"বিপ্লবীদের বেশি দিন বাঁচা ঠিক নয়। বেশি বাঁচলেই তারা প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে।"
হুমায়ূন আজাদ
জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে (১৯৬০-৭০ এর দশকের স্বাধীনতা আন্দোলনের নায়ক)। "দলীয় বোঝায় পরিণত" হওয়া বর্ষীয়ান (৯৩) এই নেতা একদা এমন মন্তব্যও করেছিলেন, ঈশ্বর ছাড়া কেউই তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবেন না। কিন্তু ইতিহাস ভবিষ্যতে সাক্ষী দেবে, তাঁর আগমন যতটা বীরোচিত, বিদায় ততটাই পরিহাসের।
শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা স্বাধীনতা আন্দোলনের এই টানা ৩৭ বছর ধরে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছিলেন। দেশটির অবিংসবাদিত এই নেতা হয়ে উঠেছিলেন জিম্বাবুয়ের এক অবিচ্ছেদ্য নাম। সমালোচনা রয়েছে, তিনি এমন এক নায়ক, যিনি ক্ষমতা ধরে রাখতে গিয়ে একটি দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। আর তাঁর সর্বশেষ ভুলটি হলো, নিজ উত্তরসূরী হিসেবে নিজের চেয়ে বয়সে প্রায় ৪০ বছরের ছোট স্ত্রী গ্রেসকে বসানোর চিন্তা করা। এতেই কাল হয় তাঁর। যেই নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ভর করে ক্ষমতাকে আরও দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিলেন, সেই তারাই তাঁকে সরাতে গত ১৪ নভেম্বর ঘটায় "রক্তপাতহীন এক ব্যতিক্রমী অভ্যুত্থান। "
তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশ মনে করে যে জিম্বাবুয়ের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছেন রবার্ট মুগাবে। তাই তো তাঁর বিদায়ে তরুণসহ বেশিরভাগ পেশাজীবী রাজপথে নেমে উচ্ছ্বাস করেছেন। জনতার মত, এর মধ্য দিয়ে দেশটির কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটেছে।
মালয়েশিয়ার ড. মাহাথির মোহাম্মদ ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে বোধহয় সঠিক কাজটি করেছিলেন। বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেভাবে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, জনগণের নেতা হয়ে উঠেছিলেন; কালক্রমে ঠিকই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যান। ইরাকের সাদ্দাম হোসেন, লিবিয়ার মোয়াম্মার গাদ্দাফির পরিণতি তো আরও ভয়াবহ হয়েছিলো। ফিদেল ক্যাস্ত্রোর ক্ষেত্রে অবশ্য এমন হয় নি।
তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



