এক.
জীর্ণ শীর্ণ শরীর! দুটি বাচ্চাসহ এক নি:স্ব মহিলা। নোংরা ও ছেঁড়া পোশাক! হাতে একটি থলে। এক নজর দেখলেই তার নি:স্ব ও অসহায় অবস্থা স্পষ্ট বুঝা যায়।করুণ চাহনি, দুর্বল দেহ ও কান্নাভেজা আকুতি। দুমুঠো অন্নের আশায় ছুটে আসা সেরা সৃষ্টি। একদিকে কি বেদনাদায়ক অবস্থা! আরেকদিকে আনন্দ উৎসব।খাবার টেবিলে পরিবেশনকারীর অতিথি আপ্যায়নে আন্তরিকতার সর্বোচ্চ বহি:প্রকাশ! চাহিদার মাত্রাতিরিক্ত খাবার প্লেটে দেয়ায় খাদ্য অপচয়। একজন বুভুক্ষ কংকালসার মানুষের কাছে এটা নেহায়েৎ খারাপ কাজ।অথচ তার সাথে সুন্দর ব্যবহার, উত্তম ভাষায় কথা বলার মতো সৌজন্যতা দেখানোর নূন্যতম প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেনা কেউ।তারপরও পেটের ক্ষুধা নিবারণে সে হজম করে হেয়কর কথা, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও ঘৃণাভরা বিরক্তিকর দৃষ্টি।
দুই.
সম্পদ, পেশা ও শিক্ষা খুব গুরুত্বের সাথে উচ্চারিত।গাড়ি, বাড়ি, জমি, বংশও বিবেচিত।কিন্তু ধর্ম চর্চা ও বিশ্বাসগত বা আক্বিদাগত ব্যাপারগুলো অনেকটাই উপেক্ষিত। চারপাশের মানুষজনের সন্তুষ্টির আশায় কর্মব্যস্ততা অথচ স্রষ্টাকে খুব স্বল্প সংখ্যক মানুষই আনন্দ উল্লাসের সময়টাতেও স্মরণ করেন। শারীরিক-মানসিক-আর্থিক ক্ষতি, অপচয়-অপব্যায়, কষ্টকর হয় তবু অনেক কিছু সাদরে গ্রহণীয় হয় সামাজিকতা দেখাতে কিংবা আধুনিকতা প্রমাণে।দুনিয়ার ওপরে পরকালকে প্রাধান্য দেয় খুব কম সংখ্যক মানুষই তাইতো দুনিয়া কেন্দ্রিক কর্ম-চিন্তা-তৎপরতার আধিক্য।
তিন.
পরনিন্দা, ঠাট্টা-কৌতুক, হাসি-মশকরা, পরের দোষ চর্চা অনেক নারীরই বেশ পছন্দনীয়। নিজেকে খুব ভাল বলে প্রমাণের চেষ্টা, কৃতিত্ব নিজে নিয়ে দোষ অন্যের ওপরে চাপাতে সক্ষমরা চালাক ও বুদ্ধিমান বলে অনেকের কাছে স্বীকৃত। অন্যকে ছোট করে নিজে যে বড় হওয়া যায় না এই বোধটা মৃত। অনেক বাকপটু কথায় অশ্লীল শব্দমালা ব্যবহার করেও রুচিশীল মানুষ হিসাবে পরিচিত।যারা সবসময় পাপ পূণ্য বেছে চলেন, হালাল হারাম বিবেচনা করে চলেন তারা অধিকাংশেরই অপ্রিয়।
চার.
কে কোন চ্যানেল দেখে, কোন অনুষ্ঠান দেখে, কত দামি মোবাইল ব্যবহার করে, কত দামি পোশাক পড়ে, কার বাচ্চা কেমন, কোথায় কোন প্রেমের ঘটনা কিংবা প্রণয় জনিত সংকট তৈরি হয়েছে তা আলাপচারিতার অন্যতম উপজীব্য বিষয়। যেখানে যত বেশী নোংরামী সেখানে তত বেশী জনস্রোত। যে যত বেশি নীতি নৈতিকতা ও আদর্শ বিসর্জন দিতে পারে সে ততবেশি জনপ্রিয়তা পায়।ভদ্রতা, বিনয়, লজ্জাশীলতা অনেকক্ষেত্রেই দুর্বলতা ও পশ্চাদপদতা বলে বিবেচিত হয়।
পাঁচ.
ধুমপানে বিষপান তবু এর সপক্ষে ধুমপানকারীর অসংখ্য যুক্তি।পানের সাথে জর্দা খাওয়াটা যে ক্ষতিকর তা সহজে বুঝতে চাননা কোন পান খাদক।যারা কাজ বেশি করেন তারা কথা কম বলেন আর যারা কাজ কম করেন তারা কথা বেশি বলেন। যারা নিজের কাজে বেশী ফাকি দেয় তারাই অন্যের সমালোচনায় বেশী মশগুল থাকে।যা কিছু নতুন তার প্রতি ছোটদের একটু বেশীই আকর্ষণ। হউক তা হাতে চমৎকার করে মেহেদী দেয়া, নকশা পিঠা বানানো।
(চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





