somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাজের বুয়া সমাচার

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমান সময় পরিপেক্ষিতে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় একটি কাজের মেয়ের আত্মহর্তার জন্য বাড়ির লোক এবং দেশের সরকারই দায় । এখানে অনেকের প্রশ্ন জাগতে পারে কি করে মেয়েটির আত্নহর্তার জন্য বাড়ির লোক এবং সরকার দায় ? হ্যা এরকম প্রশ্ন মনে আসাতাই স্বাভাবিক আর হ্যা এই বিষয় নিয়েই এখানে মূল আলোচনার বিষয় ।
ধরে নেয়া যাক একটি বাসায়, স্বামী, শ্ত্রী,ছেলে,মেয়ে,দুইজন সাথে, শশুর, শাশুরী, দুইজন এবং দেবর ননদ দুইজন। তাহলে একটি পরিবারে কাজের মেয়েটি সহ নয়জন সদস্য হল । এখন দেখা যায় স্বামী শ্ত্রী সকালে ছেলে মেয়েকে স্কুলে পাঠিয়ে দিয়ে তারাও অফিসের কাজে চলে যান থাকেন বাকি পাঁচজন এর ভিতরে দেবর ননদ তারা দুইজনও সকালের নাষ্টা শেষ করে যার যার মত করে কলেজ বা অন্য কোন কর্মস্থলে চলে যান । বাকি থাকে তিনজন এর ভিতরে শশুর শাশুড়ী বয়স্ক তাই তাদের বাহিরে কোন কাজ থাকেনা ।আর শশুর শাশুড়ীর তেমন কোন কাজ না থাকায় শশুর চলে যান মনিং ওয়ার্কে মানে জগীং বা বাংলায় যাকে বলে ব্যায়াম সেই ব্যায়াম করতে । আর শাশুড়ী ব্যচারা কি আর করবেন হয়ত আল্লাবিলা করেন আর নয়ত কিছুক্ষন সময় টিভি দেখে সময় পাড় করেন ।
এবার আসুন কাজের মহিলা বা বুয়া সে হতে পারে ৪০ থেকে ৫০ বছর বা তারও বেশি বয়স্ক অথবা এমনও হতে পারে ১৩ এর নিচে বা ১৩ থেকে কুড়ি কিং বা ২০ ২২ ২৬ ৩০ বছরের যাই হোক সেই কাজের মহিলা বা ছুরি যদি ছোটা হয় মানে টাইম মাপা যেমন হতে পারে সকাল ৬টা থেকে ১২টা অথবা সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা অথবা ৮টা থেকে দুপুর ২টা পযন্ত তার কাজের সময় । আচ্ছা এবার আসা যাক তার কাজের ধরন কি কি দেখা যায় সেই কাজের মহিলা বা মেয়েটি সকালে এসেই প্রথমে হয়ত সেই বাড়ির শশুর শাশুড়ির ফজরের নামাজের সময় থাকলে শীতের সময় হলে হয়ত অজুর জন্য পানি গরম করে দেন । তার পর একে একে সকলের জন্য বেড চা অথবা কফি বানান।তার পর শুরু করেন ডে ফাস্ট ফুট মানে দিনের প্রথম ও সকালের নাষ্টা ।শেষ হয় খাওয়া দাওয়া । এর পর খাওয়া দাওয়া শেষে ওগুলো ধোয়ার বা পরিস্কারের কাজও সেই কাজের মেয়েটিই বা বুয়াটিই শেষ করেন এরপর ঘর মুছা ঘর পরিস্কার তার পর নোংরা কাপড় চোপর যা আছে সব ওয়াস করেন । এগুলো করতে করতে তার অবস্থা কাহিল হয়ে যায় তার উপর সময় হয়ে যায় আবার দুপুরের রান্নার সময় । এ থেকেই আমাদের বুঝতে বাকি থাকার কথা নয় যে যারা বান্ধা কাজের বুয়া তাদের অবস্থা তাহলে কি হয় । আসলে প্রতিটি মানুষেরই প্রতেকদইন পরিশ্রমের একটি নিদিষ্ট সময় সীমা থাকা উচিৎ তাছাড়াও বয়সের সীমারেখা অবশ্যয়ই থাকা উচিৎ ।এছাড়াও যারা বাসাবাড়ির কর্তা তারা আপনার বাসার কাজের বুয়াকে একবার নিজের মা বোন বা মেয়ের স্থানে বসিয়ে দেখুনতো যদি আপনার মা বা বোন অথবা আপনার মেয়েকে যদি অন্যের বাসা বাড়িতে শ্রম দেয়া লাগতো আর তাকে দিয়ে যদি তারা অমানবীক পরিশ্রম করাতো তখন আপনার কাছে কেমন লাগতো ।তাই আপনার বাসা বাড়ির কাজের মেয়েকে বা বুয়াকে নিজ পরিবারের একজন সদস্যের চোখে দেখুন । এখানে সরকারকে এই জন্যই দায় দেয়া হয়েছে কারন আমাদের দেশে কাজের মানুষদের আমরা কোন মূললায়ন করি না । তাদের উপরে সব সময় করি অমানবীক নির্যাতন । এমন কি অনেক বাসাবাড়িতে কাজের মেয়েদের উপরে শাররীক ও যৌন নির্যাতনও করা হয় যার কোন প্রতিবাদ হয় না । অনেক ক্ষেত্রেই এইসব নির্যাতনের ঘটনাগুলো এড়িয়ে যায় । কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সরকারী ভাবে এসব বিষয়ের উপরে কোন পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হত তাহলে অবশ্যয়ই এই সব নির্যাতনের ঘটনাগুলো অনেকটা কমে আসার সম্ভবনা থাকতো । হাজার লেখলে হাজার বললেও ওই সকল দুঃখী গরীব কষ্ট করে রোজি রোজগার করে খাওয়া মানুষ বা কাজের বুয়াদের কষ্টের কথা লেখে শেষ করা যাবে না । তাই সকলের একটু সচেতনতা হওয়া প্রয়োজন । একজন কাজের মানুষকে বেতন দিবেন বলেই আপনার মন মত পরিশ্রম তাকে দিয়ে না করিয়ে তার শরীর কতটুক পরিশ্রম করতে পারবে অতটুকই করান ।আর কাজের মানুষগুলোকে আপন ভাবতে শিখুন ।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:২১
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×