খুব সম্ভবত আমি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি । আমাদের সাথে সাথী নামের একটা মেয়ে পড়তো । সিক্সে থাকতেই বিয়ে হয়ে যায় এক হাফেজ এর সাথে । কথা ছিলো বিয়ের পর পড়াবে । বাট পড়ায়নি , উলটা বাচ্চা নিয়ে নেয় । অনেক মারধোর করতো । আমার সাথে কয়েকবার দেখা হয়েছিল । বার বার একটা কথাই বলতো, দেখিস একদিন আমি হঠাত করে মারা যাবো । স্বামীর জন্য সর্বোচ্চ করতো, বাট তারপরেও মারতো । একদিন হঠাত শুনি মেয়েটা মারা গেছে । লেখাটা ওকে নিয়ে
প্রানের বান্ধব,
একদিন আমি আমার নিজের বাড়িতে চলে যাবো । জগত স্বামীর ঘরে । এক বিয়াতে এই জগত সংসারে আসছি, আরেক বিয়েতে স্বামীর ঘরে, এরপর সাদা কাপর পড়ে জগত স্বামীর ঘরে চলে যাবো ।
প্রানের বান্ধব সব বিয়েতে সানাই বাজে । কিন্তু এই বিয়েতে বাজবে না। কেউ চুপি চুপি আর আমার মায়ে চিল্লায়া কাদবে । বিয়ার অনেক মেহমান আসবে কিন্তু কেউ গান ও গাবে না, বার খানাও খাবেনা।
প্রানের বান্ধব, তুমি একবার আমার দিকে ফিরা চাইয়ো । আমি যেইদিন আমার আপন বাড়ি চলে যাবো , সেইদিন আমার লাইগা একোটা সাদা মার্কিন থানের শাড়ি কিনে এনে নিজ হাতে বধু সাজাইয়া দিও ।
প্রানের বান্ধব, তোমারে নিয়া মনে কত আশা ছিলো । চাদনি রাইতে তুমি আমার কাছে আইসা বুকে মাথা রাইখা ঘুমাইবা। তা আর হইবো না। তোমারে ছাইড়া চইলা যাইতে হইবো ।
আমিতো তোমারে সব দিছি । তুমি বুইঝবারও চাও নাও কতটা কষ্ট আমার বুকে । শরীরে যে অসুখ বাসা বাইধছে সেইডা তুমি বুইঝলাই না। এইডা মরন অসুখ । আমি চইলা গেলে তহন কাইনবা । বুইঝবা কেমুন লাগে ।
আমার পালকির চার বেহারারে আমি দেখতে পাই । আমারে রাইখা তারা চইলা আইসবো । তুমি আমারে দেখতেও পাইবানা ।
সত্যি আমারে আর দেখতে পাইবানা ।
ইতি
তোমার মাইনষে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


