
আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ভাগ্নির বিবাহ। খুব করে দাওয়াত দিয়েছে। আমি সাফ জানিয়ে দিয়েছি, যাবো না। বিয়ের দাওয়াত, খৎনার দাওয়াত, জন্মদিনের দাওয়াত- এগুলো আমার ভালো লাগে না।
এসব উৎসবে গেলে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি না। বস্তুত কোন প্রকার আনন্দ উৎসবেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি না। কেমন সঙ্কোচ লাগে। নিজেকে গরিব আর ছোটলোক মনে হয়।
যাবো না, যাবো না কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাকে যেতেই হলো। বন্ধু রাগ করছিলো। না গেলে অবস্থা বেগতিক হয়ে যাবে বলে বন্ধুত্ব রক্ষার্থে যেতে রাজি হলাম।
শহরের সবচেয়ে বড় কনভেনশন সেন্টারে বিবাহ। গেটে গিয়ে দেখি এলাহি কান্ড। সাজ সাজ রব। শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আসছেন।
মহা মুশকিলে পড়া গেলো। দিলাম বন্ধুকে ফোন।
সে এসে আমাকে ভেতরে নিয়ে গেলো।
ঘুরেফিরে দেখছিলাম কে কে এসেছেন। দেখলাম মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সহ অনেকেই এসেছেন।
বন্ধু আমাকে খাওয়ার টেবিলে বসিয়ে কোথাও গিয়েছে। ওয়েটার খুব যত্ন করছিলো আমার। হয়তো ভেবেছিলো কিছু বখশিশ দেবো। বেচারার নসিব মন্দ। পকেটে টাকা-পয়সা ছিলো না।
বন্ধু আসতে আসতে আমার খাওয়া দাওয়া শেষ। পায়চারি করছিলাম। সে এসে খেতে বসলো। আমি তার পেছনের একটা ফাঁকা চেয়ারে বসলাম, যে টেবিলটায় আপাতত কেউ নেই।
হঠাৎ একজন আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো, ভাইয়া, রাইস নিয়ে আসেন।
আমি বিব্রত। বন্ধু, সেও বিব্রত। সে বললো, ও তো গেস্ট।
আমি একটু শুকনো হাসি দিলাম। ও বেচারার কোন দোষ নেই। ওয়েটারেরা যে ড্রেস পরে, মানে কালো প্যান্ট ও সাদা শার্ট আমার পরনেও একই রকমের পোষাক। ও কী করে বুঝবে আমি গেস্ট না ওয়েটার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






