সামনেই বড়দিন। পিকনিকের মরসুম চলছে । সবাই পিকনিকে মেতে উঠেছে। আমাদেরও একটা পিকনিক না করলে মান সন্মান থাকেনা। আমাদের এখানে মাত্র একটাই ফরেষ্ট।এখানে পরিযায়ী পাখিরা আসে। পিকনিক করতে নানা বাধা নিষেধ। মাইক বাজানো নিষেধ। নাচানাচি নিষেধ।আগুনও জ্বালানো নিষেধ। তবে পিকনিক হবে কিভাবে?
একদিন রাজাদা বললো, কিরে তোরা পিকনিক করবি না? সবাই পিকনিক করছে।
কোথায় পিকনিক করবো? জায়গাতো পাচ্ছিনা।
সেকিরে, কত জায়গা রয়েছে, জায়গা খুঁজে নিতে হয়। বিজ্ঞের চালে রাজাদার উত্তর।
তোরা যোগার কর, বাজার হাট কর। পরশু সকালে আমরা ভোরের ট্রেনে বর্ডারে চলে যাবো। ওখানে নদীর ধারে পিকনিক করে বিকেলের ট্রেনে ফিরে আসবো।
আরে তাইতো, ওখানে নদীটা দারুন, সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ, মনোরম দৃশ্য । নদীর ধারেই ষ্টেশন। ওখানেই ট্রেন থামে। বর্ডার ষ্টেশন। ওপারে ট্রেন যায়না। আবার বিকেলে ট্রেন ফিরে আসে। আমরা সকালে গিয়ে পিকনিক করে বিকেলেই ফিরে আসতে পারবো । বাঃ, রাজাদা জিনিয়াস।
আমরা পরের দিন সব যোগার করে ফেললাম।
পরের দিন ভোর বেলায় তৈরী হয়ে ট্রেন ধরে চলে এলাম । যথাসময়ে ষ্টেশনে নেমে নদীর ধারে আমরা সব গোছগাছ করে পিকনিকে মেতে উঠলাম।
রাজাদা নেমেই বললো আমাকে কেউ ডিসটার্ব করবিনা বলে কতগুলো কবিতার বই নিয়ে দুরে একটা গাছের নিচে চলে গেল।
কিন্তু উনুন যে কিছুতেই ধরানো যাচ্ছেনা। কাঁচা খড়ি, কিছুতেই ধরছেনা। সকালের জলখাবারই তৈরী হয়নি। অজিত খড়ি কিনেছিল।অজিতটার বুদ্ধি কম, কিন্তু রাইট-উইঙ্গে ভালো খেলে,বেশী বলতেও পারছিনা।
যাইহোক অনেক চেষ্টার পর কোনোমতে উনুন ধরিয়ে জল খাবার তৈরী হলো। খিদের মুখে সব সাবার।
রাজাদা বললো আমাকে এক ফ্লাস্ক কফি আর এক প্যাকেট বিস্কুট দিয়ে যা। কেউ ডিসটার্ব করবিনা বলে 'সুভাষ মুখুজ্জে' আউরাতে লাগলো।
দুপুর গড়াতে চললো, আমাদের রান্না আর হয়না। উনুনই ধরেনা। এদিকে ফিরে যাবার ট্রেনতো বেলা তিনটেয়।
রাজাদা, শুনছো, কিছু একটা করো, নয়তো ট্রেন ছেড়ে দেবে। আর এই ডিসেম্বর মাসের শীতের রাতে সবকটাকে ঠান্ডায় প্লাটফর্মে শুয়ে কাটাতে হবে।না খেয়ে যে মরবো। আবার কাল সেই বিকেলে ট্রেন। কি করি বলতো।
'যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো'। রাজাদা 'সুভাষ মুখুজ্জে' আউরাচ্ছে।
ও রাজাদা শুনছো । আচ্ছা কবিকে নিয়ে পড়া গেলোতো।
'তারপর যেতে যেতে এক নদীর সঙ্গে দেখা' - রাজাদা একরাশ বিরক্তি নিয়ে উঠে বললো, তোদের সবার ঘরি একঘন্টা পিছিয়ে দে।
ট্রেনের ড্রাইভার, হেল্পার,গার্ড সবাইকে নিয়ে মহানন্দে আমরা পিকনিক করলাম। মাঝে গার্ড একবার সময় জেনে নিল। এখনও একঘন্টা দেরী আছে।
আমরা সময়মত মানে নির্দ্ধারিত সময়ের একঘন্টা পরে ফিরতি ট্রেনে চেপে বসলাম।
'কেউ কথা রাখে কেউ কথা রাখেনা' - রাজাদা ট্রেনেও 'সুভাষ মুখুজ্জে'-তে ডুবে রয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



