somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনাদের পাড়ার রাজাদা (কাহিনী-৯)

১৫ ই জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(ঝড়ো হাওয়ার জন্য)

ভালো ফুটবল খেলার সুবাদে রাজাদা সরকারী পরিবহন দপ্তরে চাকরি করতেন। চাকরিটা তেমন কিছুনা তবে খেলাটা খেলতে হ'তো। টীমকে জেতাতে হ'তো। মাঠে যেতেই হ'তো। রাজাদাও ফুটবল খেলা নিয়ে মেতে ছিলেন।ফুটবলটাও রাজাদা ভালো খেলতেন। রাজাদা আমাদের টীমের কোচও ছিলেন।

কালের নিয়মে রাজাদার খেলা পড়তে শুরু করলো । রাজাদা তখন কোচ দিতে শুরু করলেন । রাজাদার কোচিংয়ে পরিবহন দপ্তরের টীম একাধিকবার আন্ত-রাজ্য চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

সব সরকারী দপ্তরে যা হয়, রাজাদার দপ্তরেও তাই হতে শুরু হ'লো। দাবী উঠলো রাজাদাকেও ফিল্ডে যেতে হবে। শুধু খেলা নিয়ে থাকলে চলবেনা ।

রাজাদার পদমর্যাদা ছিলো বাসের কনডাকটার। সুতরাং রজাদাকেও বাসে যেতে হবে কনডাকটারি করতে ।
অবশেষে একদিন রাতের ট্রিপের কনডাকটার করে দপ্তর থেকে আদেশ এলো । রাজাদা হাসিমুখে ব্যাগ হাতে নিয়ে রওনা হলেন।

এই ট্রিপটা রাতের, একরাত থেকে পরের রাতে আবার ফিরে আসতে হবে। আমরা রাজাদার কনডাকটারি দেখতে বাসষ্ট্যান্ডে দাড়িয়ে রাজাদাকে অভিনন্দন জানিয়ে বিদায় দিলাম ।

রাজাদা একরাত কাটিয়ে পরের দিন সকালে ফিরে এলেন। চাকরি জীবনে এটাই রাজাদার প্রথম এবং শেষ কনডাকটারি । রাজাদাকে আর কোনোদিন কনডাকটারি করতে হয়নি।

আমরা ভাবলাম পরিবহন দপ্তরের কর্তাদের বোধোদয় হয়েছে। একজন খেলোয়ারকে তার প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়ে রাজাদার মান রাখা হ'লো।

কিন্তু ব্যাপার তা মোটেও ছিলনা । ব্যাপারটা হয়েছিলো বিগত দশ বছরে পরিবহন দপ্তরে রাতের ট্রিপে (দুটো ট্রিপ মিলিয়ে) ৮০০/- টাকার বেশী টিকিট কোনোদিন বিক্রি হয়নি। রাজাদা মাত্র দুটো ট্রিপেই ২৪০০/- টাকারও বেশী টিকিট বিক্রি করেছিলেন।

যারা রাজাদাকে ফিল্ড ডিউটিতে যেতে হবে বলে গলা ফাটিয়েছিলো তারাই রাজাদাকে খেলার মাঠে ফিরে যেতে হবে বলে দরবার শুরু করলো।

রাজাদা এখনও মাঠেই আছেন। অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। সম্মান পেয়েছেন। ফুটবলকে তিনি এখনও অনেক দিয়ে চলেছেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৮
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×