somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনাদের পাড়ার রাজাদা (কাহিনী-১১)

১৮ ই জুন, ২০০৭ বিকাল ৫:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সামনেই বড়দিন। পিকনিকের মরসুম চলছে । সবাই পিকনিকে মেতে উঠেছে। আমাদেরও একটা পিকনিক না করলে মান সন্মান থাকেনা। আমাদের এখানে মাত্র একটাই ফরেষ্ট।এখানে পরিযায়ী পাখিরা আসে। পিকনিক করতে নানা বাধা নিষেধ। মাইক বাজানো নিষেধ। নাচানাচি নিষেধ।আগুনও জ্বালানো নিষেধ। তবে পিকনিক হবে কিভাবে?

একদিন রাজাদা বললো, কিরে তোরা পিকনিক করবি না? সবাই পিকনিক করছে।
কোথায় পিকনিক করবো? জায়গাতো পাচ্ছিনা।
সেকিরে, কত জায়গা রয়েছে, জায়গা খুঁজে নিতে হয়। বিজ্ঞের চালে রাজাদার উত্তর।
তোরা যোগার কর, বাজার হাট কর। পরশু সকালে আমরা ভোরের ট্রেনে বর্ডারে চলে যাবো। ওখানে নদীর ধারে পিকনিক করে বিকেলের ট্রেনে ফিরে আসবো।

আরে তাইতো, ওখানে নদীটা দারুন, সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ, মনোরম দৃশ্য । নদীর ধারেই ষ্টেশন। ওখানেই ট্রেন থামে। বর্ডার ষ্টেশন। ওপারে ট্রেন যায়না। আবার বিকেলে ট্রেন ফিরে আসে। আমরা সকালে গিয়ে পিকনিক করে বিকেলেই ফিরে আসতে পারবো । বাঃ, রাজাদা জিনিয়াস।

আমরা পরের দিন সব যোগার করে ফেললাম।

পরের দিন ভোর বেলায় তৈরী হয়ে ট্রেন ধরে চলে এলাম । যথাসময়ে ষ্টেশনে নেমে নদীর ধারে আমরা সব গোছগাছ করে পিকনিকে মেতে উঠলাম।

রাজাদা নেমেই বললো আমাকে কেউ ডিসটার্ব করবিনা বলে কতগুলো কবিতার বই নিয়ে দুরে একটা গাছের নিচে চলে গেল।

কিন্তু উনুন যে কিছুতেই ধরানো যাচ্ছেনা। কাঁচা খড়ি, কিছুতেই ধরছেনা। সকালের জলখাবারই তৈরী হয়নি। অজিত খড়ি কিনেছিল।অজিতটার বুদ্ধি কম, কিন্তু রাইট-উইঙ্গে ভালো খেলে,বেশী বলতেও পারছিনা।

যাইহোক অনেক চেষ্টার পর কোনোমতে উনুন ধরিয়ে জল খাবার তৈরী হলো। খিদের মুখে সব সাবার।
রাজাদা বললো আমাকে এক ফ্লাস্ক কফি আর এক প্যাকেট বিস্কুট দিয়ে যা। কেউ ডিসটার্ব করবিনা বলে 'সুভাষ মুখুজ্জে' আউরাতে লাগলো।

দুপুর গড়াতে চললো, আমাদের রান্না আর হয়না। উনুনই ধরেনা। এদিকে ফিরে যাবার ট্রেনতো বেলা তিনটেয়।

রাজাদা, শুনছো, কিছু একটা করো, নয়তো ট্রেন ছেড়ে দেবে। আর এই ডিসেম্বর মাসের শীতের রাতে সবকটাকে ঠান্ডায় প্লাটফর্মে শুয়ে কাটাতে হবে।না খেয়ে যে মরবো। আবার কাল সেই বিকেলে ট্রেন। কি করি বলতো।

'যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো'। রাজাদা 'সুভাষ মুখুজ্জে' আউরাচ্ছে।
ও রাজাদা শুনছো । আচ্ছা কবিকে নিয়ে পড়া গেলোতো।

'তারপর যেতে যেতে এক নদীর সঙ্গে দেখা' - রাজাদা একরাশ বিরক্তি নিয়ে উঠে বললো, তোদের সবার ঘরি একঘন্টা পিছিয়ে দে।

ট্রেনের ড্রাইভার, হেল্পার,গার্ড সবাইকে নিয়ে মহানন্দে আমরা পিকনিক করলাম। মাঝে গার্ড একবার সময় জেনে নিল। এখনও একঘন্টা দেরী আছে।

আমরা সময়মত মানে নির্দ্ধারিত সময়ের একঘন্টা পরে ফিরতি ট্রেনে চেপে বসলাম।

'কেউ কথা রাখে কেউ কথা রাখেনা' - রাজাদা ট্রেনেও 'সুভাষ মুখুজ্জে'-তে ডুবে রয়েছে।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×