
একসময়কার মহাপ্রতাপশালী পুলিশের আইজিপি বেনজীর মামা হঠাৎ ধরা খেলেন। পত্র-পত্রিকায়, টিভিতে ফাঁস হতে লাগল তার অবৈধ সম্পদের বিবরণ। এরপর ছাগলকাণ্ডে ধরা খেলেন এনবিআরের মতিউর মামা। মামাত ভাই (মতিউর মামার ছেলে) যদি ছাগলের ছবি আর দাম না লিখে ফেসবুকে পোস্ট দিতেন, মামায় মনে হয় ধরা খেতেন না। ছেলের বোকামিতে বাপ ধরা! মতিউর মামার ঘটনার পর থেকে আরও অনেকের গোমর ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। একে একে সবাইকে ধরা হচ্ছে। সর্বশেষ প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে ধরা খেলেন আবেদ চাচা। চাচার বংশ ছিল মীর; জাতে উঠতে গিয়ে সৈয়দ পদবি লাগান।
চাচার জীবনকাহিনী নাটক-সিনেমাকেও হার মানায়। আট বছর বয়সে উনি ঢাকায় এসে কুলিগিরি শুরু করেন। একসময় ড্রাইভিং শেখেন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পাশ করেন। এরপর পিএসসিতে ড্রাইভারের চাকরি নেন। এরপর মামায় লালে লাল। প্রশ্ন বেচে কোটি কোটি টাকার মালিক।
এতকিছুর মধ্যে চাচা ধর্মকর্ম করতে ভুলেননি। বেনজীর-মতিউর মামার মতো হজও করেছেন। এলাকার অনেককে হজ করিয়েছেন। এলাকায় অনেক মসজিদ-মাদ্রাসা করেছেন। ধরা খাওয়ার পর চাচা বলেছেন প্রশ্নফাঁসের সব টাকা আল্লাহর রাস্তায় দান করেছেন। এতেই বোঝা যায় মামা চ্যালচ্যালাইয়া বেহেশতে চলে যাবেন।
মামার উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার শখ ছিল। বাপ-ব্যাটা দামি গাড়ি করে এলাকায় যেতেন। ছেলে গর্ব করে বলত বাবার কষ্টের কথা। কেমনে কী হলেন। এলাকায় বলতেন আবেদ চাচা শিল্পপতি। চাচায় যে বাটপারি করে বড়লোক হয়েছেন। সেই রহস্য শেষ পর্যন্ত গোপন থাকল না।
এই যে এত এত দুর্নীতি, চুরি, অপকর্ম ফাঁস হচ্ছে; এতে বোঝা পানির মতো সোজা যে দেশে ভালো লোকের চেয়ে বাটপার বেশি। এরা দেশকে ভালোবাসে না; ব্যবহার করে। সবার কাছে ভালো থাকতে ধর্মের লেবাসও ধরে।
হাদিসে কুদসিতে বলা হয়েছে, বান্দা যদি দৈনিক ৭০ বার অপরাধ করে এবং ৭০ বার ক্ষমা চায়, সে ক্ষমা পাবে। বাঙালি এই হাদিসটা কায়মনোবাক্যে পালন করে; এজন্যই আমরা দেখি যত বড় চোর তত বড় লেবাস। ধর্মের আলখেল্লার নিচেই তারা তাদের অপরাধ লুকায় খুব সহজে। কারণ, আমজনতা দুটো জিনিসের জন্য বাপের নাম ভুলে যেতে রাজি: টাকা আর ধর্ম। এদেশের চোরদের এ দুটোই থাকে প্রচুর পরিমাণে। তাই ধর্ম বেচে খাওয়ার মানুষের অভাব না থাকলেও প্রকৃত ধার্মিক খুঁজতে গেলে পাওয়া যাবে কয়জন?
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০২৪ রাত ৮:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



