somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সর্বকালের সেরা ১০ বাংলাদেশী চলচিত্র

০৯ ই মে, ২০১৬ দুপুর ১২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চলচ্চিত্র বোদ্ধা ও সমালোচকদের দৃষ্টিতে নিম্নের ছবিগুলো সর্বকালের সেরা বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের মর্যাদা পেয়েছে।
(১) তিতাস একটি নদীর নাম
তিতাস একটি নদীর নাম চলচ্চিত্রের পরিচালক ঋত্বিক ঘটক এবং এই চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালে । অদ্বৈত মল্লবর্মণ বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক। তাঁর লেখা উপন্যাস ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ এমন একটি সফল সৃষ্টি, যা লেখককে বাংলা সাহিত্যের উপন্যাসের ধারায় একটি মর্যাদাপূর্ণ আসন দান করেছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর “পদ্মা নদীর মাঝি” এর পর আর কেউ যদি খুব সফল ভাবে জেলেদের জীবন নিয়ে উপন্যাস রচনা করেছেন, তিনি হলেন অদ্বৈত মল্লবর্মণ। আর এই উপন্যাসকে সফল ভাবে মুভিতে যিনি চিত্রায়িত করেছেন, তিনি হলেন লিজেন্ডারী ঋত্বিক ঘটক। এই মুভিটি ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্ড্রাসটির এক জরিপে শ্রেষ্ঠ ১০ বাংলাদেশী সিনেমার তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে। এই নিয়ে স্বয়ং ঋত্বিক কুমার ঘটক একবার প্রবীর মিত্রকে বলেছিলেন “আমার এই ছবিটি সময় উপোযোগী হয়নি। সময়ের অনেক আগেই বানিয়ে ফেলেছি”। সত্যিই ২০ বছর পর দেখা গেল এই ছবিটি আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
(২) চিত্রা নদীর পাড়ে
চিত্রা নদীর পাড়ে চলচ্চিত্রের পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল এবং এই চলচিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালে।
(৩) নদীর নাম মধুমতি
নদীর নাম মধুমতি চলচ্চিত্রের পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল এবং এই চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৯৮ সালে।
(৪) সীমানা পেরিয়ে
সীমানা পেরিয়ে চলচ্চিত্রের পরিচালক আলমগীর কবির এবং এই চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালে।
(৫) বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না
বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না চলচ্চিত্রের পরিচালক তোজাম্মেল হক বকুল এবং এ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৯৮ সালে।
(৬) সূর্য দীঘল বাড়ী
সূর্য দীঘল বাড়ী চলচ্চিত্রের পরিচালক শেখ নিয়ামত আলী ও মসীউদ্দীন শাকের এবং এ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭৯ সালে।
(৭) ধীরে বহে মেঘনা
ধীরে বহে মেঘনা চলচ্চিত্রের পরিচালক আলমগীর কবির এবং এ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭৯ সালে।
(৮) রূপালী সৈকতে
রূপালী সৈকতে চলচ্চিত্রের পরিচালক আলমগীর কবির এবং এ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭৯ সালে।
(৯) শ্রাবণ মেঘের দিন
শ্রাবণ মেঘের দিন চলচ্চিত্রের পরিচালক হুমায়ুন আহমেদ এবং এই চলচিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালে। এই চলচিত্র হুমায়ূন আহমেদের পরম যত্নে বানানো এক অমর সৃষ্টি। হুমায়ূন আহমেদ এ ছবির আগে ও পরে বহু নাটক-সিনেমা-টিভি ধারাবাহিক বানিয়েছেন। কোন কোনটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে, বোদ্ধামহলে প্রশংসিত হয়েছে।
আবার কোনটার জন্য তিনি সমালোচিতও হয়েছেন। খেয়ালি এই শিল্পী যেমন ইচ্ছে তেমন করেই কাটিয়েছেন সারাটা জীবন । পরোয়া করেননি কোন কিছুর। কিন্তু শ্রাবণ মেঘের দিন ছবিটি নির্মাণে হুমায়ূন তাঁর স্বভাবজাত স্টাইলে অনড় থাকলেও খেয়ালিপনায় না গিয়ে অনেক বেশি সতর্ক থাকার চেষ্টা করেছেন।
ছবির প্রতিটি দৃশ্য নির্মাণ, চরিত্র সৃষ্টি এমনকি ছোট-খাটো ডিটেইলগুলোতে তাঁর কড়া নজরদারি ছিলো। এর আগে এমনটি শুধু একবারই দেখা গিয়েছিলো, তাঁর সবচেয়ে আলোচিত দর্শকনন্দিত সৃষ্টি আগুনের পরশমণি-তে। শ্রাবণ মেঘের দিনের পরে আর কখনও এতটা প্রবলভাবে হুমায়ূনকে সেলুলয়েডে পাওয়া যায়নি।
(১০) সাত ভাই চম্পা
সাত ভাই চম্পা বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় রূপকথার গল্প। গল্পটি অানুষ্ঠানিকভাবে প্রথম প্রকাশ হয়েছিল ১৯০৭ সালে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ঠাকুরমার ঝুলি নামক রূপকথার বইয়ে। সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বইয়ের ভূমিকা লিখেছিলেন।
১৯৪৪ সালে বিষ্ণু দে কর্তৃক গল্পটি পুনরায় বিস্তারিতভাবে সাত ভাই চাম্পা নামে প্রকাশিত হয়েছিল। সাত ভাই চম্পার গল্প অবলম্বনে বেশ কয়েকটি বাংলা চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিলো। ১৯৬৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সাত ভাই চম্পা চলচ্চিত্রটিকে ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট সর্বকালের সেরা দশটি বাংলা চলচ্চিত্রের মধ্যে স্থান দিয়েছে এবং এই চলচ্চিত্রের পরিচালক দীলিপ সোম।

সুত্রঃ উইকিপিডিয়া
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০১৬ দুপুর ১২:৩০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডানপন্থীদের তোয়াজ বা মক্কা প্যাক্টে ঢোকার আগ্রহ দ্রুতই বুমেরাং হতে পারে বিএনপি সরকারের জন্য

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৮



জামাত-এনসিপিকে 'বিরোধী দল হিসেবে' হাতে রাখতে বা আওয়ামী লীগের ফিরে আসাকে ঠেকাতে জামাত-এনসিপি বা এদের মতো ডা*নপন্থীদের দাবি-দাওয়াকে খুব বেশি প্রাধান্য দিলে সেটা বুমেরাং হয়ে দেখা দেবে বিএনপি সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মক্কাহ চুক্তি কি ?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯



মক্কাহ চুক্তি লেখা হয়েছে আরবি ভাষায়। বাংলাদেশের পত্র পত্রিকা - পূর্ণাঙ্গ “মক্কাহ চুক্তি” বাংলা অনুবাদ করে প্রকাশ করছে না কেনো ? দেশের মানুষ কিভাবে জানবে এই চুক্তিতে কি লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

ইংরেজি প্রবাদ “Out of the frying pan into the fire”- অর্থাৎ এক বিপদ থেকে বাঁচতে গিয়ে আরও বড় বিপদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিঠির সঙ্গে আমার এক অন্যরকম সম্পর্ক

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৫৩



চিঠির সঙ্গে আমার এক অন্যরকম সম্পর্ক

উনি আমাদের ভবেরচর পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার। অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ। তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়টা শুধু পোস্ট অফিসের প্রয়োজনের কারণে নয়; বরং দীর্ঘদিনের এক আন্তরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীরব আত্মপক্ষ।

লিখেছেন রাজা সরকার, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০

নীরব আত্মপক্ষ।

স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র আন্দোলনের মাসুল বাঙালি হিন্দুকে গুণে গুণে দিতে হয়েছিল ব্রিটিশকে । বাকিটা মুসলিম লীগ ও নেহেরুইয়ান কংগ্রেস মিলে যা করার করে গেছে। এবং পরবর্তীকাল থেকে মুসলিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×