)

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রথমেই বলে নিচ্ছি পোস্টটি সংবাদ পত্র থেকে তুলে ধরা হয়েছে । সংবাদ পত্রটিতে যে ভাবে পোস্টটি দেয়া হয়েছে ঠিক আমিও সে ভাবেই আমিও তুলে দিলাম আপনাদের মাঝে । সবগুলো ছবি থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে জেমস বন্ড আইল্যান্ড ভ্রমণের ছবি । পোস্টদাতার গ্রামের কথা মনে পড়লেই তার মনে ভেসে উঠে মেঠো পথ, সবুজ ফসলের মাঠ, আম কাঁঠালের বাগান অথবা সুপারি কিংবা নারিকেল গাছের সারি। কিন্তু যে গ্রামের কথা বর্ণনা করতে যাচ্ছে সেটিতে এগুলোর কোনটিই নেই।লেখকের মতে তিনি থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে জেমস বন্ড আইল্যান্ড ভ্রমণে গিয়েছিলেন তারা চার সহকর্মী। সকালেই যাত্রা শুরু করেন তরা থাই ড্রাইভার শত কিলোমিটার গতিতে ঘণ্টা খানেক গাড়ি হাঁকিয়ে যখন ফুকেটের উত্তরে ফাং নাগা শহরে বানরের গুহায় নিয়ে যায় তখন বেলা পৌনে বারোটা বাঁজে। সেখান থেকে তাদের সাথে যোগ দিলেন আরও অনেকে বিভিন্ন দেশের লোকজন। ঘুরে দেখলেন জেমস বন্ড এবং খাই আইল্যান্ড। ভ্রমণ যখন শেষ তখন সূর্য মাথার উপর ক্ষুধায় সবার পেট চোঁ চোঁ করা শুরু করেছে।


তাদের ট্যুর গাইড মেয়েটির নাম ছিল লিনা। বয়স কত হবে আর তেইশ কিং বা চব্বিশ। তার বয়সী অনেককেই ওখানে গাইড হিসেবেই কাজ করছেন। ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে লিনা জানালেন আমাদের লাঞ্চের আয়োজন করা হয়েছে কাছের একটি গ্রামে। আমাদের বহনকারী নৌকাটি ছুটে চললো সেদিকেই।


পাথরের পাহাড়গুলোর ফাঁক দিয়ে এগিয়ে চলছে শক্তিশালী ইঞ্জিনচালিত নৌকা । পাশ কাটিয়ে পেছনে সরে যাচ্ছে গেওয়া আর গড়ান গাছে ভরা ম্যানগ্রোভ জঙ্গল। অনেকেই ক্যামেরা কিংবা মোবাইলের ক্লিক করে ছবি তুলে নিচ্ছে সেগুলোর সৃত্বি হিসেবে। কেউবা আবার সেলফি তোলায় নিমগ্ন বা ব্যস্ত হয়ে পরছেন ।


পাহাড় আর বনের ফাঁক গলে নৌকাটি বের হতেই লেখকদের চোখ আটকে গেলো পাথরের পাহাড়ের নিচে। পানিতে ভাসছে কয়েকশ ঘরবাড়ি। অনেক দূর থেকে দেখা যায় মসজিদের সোনালী রংয়ের গম্বুজগুলো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের দেখলে মনে হয় পাথরের পাহাড়টি এই গ্রামটিকে নিজের সন্তানের মত কোলে নিয়ে আগলে বসে আছে । যেন সমুদ্রের ঢেউ কিংবা ঝড় ঝাপটা এর গায়ে কোন ভাবেই না লাগতে পারে ।


লিনা জানালেন আমরা চলে এসেছি।সেই গ্রামটির নাম ছিল কোহ পানী স্থানীয়ভাবে সেটিকে পানী গ্রাম বলেই ডাকা হয়। লেখকদের নামটি শুনে বেশ ভালো লাগলো। মনে মনে তারা বললেন বাহ বেশ তো পানির উপর পানী (PANYEE) গ্রাম। তাদের নৌকাটি ভিড়লো ককশিটের উপর ভাসমান এক ঘাটে। যেটি একটি রেস্টুরেন্টের সঙ্গে লাগোয়া। সেখানে সবাই পা ফেলতেই সেটি দুলে উঠলো। রেস্টুরেন্টে গিয়েতো চক্ষু ছানাবড়া।


থরে থরে চেয়ার টেবিল বসানো। সেখানে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন রকমের খাবার। এক ফাকে গাইড লিনা জানিয়ে দিলেন খাওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ের পর পাঁচ মিনিটের বেশী নৌকা কারোর জন্য অপেক্ষা করবে না। যে মিস করবে তাকে পরের দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এখানকার রেস্টুরেন্টগুলোতে পাওয়া যায় সমুদ্র থেকে ধরে আনা তাজা মাছের খাবার। সকলেই গোগ্রাসে খেয়ে যখন লাঞ্চ শেষ করলেন তখন হাতে লিনার দেয়া সময়ের আরও কিছুক্ষণ বাকি রয়েছে। তাই চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক কিছু সময় গ্রামটিতে।


গ্রামটি থাইল্যান্ডের ফাং নাগা প্রদেশে। মুসলমান প্ররধান জেলেদের গ্রাম। পানিতে বড় বড় পিলার আর খুঁটি গেঁড়ে তার উপর পাটাতন বিছিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি করা হয়েছে। হাজার দুয়েক মানুষের বাস সেই গ্রামে। তাদের জীবিকা সমুদ্র থেকে মৎস আহরণ। গ্রামটির গোড়া পত্তন হয়েছিলো অষ্টাদশ শতাব্দির শেষের দিকে মালয়েশিয়ার জেলেদের দ্বারা।


সেই গ্রামে একটি স্কুলে রয়েছে তবে সেটি অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার লেখানে ছেলে মেয়ে উভয়েই একসাথে পড়েন। ক্লাশগুলো সকালের দিকেই হয় যাতে স্কুল শেষ করে ছেলেরা মাছ ধরায় আর মেয়েরা দোকান পাট কিংবা রেস্টুরেন্ট সামলাতে পারেন। আনুষ্ঠানিক কিংবা উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহীদের পাড়ি জমাতে হয়ে ফাং নাগা কিংবা ফুকেটে। প্রতিকূল সামুদ্রিক পরিবেশের কারণে সন্তানরা বড় হলে তাদের পরামর্শ দেওয়া হয় অন্যত্র চলে যেতে। কিন্তু অনেকেই থেকে যায় জন্মভূমির টানে সমুদ্রের টানে।


আর গ্রামের সেই সোনালী গম্বুজওয়ালা মসজিদটি নামাযের পাশাপাশি জেলে সম্প্রদায়ের মিলনস্থলেও পরিণত হয়েছে। কোন বিচার সালিশ করা লাগলে সেখানেই অনুষ্ঠিত হয়। সেখানের ছোট বাজারটিতে থাই পোশাক ছাড়াও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী পাওয়া যায়। দাম নাগালের মধ্যে। সেখানে ভাসমান খেলার মাঠও রয়েছে। প্রথমে গ্রামের শিশুরা ভাঙা কাঠ এবং নৌকার পাটাতন দিয়ে এটি তৈরি করেছিলো। পরে তাদের খেলাটি জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর নতুন করে আরও একটি মাঠ তৈরি করা হয়। আর বেশ মজার ব্যাপার হলো পানীর গ্রামের ফুটবল দলটি দক্ষিণ থাইল্যান্ডে বেশ জনপ্রিয়।


স্মার্টফোনে বুঁদ যারা কিংবা যারা ফেসবুকের পোকা তাদের মনে আবার প্রশ্ন জাগতেই পারে কিরে ভাই সমুদ্রের ভেতরের একটি গ্রাম সেখানে গিয়ে কি নেটওয়ার্ক পাবো? কিংবা সেখান থেকে কি ফেসবুকে সেলফি আপলোড দিতে পারবো? উত্তর হ্যাঁ অবশ্যই পারবেন। সেখানেও লেগেছে ডিজিটালের ছোঁয়া। রয়েছে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সুবিধা।আরও একটা মজার ব্যাপার হলো সেই গ্রামে মাত্র একজন পুলিশ রয়েছেন। অবশ্য তিনি সব সময়ই বেকার বসে থাকেন কারণ সেখানে কোন অপরাধ নেই বললেই চলে।


অনেকের মনে প্রশ্ন সেখানে কিভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে ব্যাঙ্কক যেতে প্লেন ভাড়া পড়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। সেখান থেকে ফুকেটের বাস ভাড়া পড়বে ১৩০০ টাকা। ফুকেটে থাকা-খাওয়ার খরচ খুব বেশি নয়। দুই হাজার টাকা হলেই ভালো মানের হোটেল পাওয়া যায়। হোটেলগুলোতেই বিভিন্ন দ্বীপে যাওয়ার প্যাকেজ রয়েছে। পানী গ্রামটি জেমস বন্ড আইল্যান্ড প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত। খরচ পড়বে জনগ্রতি প্রায় ৩০০০ টাকা। এই খরচেই জেমস বন্ড আইল্যান্ড, খাই আইল্যান্ড ও পানী গ্রাম ভ্রমণ করতে পারবেন।

তথ্যসূত্রঃ অনলাইননেট ।

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:৩৯
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×