"সোনালি কাবিন" এর কবি আল মাহমুদ, জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান, শহিদ কাদরী সহ বাংলা সাহিত্যের অনেক রথী-মহারথীর সাথে যাঁর নাম উচ্চারিত হয়। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি অথচ তাঁর বিদায় হলো অনাদরে, অবহেলায়! তাঁর শবদেহ শহিদ মিনারে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পর্যন্ত মিললো না, তাঁর কবরটাও হলো না বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে অথবা কাজী নজরুলের সমাধির পাশে, যেখানে সমাধিস্থ হওয়ার ইচ্ছে ছিল তাঁর।
"মানুষ মরে গেলে পঁচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়। ক্ষণে-ক্ষণে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায়"। মুনীর চৌধুরীর এ কথাটা মনে হয় উনার ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রযোজ্য। না হলে সারাজীবন বাম-রাজনীতির সমর্থক উনি কেন শেষ বয়সে জামায়াতের ছায়াতলে আশ্রয় নেবেন? ছাত্রশিবিরের স্তুতি গাইবেন, গোলাম আজমের মতো ঘৃণ্য নরপশুকে মহান প্রমাণ করতে চাইবেন? উনার এ বদল কি শুধু দারিদ্র্যের কারণেই? নাকি আদর্শিক কারণও আছে?
অবশ্য ইতিহাসে সারাজীবন বাম-রাজনীতি করে শেষ বয়সে ধর্মাশ্রয়ী হওয়ার ইতিহাস বিরল নয়। পাশের দেশ ভারতের বিখ্যাত গণসঙ্গীত শিল্পী ভূপেন হাজারিকাও শেষ বয়সে ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে ছিলেন, বিজেপির সাংসদও হয়েছিলেন।
ছিলেন জাসদের গণকণ্ঠের সম্পাদক। বঙ্গবন্ধুর সময় হলেন ইত্তেফাকের। এরপর জিয়া-এরশাদ ঘুরে জামায়াত। অন্যতম শ্রেষ্ঠ একজন কবির এমন পালাবদল আমাদের ইতিহাসে বিরল। এ জন্যই কি আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হলেন?
একজন মানুষের কত অর্থ প্রয়োজন? উনি ধর্মাশ্রয়ী হয়েছেন, এটা দোষের কিছু না। মানুষের বিশ্বাস পাল্টায়। তাই বলে উনি কেন জামায়াতের মতো ঘৃণ্য একটা সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট হলেনhttps://www.facebook.com/498619063674828/posts/1147674175435977/?refid=52&_ft_=mf_story_key.2184468408432525:top_level_post_id.2184468408432525:tl_objid.2184468408432525:content_owner_id_new.100006081606221:throwback_story_fbid.2184468408432525:photo_id.2184468378432528:story_location.4:story_attachment_style.photo:thid.100006081606221&__tn__=R? কেন নিজেকে পঁচালেন? ইতিহাসের দায় থেকে জামায়াতের মুক্তি মিলবে না, মিলবে না আল মাহমুদেরও মুক্তি।
তারপরও আশা করি, শুধু কবি হয়েই উনি বেঁচে থাকবেন বইয়ের পাতায়, পাঠক-পাঠিকাদের হৃদয়ে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



