
যে হোটেলে ভাত খাই সে হোটেলটা আজ বন্ধ ছিলো। খিদেয় পেট চু চু করছে। মনে হচ্ছিল মারা যাচ্ছি। একবেলা ভাত না খেলে কী এমন হয়? কতোদিন তো না খেয়ে রইলাম। আজকে একদম অভুক্ত থাকতে পারছি না। ইদানীং খিদে একটু বেশিই লাগছে।
ভাত খেতে যাচ্ছিলাম রাস্তার পাশের এক হোটেলে। রাস্তার ডান পাশ দিয়ে হাঁটছি। দেখলাম ৯-১০ বছরের এক ছেলে মাদুর বিছিয়ে ভিক্ষে করছে।
খুবই স্বাভাবিক একটা দৃশ্য। এ দেশের অলিতে গলিতে বহু ভিক্ষুক দেখা যায়। কারও জন্য বিশেষভাবে মায়া দেখানোর সুযোগ নেই। সব গা সওয়া হয়ে গেছে।
ভাত খেয়ে ছেলেটার সামনে দিয়ে আসতেই দেখলাম, ছেলেটা বলছে, "আমি এতিম। কয়টা টাকা দিয়া যান।"
খুব মায়া লাগলো। "বাড়ি কোথায়?" জানতে চাইলাম।
"রসুলপুর।" ছেলেটা উত্তর করলো।
কিছু কি করা যায় এর জন্য? বয়স কম। কোনো কাজেও লাগানো যাবে না। বা লাগাতে পারলেও আমার পরিচিত কেউ তো এখানে নেই। কে কাজ দেবে?
বাসায় নিয়ে পড়ালেখার সুযোগ করে দেবো সে সুযোগও নেই। নিজেরই তো নুন আনতে পান্তা ফুরানো অবস্থা।
পকেট থেকে ১০ টাকার একটা নোট বের করে ওর মাদুরের দিকে তাকাতেই ৫ টাকার একটা নোট ও ২ টাকার একটা নোট দেখতে পেলাম।
১০ টাকা পেয়ে খুব খুশিই মনে হলো ছেলেটাকে। কিছু কিছু মানুষের চাহিদা কী অল্প, না?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






