somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি লঘু ভুলের গুরু দন্ড.....

২৯ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৫:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেয়েটির নাম নদী। নদীর মতোই উচ্ছ্বল আর প্রান্তবন্ত ছিলো সে। মনে বইতো উত্তাল ঢেউ। প্রকৃতি আর রোমাঞ্চকর অনুভূতি বরাবরই খুব আকড়ে রাখতো তাকে। আকাশে মেঘ জমতে দেরি কিন্তু শাড়ির আঁচল ছড়িয়ে সবুজ ক্ষেতে তার অন্তহীন ছুটে চলার দেরি নেই।
জীবনে সবকিছু সুষমভাবে চলেনা। একদিন তেমনি এক অসম সম্পর্কে জড়ায় সে। সততা আর ভালোবাসার প্রতি নিষ্ঠাহীন নদী হারায় সামাজিক মূল্যবোধ । পরিবারের অবাধ্য হয়ে বিধর্মী ও অর্ধশিক্ষিত এক যুবকের হাত ধরে ঘর ছাড়ে নদী। ভালোবাসায় বিমোহিত মেয়েটি বুঝেনা কি হারাতে বসেছে সে!

যাই হোক, শুরু হয় নদীর নতুন জীবনের পথচলা। অপরিমেয় স্বপ্ন নিয়ে সংসার শুরু হয় দুজনের । কিন্তু একপর্যায়ে নিজের পরিবার ছেড়ে খুব বেশি একাকীত্ব অনুভূব করে নদী। পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টাও করে সে। কিন্তু বাংলাদেশের কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের তথাকথিত রক্ষণশীল মনোভাবের ফলে পরিবার পরিজনের অবহেলা পায় মেয়েটি। তার সাথে সকল বন্ধন ছিন্ন করে পরিবারের সকল সদস্য। এমনকি টেলিফোনেও কখনো জানতে চায়নি কেমন আসে সে।

একমাত্র মা-ই আমৃত্যু যোগাযোগ রাখেন মেয়ের সাথে। তারপরও কখনো নিজের খারাপ লাগা অনুভূতিগুলো মাকে বুঝতে দেয়না নদী। মা বার বার জানতে চায় ‘ তুই এতো শুকিয়ে গেছিস যে...ভালো আছিসতো?’ মাকে বলা হয়না কোনো কথা । ভিন্ন ধর্মের এক সমাজে মানিয়ে চলতে কতোটা কষ্ট হচ্ছে তার – মার আজানায়ই রয়ে যায় সেই কথা।

একদিন টেলিফোনে খবর আসে তার ক্যান্সার আক্রান্ত মা মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । মায়ের অসুস্থতার খবরে ছুটে যায় নদী। আইসিইউ’র বাইরে থেকে মায়ের মুখটা কোনোরকমে দেখার সৌভাগ্য হয় তার। তারপরদিনই মা চলে যায় না ফেরার দেশে । মায়ের মরদেহটি দেখতে ব্যাকুল হয়ে উঠে মেয়েটি। কিন্তু কোনোভাবেই মায়ের মরদেহটি দেখার অনুমতি পায়না নদী। শেষবারের মতো একবার মায়ের নিথর দেহটি ছুঁয়ে নিজের অপরাধের ক্ষমাপ্রার্থণার সুযোগ মেলেনা তার। যে মা তাকে জন্ম দিয়েছেন তার মুখটা একবার দেখার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় তাকে।

ভালোবেসে বিয়ে করার সবচে গুরুতর শাস্তিটি জোটে নদীর ভাগ্যে। হয়তো সে একা নয় । রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় নদীর মতো এমন অসংখ্য মেয়ের ভাগ্যেই জোটে একই পরিণতি। তারপরও সমাজ আর পরিবারের কাছে এমন হতভাগ্য মেয়েদের একটাই প্রশ্ন পশ্চিমা সমাজব্যবস্থায় যেখানে সমকামী বিবাহ স্বীকৃতি পেয়ে গেছে সেখানে ভালোবেসে একজন বিধর্মীকে বিয়ে করার শাস্তি কি এতো বড় হতে পারে?
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৫:৩৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হারানো আকাশে আমার ক্যানভাসে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫

হারানো আকাশে আমার ক্যানভাসে
.........................................................................



সেই জগতে আমার ছিলো আঁকিবুকি চকখড়িতে,
মন ভেসে যেত মেঘের ভেলায় সোনালী সেই দিনগুলিতে।
একটা সকাল, একটা বিকেল গোল্লাছুটের ধুলোবালি,
চিবুড়ি আর লুকোচুরি খেলা, স্মৃতির পাতা নয়কো খালি।

সুনীল... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুটি হাসিখুশি গল্প: ফাজিল কানাডিয়ান ও মহা সিরিয়াস কানাডিয়ান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩৩


হুমায়ূন আহমেদের একটা গল্প ছিল তাদের মাকে নিয়ে। তাদের মেঝ ভাই জাফর ইকবাল তখন আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে থাকেন। তাদের মা ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়েছেন। বিকেলে তিনি একা একা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রশ্নের আগুন যুক্তির মহাযাত্রা :প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য ২য় পর্ব ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:০৮


আদিতে ছিল প্রশ্ন
অন্ধকার আকাশের তলে দাঁড়িয়ে মানুষ
চেয়ে দেখেছিল নক্ষত্রের দিকে
মনে তার জেগেছিল বিস্ময়
কে জ্বালালো এই দীপ
কেন ঘোরে পৃথিবী, কেন নামে বৃষ্টি
কেন জন্ম, কেন মৃত্যু
কেন এই অনন্ত চলা?
উত্তর ছিল না হাতে
ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাফপ্যান্ট ফুলপ্যান্টের দেশে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:২৮


বাংলাদেশে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখতে ভালোবাসেন, তারা সাধারণত খুব নিরীহ বিষয় পছন্দ করেন। এর একটা কারণও আছে। বেশিরভাগ মানুষই অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চলতে চান। এমন কোনো বিষয় নিয়ে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×