(ঝড়ো হাওয়ার জন্য)
ভালো ফুটবল খেলার সুবাদে রাজাদা সরকারী পরিবহন দপ্তরে চাকরি করতেন। চাকরিটা তেমন কিছুনা তবে খেলাটা খেলতে হ'তো। টীমকে জেতাতে হ'তো। মাঠে যেতেই হ'তো। রাজাদাও ফুটবল খেলা নিয়ে মেতে ছিলেন।ফুটবলটাও রাজাদা ভালো খেলতেন। রাজাদা আমাদের টীমের কোচও ছিলেন।
কালের নিয়মে রাজাদার খেলা পড়তে শুরু করলো । রাজাদা তখন কোচ দিতে শুরু করলেন । রাজাদার কোচিংয়ে পরিবহন দপ্তরের টীম একাধিকবার আন্ত-রাজ্য চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
সব সরকারী দপ্তরে যা হয়, রাজাদার দপ্তরেও তাই হতে শুরু হ'লো। দাবী উঠলো রাজাদাকেও ফিল্ডে যেতে হবে। শুধু খেলা নিয়ে থাকলে চলবেনা ।
রাজাদার পদমর্যাদা ছিলো বাসের কনডাকটার। সুতরাং রজাদাকেও বাসে যেতে হবে কনডাকটারি করতে ।
অবশেষে একদিন রাতের ট্রিপের কনডাকটার করে দপ্তর থেকে আদেশ এলো । রাজাদা হাসিমুখে ব্যাগ হাতে নিয়ে রওনা হলেন।
এই ট্রিপটা রাতের, একরাত থেকে পরের রাতে আবার ফিরে আসতে হবে। আমরা রাজাদার কনডাকটারি দেখতে বাসষ্ট্যান্ডে দাড়িয়ে রাজাদাকে অভিনন্দন জানিয়ে বিদায় দিলাম ।
রাজাদা একরাত কাটিয়ে পরের দিন সকালে ফিরে এলেন। চাকরি জীবনে এটাই রাজাদার প্রথম এবং শেষ কনডাকটারি । রাজাদাকে আর কোনোদিন কনডাকটারি করতে হয়নি।
আমরা ভাবলাম পরিবহন দপ্তরের কর্তাদের বোধোদয় হয়েছে। একজন খেলোয়ারকে তার প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়ে রাজাদার মান রাখা হ'লো।
কিন্তু ব্যাপার তা মোটেও ছিলনা । ব্যাপারটা হয়েছিলো বিগত দশ বছরে পরিবহন দপ্তরে রাতের ট্রিপে (দুটো ট্রিপ মিলিয়ে) ৮০০/- টাকার বেশী টিকিট কোনোদিন বিক্রি হয়নি। রাজাদা মাত্র দুটো ট্রিপেই ২৪০০/- টাকারও বেশী টিকিট বিক্রি করেছিলেন।
যারা রাজাদাকে ফিল্ড ডিউটিতে যেতে হবে বলে গলা ফাটিয়েছিলো তারাই রাজাদাকে খেলার মাঠে ফিরে যেতে হবে বলে দরবার শুরু করলো।
রাজাদা এখনও মাঠেই আছেন। অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। সম্মান পেয়েছেন। ফুটবলকে তিনি এখনও অনেক দিয়ে চলেছেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



