"এক মুঠো ভাত, তা ডাল দিয়ে, একটু সবজি দিয়ে, সাথে এক বেলা মাছ বা মাংস। বাসা থেকে বের হয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে থাকবো না। অফিস শেষে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরবো নিশ্চিত মনে কোন ঝামেলা ছাড়া................. এর বেশী কিছু চাই না। কেউ কি তা দিতে পারবে?"
কোন একটা রাজনৈতিক পোস্টে এ মন্তব্যটা পড়লাম। মন্তব্যটা একজন নারীর। পুরুষেরাও দেন অবশ্য। তবে মন্তব্যটা নারীর বলে কিছু ভাবনা মাথায় এলো।
এ ধরণের ভাবনা যে গোটা নারী জাতির। দেশ-সমাজ-রাজনীতি নিয়ে তাদের কোন মতামত নেই। একজন মেয়ে যত শিক্ষিতই হোক, স্বামী-সন্তান, সোনা-দানা এবং ঘরবাড়ি নিয়েই সে ভাবে। বান্ধবীদের সাথে দেখা হলে এসব নিয়েই আলাপ-আলোচনা। দেশ-সমাজ গোল্লায় যাক, কোন মাথাব্যথা নেই। কেউ করলে উষ্মা প্রকাশ করে।
বেগম রোকেয়া অবশ্য অধিকাংশের চরিত্র বলে গিয়েছেন। রোকেয়া হলের মেয়েরা রোকেয়ার নামই জানে না। রোকেয়াকে নিয়ে কোন এক অনুষ্ঠানে রোকেয়ার বদলে নূরজাহান বেগম এর ছবি টাঙিয়েছিলো।
স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার সময় সালমান খান মার্কা ছেলেদের সাথে প্রেম করা, যৌবনের উত্তাল তরঙ্গে ভাসা এবং শেষকালে একজন বিসিএস ক্যাডার কিংবা ডাক্তার, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করাই মোটামুটি লক্ষ্য! রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, নারীর শত্রু নিজেই, আর কেউ না। চরম বাস্তব সত্য!
দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। তাদের মতামতের ওপর অনেককিছু নির্ভর করে। যতদিন পর্যন্ত না তাদের চিন্তা-ভাবনা প্রসারিত হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত তাদের অধোগতি চলতেই থাকবে আর দেশও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে থাকবে। সুশিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি মনোভাবও পরিবর্তন করা জরুরি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


