somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পঙ্গু হাসপাতালের চিকিত্সক ডান-বাঁ চিনতে ভুল করলেন।

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ৮:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডান পায়ে আঘাত নিয়ে ভর্তি হওয়া জাহাঙ্গীর খানের বাঁ পায়ে রড ঢুকিয়ে চিকিত্সা করেছেন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিত্সকেরা। ভুল চিকিত্সা করার জন্য রোগীর স্বজনেরা ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। গতকাল মঙ্গলবার চিকিত্সকেরা রোগীর ডান পায়ে অস্ত্রোপচার করেছেন।
গতকাল সাত সদস্যের চিকিত্সক দল জাহাঙ্গীরের শল্য চিকিত্সা করেন। দলের প্রধান আবদুল গনি মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, রোগীর ডান পায়ের ঊরুর হাড় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। আর কোমরের বাঁ দিকের অংশে চিড় ধরেছে। অস্ত্রোপচারের পর রোগী আশঙ্কামুক্ত।
গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পঙ্গু হাসপাতালে ভুল চিকিত্সার শিকার হন শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের কণিকা রহমান। বাঁ পায়ের গোড়ালির সমস্যা নিয়ে কণিকা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিত্সক কণিকার ডান পায়ে অস্ত্রোপচার করেছিলেন।
জাহাঙ্গীর খানের মামা মজিদুল হক অপারেশন থিয়েটারের সামনের বারান্দায় বসে প্রথম আলোকে বলেন, গত শনিবার গাজীপুরে একটি পিকআপ জাহাঙ্গীরকে ধাক্কা দেয়, এতে সে ডান পায়ে মারাত্মক আঘাত পায়। আহত জাহাঙ্গীরকে পঙ্গু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। চিকিত্সক শরিফুল ইসলাম অস্ত্রোপচার করে বাঁ পায়ে রড ঢোকান।
পরে রোগী ও তাঁর আত্মীয়স্বজন চিকিত্সককে বলেন, আঘাত ডান পায়ে, বাঁ পায়ে নয়। প্রথমে চিকিত্সক সেটা মানতে চাননি, ভুলও স্বীকার করেননি। পরে ওই দিনই বাঁ পা থেকে রড খুলে জাহাঙ্গীরের ডান পায়ে লাগান একই চিকিত্সক।
ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘটনা জানতে চাইলে হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক ফরিদ উদ্দীন আহমেদ বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জানা যাবে।
জাহাঙ্গীরের ভাই আলম খান বলেন, তাঁরা রোগীকে পঙ্গু হাসপাতাল থেকে অন্যত্র নিতে চেয়েছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সুচিকিত্সার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর তাঁরা থেকে গেছেন।
গতকাল প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে সাতজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক জাহাঙ্গীরের শল্য চিকিত্সা করেন। রোগীকে মোট চার ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে।
তদন্ত কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, জাহাঙ্গীরের চিকিত্সার শুরু থেকেই বেশ কয়েকটি ভুল হয়েছে। শুরুতে তাঁর বাঁ পা পরিষ্কার করা হয়। অবেদনবিদ বিশ্বনাথ বাঁ পা অবচেতন করেন এবং চিকিত্সক শরিফুল ইসলাম বাঁ পায়ে রড ঢোকান। তবে, এতে রোগীর মারাত্মক কোনো ক্ষতি হবে না।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অধঃপতন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৪৪



কারিনা কায়সার এখন জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন। একটা তরুণ মেয়ে। বয়স ত্রিশের আশেপাশে। একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। আরেকটা বড় পরিচয় হলো তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের কিংবদন্তি খেলোয়াড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শততম পোস্টে আমিই একমাত্র ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৩৫

আমার শততম পোস্টে আজ আমিই একমাত্র ব্লগার। জানালা দিয়ে পশ্চিমের স্বচ্ছ আকাশে শুকতারা দেখছি।
নিউইয়র্ক সময় অনুযায়ী এখানে রাত ১০.৪৬ মিনিট, তারিখ ১১ই মে ২০২৬
তাপমাত্রা +৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস
বাংলাদেশ তারিখ ১২ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৪৬ঃ দ্যা গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং

লিখেছেন কিরকুট, ১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:০৬

১৯৪৬ সালের আগস্ট। ব্রিটিশ ভারত তখন স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। কিন্তু স্বাধীনতার স্বপ্নের ভেতরেই জমতে শুরু করেছে বিভাজনের কালো মেঘ। ধর্ম, রাজনীতি ও ক্ষমতার হিসাব এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের দিকে এগোচ্ছিল। সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া, সতেজ, অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×