
জাতীয়তাবাদী হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতিনেতাদের মধ্যে সিরাজুল আলম খান ছিলেন যুবনেতাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী । তবে তিনি ৬ দফার গণতন্ত্রবাদের সমর্থক ছিলেন না । তিনি “দ্বিতীয় ধারার রাজনীতি” নামে সন্ত্রাসবাদী বা তথাকথিত বিপ্লবী রাজনৈতিক পথের অনুসারী ছিলেন ।
তিনি একজন আবেগী ব্যক্তি । ১৯৬২ উত্তর মার্ক্সবাদী হন । একদা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকায় তিনি গোপনে ছাত্রলীগ-যুবলীগের অভ্যন্তরে মার্ক্সবাদ ছড়ান । পাকিস্তান রাষ্ট্রকাঠামোতে গোপনে তৎপর ছিলেন । স্বাধীনতা উত্তর অনুকূল পরিবেশ পেয়ে প্রথমে মুজিববাদ স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগ ও সংবিধানে রাষ্ট্র-পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে সমাজতন্ত্রকে অন্তর্ভূক্ত করাতে সমর্থ হন ।
চাপ সৃষ্টি করে সমাজতন্ত্রবাদ গ্রহণে বাধ্য করায় তাঁর সাথে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কের অবনতি হয় । বঙ্গবন্ধু একবার “বেশী রাজনীতি শিখেছিস” বলে অসন্তুষ্টি প্রকাশও করেন । এরপর শেখ মনি ও আব্দুর রাজ্জাকও তাঁকে এড়িয়ে চলতেন । বঙ্গবন্ধুও তাঁকে আর সময় দিতেন না । ছাত্রলীগের সম্মেলনকে সম্মুখে রেখে বঙ্গবন্ধু তাঁকে নিজের মতো একটি প্যানেল করতে বলেন । শেখ মনিকেও আরেকটি প্যালেন তৈরী করতে বলেন (এটা উনি জানতেন না) । বিশ্বাস ছিল, তাঁর প্যানেলের প্রাধান্য রেখে ছাত্রলীগের প্যানেল চূড়ান্ত হবে । কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মনির প্যানেলটি আওয়ামী সমর্থিত হিসেবে অনুমোদন দেন এবং তাঁকে নিজের প্যানেল নিয়ে আলাদা ছাত্রলীগ ও রাজনৈতিক দল তৈরী করতে বলেন (সিরাজুল আলম খানের কথানুসারে) । “বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র” স্লোগান দিয়ে প্রথমে আলাদা ছাত্রলীগ এবং পরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের ব্যানারে সন্ত্রাসবাদী রাজনীতি শুরু করেন । স্বাধীনতাত্তোর ১৯৭২-৭৫ চরম সংকটময় রাজনীতি, স্বৈরমুখী রাষ্ট্রপরিচালনা, রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার ও হাজার হাজার খুন ও পরবর্তী ঘটনা প্রবাহের জন্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, না সিরাজুল আলম খান দায়ী; তা ইতিহাস মূল্যায়ন করবে । তবে সবচেয়ে বেশী দায়ী ছিল স্বৈরমুখী রাষ্ট্র-অবকাঠামো, স্বৈরমুখী প্রতিরক্ষা কাঠামো ও স্বৈরমুখী সাংবিধানিক সরকারব্যবস্থা । এ কাঠামো-ব্যবস্থাগুলো নির্বাচিত সরকার ও প্রশাসনকে উত্তরোত্তর স্বৈরমুখী করেছে, একদলীয় রাজনীতি এনেছে এবং সামরিক শাসন দিয়েছে । একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা, সমাজতন্ত্র ও বেসরকারী ব্যক্তি অনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হলে সামরিক শাসন বিশ্বে নতুন কিছু না ।৪/৫টি থেকে ৯টি আঞ্চলিক ক্যান্টমেন্ট ভিত্তিক হওয়ায় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কাঠামো গণতন্ত্রমুখী হয়েছে । ইউনিয়ন-উপজেলা-জেলা-বিভাগ পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা বিভাগ হলে রাষ্ট্র-অবকাঠামোও সুষম-গণতন্ত্রমুখী হবে । বাংলাদেশ আরও উচ্চমাত্রার সম্মৃদ্ধিশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে। বাকী থাকবে সাংবিধানিক সরকার ব্যবস্থাকে গণতন্ত্রমুখী করা । যে দেশে সংবিধান বিশেষজ্ঞ নামে খ্যাত ডঃ কামাল হোসেন, ব্যারিঃ আমিরুল ইসলাম, ব্যারিঃ মওদুদ, প্রমূখরা “দুইকক্ষ সংসদব্যবস্থা” বুঝেন না, সেখানে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা না বুঝলে তেমন কিছু দোষের নয় । তবে সিরাজুল আলম খান রাষ্ট্র-অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা কাঠামো, জাতীয় বেতন কাঠামো ও সাংবিধানিক সরকারব্যবস্থার গণতন্ত্রমুখী পুনর্গঠন কর্মসূচী ১৯৮৭ থেকে জাসদের কর্মসূচী হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করেছেন । আপনাদেরও স্মরণে থাকার কথা ।
http://dhakarnews.com/index.php/mukto/item/29661-2015-07-02
-04-54-28#sthash.sKn4aBc0.dpuf
Mohiuddin Ahmad
Nizam Mohammad Serajul Alam Khan (74+). Some people used to say that he was a terrorist; some people branded him as a Trotskyte; to some people, he had the image of an agent provocateur and thus was a conspirator; and many people think that he has been a catalyst of destruction and thus earned the name 'Kapalik'. Often I feel that he was a prototype of the pied piper of Hamelin, who led a generation of the youth to a world from where they could hardly return. I know this person for over 45 years. I had opportunities to interact with him on many occasions. Today evening, we talked for over an hour. He unfolded his heart and spoke at length on different pertinent issues. I hope to make a narrative out of this discussion, soon.
মহিউদ্দিন আহমেদের লেখা থেকে নেওয়া
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



