মেয়েটির নাম নদী। নদীর মতোই উচ্ছ্বল আর প্রান্তবন্ত ছিলো সে। মনে বইতো উত্তাল ঢেউ। প্রকৃতি আর রোমাঞ্চকর অনুভূতি বরাবরই খুব আকড়ে রাখতো তাকে। আকাশে মেঘ জমতে দেরি কিন্তু শাড়ির আঁচল ছড়িয়ে সবুজ ক্ষেতে তার অন্তহীন ছুটে চলার দেরি নেই।
জীবনে সবকিছু সুষমভাবে চলেনা। একদিন তেমনি এক অসম সম্পর্কে জড়ায় সে। সততা আর ভালোবাসার প্রতি নিষ্ঠাহীন নদী হারায় সামাজিক মূল্যবোধ । পরিবারের অবাধ্য হয়ে বিধর্মী ও অর্ধশিক্ষিত এক যুবকের হাত ধরে ঘর ছাড়ে নদী। ভালোবাসায় বিমোহিত মেয়েটি বুঝেনা কি হারাতে বসেছে সে!
যাই হোক, শুরু হয় নদীর নতুন জীবনের পথচলা। অপরিমেয় স্বপ্ন নিয়ে সংসার শুরু হয় দুজনের । কিন্তু একপর্যায়ে নিজের পরিবার ছেড়ে খুব বেশি একাকীত্ব অনুভূব করে নদী। পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টাও করে সে। কিন্তু বাংলাদেশের কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের তথাকথিত রক্ষণশীল মনোভাবের ফলে পরিবার পরিজনের অবহেলা পায় মেয়েটি। তার সাথে সকল বন্ধন ছিন্ন করে পরিবারের সকল সদস্য। এমনকি টেলিফোনেও কখনো জানতে চায়নি কেমন আসে সে।
একমাত্র মা-ই আমৃত্যু যোগাযোগ রাখেন মেয়ের সাথে। তারপরও কখনো নিজের খারাপ লাগা অনুভূতিগুলো মাকে বুঝতে দেয়না নদী। মা বার বার জানতে চায় ‘ তুই এতো শুকিয়ে গেছিস যে...ভালো আছিসতো?’ মাকে বলা হয়না কোনো কথা । ভিন্ন ধর্মের এক সমাজে মানিয়ে চলতে কতোটা কষ্ট হচ্ছে তার – মার আজানায়ই রয়ে যায় সেই কথা।
একদিন টেলিফোনে খবর আসে তার ক্যান্সার আক্রান্ত মা মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । মায়ের অসুস্থতার খবরে ছুটে যায় নদী। আইসিইউ’র বাইরে থেকে মায়ের মুখটা কোনোরকমে দেখার সৌভাগ্য হয় তার। তারপরদিনই মা চলে যায় না ফেরার দেশে । মায়ের মরদেহটি দেখতে ব্যাকুল হয়ে উঠে মেয়েটি। কিন্তু কোনোভাবেই মায়ের মরদেহটি দেখার অনুমতি পায়না নদী। শেষবারের মতো একবার মায়ের নিথর দেহটি ছুঁয়ে নিজের অপরাধের ক্ষমাপ্রার্থণার সুযোগ মেলেনা তার। যে মা তাকে জন্ম দিয়েছেন তার মুখটা একবার দেখার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় তাকে।
ভালোবেসে বিয়ে করার সবচে গুরুতর শাস্তিটি জোটে নদীর ভাগ্যে। হয়তো সে একা নয় । রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় নদীর মতো এমন অসংখ্য মেয়ের ভাগ্যেই জোটে একই পরিণতি। তারপরও সমাজ আর পরিবারের কাছে এমন হতভাগ্য মেয়েদের একটাই প্রশ্ন পশ্চিমা সমাজব্যবস্থায় যেখানে সমকামী বিবাহ স্বীকৃতি পেয়ে গেছে সেখানে ভালোবেসে একজন বিধর্মীকে বিয়ে করার শাস্তি কি এতো বড় হতে পারে?
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৫:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




