somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি যেভাবে বিশ্বস্থ সুত্রে, কনে দেখলাম!

১৬ ই অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ১১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার মেয়ে দেখতে যাওয়া মানেই, অদ্ভুত সব কান্ড ঘটা, প্রথমবার মেয়ের গায়ে স্যুপ পরে গিয়েছিল। তাতে ক্যাচাল বেঁধে গেল, মেয়ে ঘুষি বাগিয়ে ওয়েটারের দিকে ছুটে গেল। ওয়েটার ভয় পেয়ে দৌড় দিলো মেয়েও ওয়েটারের পিছনে পিছনে দৌড়......

আমি ভয় পেয়ে দরজা দিয়ে বাইরে দৌড়.....

পরে কি হলো আর খবর নিতে যাইনি। তবে অবিশ্বস্ত সুত্রে খবর পেয়েছিলাম আমি চলে আসাতে নাকি মেয়ে খেঁপে গিয়েছিল। ওয়েটারকে রেখে আমাকে ট্যাংগাবে সেই পণ করেছিল। আমি এর পর থেকে ওই রেস্টুরেন্টের ছায়াও মাড়াইনি!
ওটা মেয়ের প্রিয় রেস্টুরেন্ট ছিলো!!


দ্বিতীয়বার মেয়ে দেখতে গিয়ে আগেরবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালাম এবার আর স্যুপ অর্ডার করলাম না। কিন্তু মেয়ে দেখি নাছোড়বান্দা সে স্যুপ খাবেই, আমিও একদম ঘাড় ত্যাড়ার মতো স্যুপ অর্ডার দিলাম না। মেয়েও আমার দিকে মিস্টি মিস্টি হেসে বেশ কিছু দামি পদের অর্ডার দিয়ে দিলো। মেয়ে যথেষ্ট সুন্দরী। আমি এবার কপাল খুলেছে মনে করে সব কিছুর জন্য তৈরি হচ্ছিলাম। এমনকি মেয়ে যাওয়ার সময় মনে হলো আমার দিকে চেয়ে চোখ টিপ ও দিয়েছিল।

মনের মধ্য লাড্ডু ফূটছিল কি হয় জানার জন্য! পরেরদিন রেজাল্ট আসলো আমি ১০০ তে ০ পেয়ে সফলতার সাথে ফেল করেছি!!

এবার বিশ্বস্থ সুত্রে খবর পেলাম মেয়ে আমাকে কিপটা উপাধি দিয়েছে। আমি নাকি রেস্টুরেন্টে কিছুই খাওয়াইনি। মনে মনে কষ্ট পেলাম।

এমনকি আমার শত্রুও আমাকে কোনদিন আমাকে এ অপবাদ দিবে না। কারন তাকে মারলে বিষ খাইয়ে মারব দরকার হলে, কিন্তু না খাইয়ে নই।

এরপরে অনেকদিন গত হলো। আমি আর মেয়ে দেখার কথা মুখে আনছি না। এর মধ্যই ঘরে গুজুর ফুজুর শুরু হয়ে গেল আবার। এবার আর পাত্তা দিচ্ছিনা ভাব করেও ওরা কি বলা বলি করছে সেটা জানার জন্য বিশ্বস্থ সুত্রকে লাগালাম। বিশ্বস্থ সুত্রের আমার সব ব্যাপারেই আগ্রহ!!

বিশ্বস্ত সুত্র খবর আনলো। এই শুক্রবারে আবার কনে দেখা অভিযান আরম্ভ হবে এবার সাথে থাকবে বিশ্বস্থ সুত্র! আমি না করে দিলাম। বিশ্বস্থ সুত্র মন খারাপ করলো। আমি গা করলাম না।

দেখা গেলো আমি আর বিশ্বস্থ সুত্র শুক্রবার সন্ধ্যায় একটা টেবিলে বসা। মেয়ে আসার নাম নেই। এর কিছুক্ষন পরেই দেখি হুড়মুড় করে জনা দশেক পাবলিক রেস্টুরেন্টে ঢুকে আমাদের দিকে কসাই যেমন খাসি দেখলে যেই ভাব নেই সেই ভাব নিয়ে " এই তো", " এই তো" বলে দৌড়ে আসল।

আমি দৌড় দেওয়ার প্রস্তুতি নিতেই বিশ্বস্থ সুত্র আমাকে চেপে ধরল।

দেখি অপুর্ব সুন্দরী এক মেয়ে আমাদের টেবিলে এসে বসল। তার পিছনেই এক জন দুই জন তিনজন, চারজন করে সবাই সেটিং মোতাবেক দাঁড়িয়ে গেল। যেন কেউ ওয়াই ফাই সিগন্যাল দিচ্ছে।

এই রেস্টুরেন্টের ওয়েটাররা দেখি বেশ করিৎ কর্মা বেশ রাজকীয় টেবিলের মতো একটা লম্বা টেবিল বানিয়ে ফেলল জোড়া দিয়ে দিয়ে।

আমি আর মেয়ে দুইজনে দুই প্রান্তে বসা দূর থেকে কি মেয়ে দেখব ভাবছিলাম, এমন সময় দেখি জনা দশেক পাবলিক গুলো কোথা থেকে ছোলা মুড়ি বের করে বিতরন করছে, আমি আর বিশ্বস্থ সুত্র তাজ্জব বনে গেলাম। বললাম " এসব কি?" তারা কেউ আমার কথা পাত্তায় দিলো না। এবার ভাবলাম থাক, পকেটের পয়সা বেচে যাচ্ছে।

এর পরেই যা দেখলাম আমি আর মেয়ে দেখার কথা চিন্তাও করতে পারলাম না। প্রথমবারের মেয়েটা আর দ্বিতীয় বারের মেয়েটা কোথা থেকে এসে আমাদের টেবিলে জয়েন করলো। আর বাকি দশ জন কোরাস ধরলো।

" দুলাভাই, দুলাভাই,
দুলা ভাই শুধু ছোলা খাই"

" দুলাভাই, দুলা ভাই
দুলাভাই শুধু ছোলা খাই"

আমি মনে মনে পণ করলাম এবারের পর থেকে আর বিয়ের নামই মুখে নিবো না। ওরা নাকি প্ল্যান করেই এসব করেছিল আমাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য।

কোন মতে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়েই বিশ্বস্ত সুত্র একটা ট্যাক্সি ঠিক করে ফেলল। উঠেই চোখ বন্ধ করলাম। হটাৎ ট্যাক্সি থামতেই দেখি। সামনে কাজি অফিস।

বিশ্বস্থ সুত্র আমাকে ধাক্কা দিয়ে ট্যাক্সি থেকে বের করে কাকে কাকে যেন ফোন দিতে ব্যস্ত হয়ে গেল।

বিয়ের পুরোটা সময় আমি তাজ্জব হয়ে ছিলাম। বিশ্বস্থ সুত্রের বান্ধবিরা হিহি করে হাসছিলো। আমি সাইন দেওয়ার সময় বিশ্বস্থ সুত্রের দিকে একবার তাকালাম সে আমার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ দিলো। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম!! মেয়েটাতো অদ্ভুত সুন্দর।।

পরিশিষ্ট: বিশ্বস্থ সুত্র বাসায় গিয়ে সবাইকে কি করে যেন ম্যানেজ করে ফেলল! বড় ভাবী এসে আমার কান টেনে বললেন, "তোরা দুই ভাই দুইটা বান্দর!! তোর ভাই আমারে আনসে এই বান্দর বনে। এখন তুই আমার বোনটারে আনসস"!!

২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - প্রমাণ

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:১২



ব্লগার সাহেব আমেরিকা থেকে লিখেছেন, “অমুক আসলে মুক্তিযোদ্ধা নন।”

আমি বন্ধুকে ফোন করলাম।
বললাম, “তুমি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?”

সে বলল, “বুঝতে পারছি না।”

“কেন?” আমি প্রশ্ন করলাম।

“১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×