somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বার্থনীতি

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৫:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলায় যখনই কোন বিষয় নিয়ে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করতাম তখনই শুনতে হতো – ‘এইটা বড়দের বিষয়, এই ব্যপারে তুমি কথা বলতে পারোনা।’ হ্যালো, এইযে বড়রা, জি আপনাদেরই বলছি! আমি তো জানতাম যে বড়রা বুদ্ধিমান, জ্ঞ্যানী, বিজ্ঞ, তাঁরা অনুকরণীয়, বাস্তবিক অর্থে তারাই একদিন আমাদের আদর্শ হবে। কিন্তু, আপনারা আমাদের যে পথ দেখাচ্ছেন আর অন্য কেউ হলেও আমি অন্তত সে পথে হাটতে চাইনা। মাননীয় নেতারা আপনারা কিছু মনে করবেন না, আমার বাবা গ্রামের একজন সাধারন কৃষক। আমি কোনদিন ঢাকা শহর স্বচক্ষে দেখিনি কিন্তু, খুব ইচ্ছা ছিল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য ঢাকা যাব। আমার হতদরিদ্র পিতা যথারীতি পরীক্ষা দেয়ার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেন। অতি উৎসাহে তিনি প্রায়ই কেদে ফেলেন এই ভেবে যে অজ গ্রামের একজন দরিদ্র কৃষকের সন্তান হয়েও আমি জিপিএ ৫ পেয়েছি মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক দুই পরীক্ষাতেই। আমরা বাস এ চড়ে ঢাকা এসে দেখলাম অনাকাঙ্খিত রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। অস্রুসজল চোখে পিতা পুত্র দুইজনই গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার জন্য বাস কাউন্টার এ এসেছি ঠিক ঐ সময় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শুরু হলো প্রচন্ড গোলাগুলি। ছাত্র পুলিশ সম্মুখ যুদ্ধ। দৌড়িয়ে রাস্তা পার হবার সময় গুলিবিদ্ধ হলেন আমার বাবা।

অনেক কিছুই না বলা রয়ে গেল তাঁর। শুধু কথা বলল তাঁর অসম্ভব বিস্ময় ভরা চোখ। প্রচন্ড ক্লান্ত চোখগুলি যেন বলছিল- এই ছেলেপুলে গুলো যেই খাবার গুলো খেয়ে পিতার বুকে গুলি করার মত শক্তি যুগিয়েছে সেই খাবার গুলোর সত্যিকারের যোগান দেই আমি আর আমার মত লাখো কৃষক, কিন্তু এ কি সম্মান তাঁরা আমাকে দিল ?

পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে আমি কলমের বদলে হাতে নিলাম লাঙ্গল। নামকরা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন স্বনামধন্য প্রফেসর নয় বরং আমার অভিভাবক হলেন স্বয়ং সৃষ্টীকর্তা। কোন মেধাবী ছাত্র নয় বরং আমার একমাত্র বন্ধু হলো আমার হালের বলদ গরুটি। আমার মা এবং একমাত্র বোন সংসার চালানোর তাগিদে বাড়িতে বাড়িতে ঝিয়ের কাজ নিলো। আর আমি প্রায়ই একা একাই স্বপ্ন দেখি কিন্তু, নিজেকে নিয়ে নয় আমার বয়সের সবাইকে নিয়ে। নিশ্চয় আমার বাবা কোনদিনই চাননি যে আমি এই অবস্থায় থাকি।

পাঠক, উপরের গল্পটি একান্তই আমার কল্পনা হলেও প্রেক্ষাপট কিন্তু বাস্তব।

এই যে নেতারা! আপনারা ক্ষমতায় যাবেন যান কিন্তু, আমাদের জীবন নিয়ে খেলা করছেন কেন? আপনাদের মধ্যে কি মনুষত্ব্যবোধ বলে কিছুই নেই? মানুষ পোড়ানো আপনাদের কাছে একটা অতি সাধারন ব্যপার হয়ে গেছে। খুব তো আপনারা অহিংশতাঁর নামে প্রতিনিয়ত বক্তৃতা কপচাচ্ছেন কিন্তু কোথায় সেই বোধ আপনাদের? আরে আপনারা যেই দেশ নিয়ে এত্তটা চিন্তিত সেই দেশকে যে আপনারাই রীতিমত রসাতলে নিচ্ছেন সে খেয়াল কি আপনাদের আছে?

আর যারা ছাত্র রাজনীতি করছেন তাদের বলতে চাই- শিক্ষাটা কি আপনারা উত্তরাধিকার সূত্রে নিয়ে এসেছেন যে যাকে ইচ্ছা যখন ইচ্ছা যতটুকু ইচ্ছা বিলি করবেন? আমরা আপনাদের মত মহান নেতা হতে চাইনা, নাম কা ওয়াস্তে তথাকথিত শহীদ হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা আমাদের নেই। আর রাজনীতির নামে আপনারা যা করছেন তা নিয়ে কথা বলতেও আমরা ঘৃনাবোধ করি।

মনে রাখবেন আপনাদের বাবাও একজন কৃষক হতে পারে। কি আদর্শ রেখে যাচ্ছেন আপনারা আপনাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ? কিভাবে কলম ছেড়ে অস্ত্র ধরতে হবে নাকি কিভাবে নিজেকে ব্যক্তিত্যসম্পন্ন ভাবার জন্য মাদকের আশ্রয় নিতে হবে ? আর মেধা......হাহাহাহা! এই শব্দটির সাথে আপনারা পরিচিতই না কারন আপনাদের জন্য ভাইভা বোর্ডে অপেক্ষা করছে সমমনা এবং একই রাজনৈতিক আদর্শের কোন শিক্ষক। আপনারা বরুং এক কাজ করুন, দয়া করে নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেদের নাম সরিয়ে আমাদের একটু সূযোগ দিন। অর্থ, ক্ষমতা আর মাদকের জঘন্য দুনিয়া আপনাদের এতটাই আসক্ত করে রেখেছে যে আপনারা নিজেদের মত আমাদের সবাইকেই পশু মনে করেন। আর তাইতো, আপনারা প্রতিদিন লাশের মিছিলে সামিল হন।

লেখাটা অনেক বেশি বড় হয়ে যাচ্ছে হয়তো পাঠকেরা বিরক্ত হতে পারেন। আসলে, ছাত্র রাজনীতি নিয়ে আমার কোন ব্যক্তিগত আক্রোশ নেই। আমিও চাই ছাত্র রাজনীতি একটি চলমান প্রক্রিয়া হোক, কিন্তু তা শুধু রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকুক, স্বার্থনীতি না হোক।

এদেশের সকল রাজনৈতিক নেতা এবং ছাত্রদের জন্য একটি কথা বলতে চাই – আজ হয়তো আপনাদের হাতে অস্ত্র আছে, আপনারা লড়াই করছেন একটি বাংলাদেশে। কিন্তু, মনে রাখবেন আমরা অনেক সহ্য করেছি, সহ্যের বাধ ভাঙল বলে! একটি বাংলাদেশ আপনাদের মুখ বুজে সহ্য করছে কিন্তু এই দেশের ভেতর ১৬ কোটি বাংলাদেশ আপনাদের আর সহ্য করবেনা। রাজপথেই দেখা হবে আপনাদের সাথে। সেদিন দেখব আপনাদের অস্ত্রের জোর বেশি নাকি আমাদের সাহসের। আপনাদের জন্য অপেক্ষায় রইলাম।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×