সাংবাদিকতা কারও প্রশংসার জন্য নয়। সমাজের অসংগতি, অন্যায় ও অবিচার তুলে ধরাই হল সাংবাদিকতার মৌলিক উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক দুরাচার, আমলাতন্ত্রের 'লাল ফিতা' এর কুকর্ম, ছাত্র রাজনীতির নামধারী কিছু চেঙ্গিস খান পুত্রদের আদ্যপান্ত, ব্যবসায়ী লেবাসধারি কিছু লুটপাটকারীর কাহিনী সহ সবই আসে আমাদের দেশের সংবাদ মাধ্যমে, আসে না শুধু ভুঁইফোড় কিছু সংবাদ মাধ্যমের কথা। কেন জানি না, কিন্তু সব সময়ই এসব অমুক পত্রিকা বা তমুক ডট কম এর ব্যাপারে কখনই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হয় না।
নিউ মার্কেট থেকে ফিরছিলাম। রাস্তায় অন্তত ৫টি পত্রিকার অফিসের সাইন বোর্ড দেখেছি, যাদের অস্তিত্ব এর আগে কখনই নজরে আসেনি। নিউ মার্কেটের 'মেশিনারি মার্কেট' এর ২য় তলায় রয়েছে 'দৈনিক নূরের জগত' এর অফিস। নাম শুনেই বোঝা যায় শুধু ধান্দা করতে এসেছে এসব পত্রিকা।
আমার খুব কাছের বন্ধুদের একজন হল শহিদুল আলম (Shahidul Alam। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে বিবিএ পড়ছে। অসৎ সাংবাদিকতা বা সাংবাদিকতার নামে এক ধরনের চাঁদাবাজি বা সরাসরি ডাকাতির একজন সাক্ষী। 'দৈনিক ভোরের আলো' বা এই ধরনের এক 'আতিক্কা' পত্রিকা অফিস বসে যায় দেওয়ানহাট সিটি কর্পোরেশন বাজারে। আমার বন্ধুটি ঐ পত্রিকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করে। পরে তাকে ডেকে নিয়োগ চুড়ান্ত করা হয়। জামানত চায় ৪৫০০টাকা। এর মধ্যে আইডি কার্ডের জন্য ২০০০টাকা, যা অফেরতযোগ্য। আর ২৫০০ টাকা চাকরী ছেড়ে দেয়ার সময় দেয়া হবে জানায়।
সবচেয়ে মজার অংশ হল তখন, যখন বেতনের কথা আসে। তারা বলে - 'আপনার কোন ফিক্সড বেতন নাই। আমরা বিভিন্ন জায়গায় রেইড মারবো। ঐখান থেকে যা পাবো, তার একটা অংশ পাবেন'।
আশা করি, আর বলতে হবে না..................
আমাদের গর্ব ও ভরসার জায়গাটা হল মিডিয়া। 'সংবাদ মাধ্যম' এর লেবেল ব্যবহারকারী এসব দুষ্কৃতিকারীদের রুখবার দায়িত্ব কিন্তু সংবাদ মাধ্যমেরই। এই অভিযোগ সরকারের কাছে দেয়া যাবে না। কারণ তখন তারা এর সূত্র ধরে নিজেদের ফায়দা তুলে নেবে।
তবে অবস্থা কিন্তু ভালো না...........
লাল সালাম....................

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



