somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্যবসায়িক স্বার্থে ধর্মের অপব্যবহার: ধর্মের ব্যবসায়ী নাকি ব্যবসায়ীর ধর্ম

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১২:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আত্মসর্বস্ব ও ব্যক্তিস্বার্থের ওপর প্রতিষ্ঠিত মালিকদেরও অনেকে লোক দেখানো নামাজ পড়েন, টুপি মাথায় দেন, বড় দাঁড়ি রাখেন, পাঞ্জাবি পড়েন অথচ মিথ্যা বলেন, ওয়াদা রাখেন না, আমানতের খেয়ানত করেন। মানুষের সম্মান ও ইজ্জতের তোয়াক্কা করেন না লোভী ও স্বার্থপর হয়ে থাকেন। যেখানে মালিক আর কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে এক রুক্ষ,শুষ্ক ও কৃত্রিম সম্পর্ক বিদ্যমান সেখানে সবাই নিজ নিজ স্বার্থ উদ্ধার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এই স্বার্থান্ধতার ফলে মালিক ও অধীন্স্তরা দুটি মারমুখী প্রতিদ্বন্দ্বী দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। মালিক পক্ষের অপরের প্রতি সম্মানবোধ এবং মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাবে মালিক ও বেতনভুক্ত অধীনস্তদের মধ্যে এক নিরন্তর দর কষাকষি চলে। পারস্পরিক সৌহার্দপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে না ওঠায় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্তদের সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক ব্যতিরেকে কোনো প্রতিষ্ঠানের উন্নতি-অগ্রগতি একেবারে অসম্ভব।

একজন মালিকের কী ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি থাকা উচিত, সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ সূরা : কাসাসে হজরত শোয়াইব ও হজরত মুসা (আ.) এর ঘটনা বর্ণনা করে ব্যাপক অর্থবহ ইঙ্গিত দিয়েছেন। হজরত মুসা (আ.) অনেক দিন পর্যন্ত শোয়াইব (আ.) এর অধীনস্থ হিসেবে কাজ করেছেন। তাকে নিয়োগ করার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আপনার ওপর অহেতুক কষ্টের বোঝা চাপিয়ে দিতে চাই না। আল্লাহর মর্জিতে আপনি আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।’ ওই আয়াত থেকে এ কথা সুস্পষ্ট প্রতিভাত হয় যে, একজন মুসলমান শিল্প মালিকের কাঙ্খিত লক্ষ্য টাকা-পয়সা নয়, বরং তাকে দরদি ও সৎকর্মশীল হতে হবে। তিনি অধীনস্তদেরকে শুধু খাটিয়ে মারবেন না। অথচ যদি কেউ নিজেকে ইসলামপন্থী দাবি করেন আবার ব্যক্তিজীবনে বিলাসী জিন্দেগী যাপন করেন, অপচয় ও অপব্যয় করেন, অঝথা বকা ঝকা করেন, গালিগালাজ করেন, অন্যের প্রাপ্য দিতে গড়িমসি করেন তাকে কি বলা যায়? সে নি:সন্দেহে মুনাফিক ও প্রতারক।

নবী করিম (সা.)অধীনস্থ-মালিকের সম্পর্কের ব্যাপারে বলেছেন, যারা তোমাদের কাজ করবে তারা তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ এদের তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ, এদের সঙ্গে তোমাদের সম্পর্ক প্রভু-ভৃত্যের নয় বরং এরা আর তোমরা ভাই ভাই। একজন ভাই তার সহোদর থেকে যা কিছু আশা করতে পারে, পেতে পারে তারাও তোমাদের কাছে তাই আশা করতে পারে। তাই তাদের জন্য কষ্টকর হয় এমন কাজের বোঝা তাদের ওপর চাপিয়ে দিও না। অগত্যা তা যদি করাতেই হয় তবে নিজে তাদের সর্বতোভাবে সাহায্য কর। অথচ ছুটির দিনেও বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানো, কোন বিনিময় ছাড়া অতিরিক্ত সময় খাটানো এমনকি জরুরী প্রয়োজনেও ছুটি না দেয়ার মত জঘন্য মানসিকতার নীচু প্রকৃতির লোকজন যখন নিজেদেরকে ইসলাম প্রেমিক বলে প্রচার করে তা রীতিমত হাস্যকর হয়ে ওঠে।

ইসলাম মালিককে সহনশীল হতে শিক্ষা দেয়। দোষত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে মাফ করে দিতে উৎসাহিত করে। একদিন এক সাহাবি এসে নবী করিম (সা.) কে প্রশ্ন করেন, হুজুর চাকর-খাদিমদের অপরাধ কতবার ক্ষমা করব? নবী করিম (সা.) চুপ করে রইলেন। ওই সাহাবি আবার প্রশ্ন করলে নবী করিম (সা.) ব্যাকুল হয়ে বলে উঠলেন, প্রত্যেক দিন ৭০ বার হলেও ক্ষমা করো। হজরত আনাস (রা.) বলেন, আমি নবী করিম (সা.) এর সঙ্গে ১০ বছর অতিবাহিত করেছি, তার সেবা করেছি কিন্তু তিনি কোনোদিন আমাকে ভর্ৎসনা করেননি, কোনো দিন বলেননি, এটা এভাবে কেন করেছ? বা ওটা ওইভাবে কেন করনি? নবী করিম (সা.) আরও বলেন, তোমরা যা পরিধান করবে, যা খাবে তোমাদের চাকরদেরও তা পরিধান করাও এবং তা খাওয়াও। সাহাবায়ে কেরাম যেন এর বিপরীত ভাবতেই পারতেন না। অথচ কেউ যদি নিজেকে ইসলামের ধারক বাহক হিসাবে দাবি করেন, নিজেকে দাঈ ইলাল্লাহ হিসাবে পরিচয় দেন অথচ সর্বত্র বৈষম্য চর্চা করেন, ন্যায্য অধিকার থেকে অপরকে বঞ্চিত করেন, যৌক্তিকতা ও আইন লংঘন করেন-তাকে কি বলা যায়?

হজরত ওমর (রা.) একবার বলেছিলেন, আল্লাহ ওই জাতিকে লানত করুন, যারা নিজেদের চাকরদের নিয়ে একসঙ্গে খেতে ঘৃণা বোধ করে। এ কথা শুনে হজরত সাফওয়ান (রা.) বলে উঠলেন আল্লাহর কসম, আমরা এ ঘৃণাবোধ করি না। অধিকন্তু নিজেদের ওপরও আমরা তাদের প্রাধান্য দিয়ে থাকি। ইসলাম অধীনস্থকে বলে নিজের মালিকের হক আদায়ে সচেষ্ট থাকতে। সে যেন তাতে কোনো প্রকার ফাঁকি না দেয়। অপরদিকে মালিককে সহনশীল, হৃদয়বান এবং সহানুভূতিসম্পন্ন হতে শিক্ষা দেয়। মালিক নিজের মনের মধ্যে অধীনস্থকে কোনো প্রকার শোষণের অভিপ্রায়ও রাখতে পারবে না। স্বাস্থ্যহানিকর ও তার সাধ্যাতীত কোনো কাজে তাকে নির্দয়ভাবে নিযুক্ত করতে পারবে না বরং সে অধীনস্থের কষ্টকে নিজের কষ্ট বলে মনে করবে। সমব্যথী হয়ে তার কল্যাণ সাধনে সচেষ্ট থাকবে, নিজের আনন্দের ভাগী হবে, তাকে আত্মীয়তার স্নিগ্ধ পরিবেশে রাখবে, যাতে সে কোনো রকমের হৃদ্যতার অভাব অনুভব না করে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১২:৩০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×