somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Hachiko: A.Dog's.Story ছবিটি ভালোই মুগ্ধ করলো আমাকে

১২ ই জুন, ২০১৫ দুপুর ১২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কল্পনা করে দেখুন তো, আপনি আর বেঁচে নেই, আপনার যতো প্রিয় মানুষেরা- স্ত্রী, পুত্র, কন্যা- ক্ষয়ে যাওয়া সময়ের স্রোতে সবাই আপনাকে ধীরে ধীরে ভুলে যাচ্ছে। অথচ যে ট্রেন থেকে প্রতিদিন আপনি নামতেন, সে স্টেশনেই একটি প্রাণী খুব নিয়ম করে প্রতিদিন একই জায়গায় আসছে এই বিশ্বাস নিয়ে যে, আপনি হয়তো এখুনি ট্রেন থেকে নেমে তাকে নিয়ে বাড়ি ফিরবেন!!!
আমি বলছি না মানুষ নিষ্ঠুর। কিন্তু মানুষ ভুলে যায় এটা হলো বাস্তবতা। আপনার স্ত্রী, পুত্র, কন্যা- সবাই আপনাকে অনেক ভালোবাসে। আপনি অবশ্যই সে ভালোবাসাকে শ্রদ্ধা করেন। কিন্তু এমন এক অব্যক্ত ভালোবাসা প্রকৃতির কাছ থেকে পেয়েছে এমন এক প্রাণী, যাকে আমরা হরহামেশাই দেখি, কিন্তু পাত্তা দেই না। সেই প্রাণীটি হচ্ছে কুকুর।
Hachiko: A.Dog's.Story সিনেমাটি ২০০৯ সালের। মুভির রেটিং ও কাহিনী সংক্ষেপ জানতে পেরে অনেকদিন ধরে এমনিতেই বেশ লালায়িত ছিলাম কবে দেখবো মুভিটি। তারওপর যখন জানতে পারলাম কাহিনীটি একটি কুকুরের সত্য ঘটনা অবলম্বনে, তখন লালায়িত লালসা বেশ একটু বেশিই টের পেয়েছিলাম। যাই হোক, মুভিটি খুব সাদামাটা ক্লাসিক টাইপের মুভি। হয়তো অভ্যস্ত নয় এমন অনেকে মুভির শুরুতে ভাবতে পারেন এর কাহিনীর ধারাবাহিকতায় জোর খুব বেশি নয় হয়তো। তবে এটুকু আপনাকে নিশ্চিত করতে পারি, আপনি যদি আপনার হৃদয়ের অনুভূতিকে মোচড় খাওয়াতে পছন্দ করেন। তবে হাচিকো মুভিটি অবশ্যই আপনার জন্য।
সহজ-সাবলিল ও শান্ত গতির মুভিটিতে আপনি দেখবেন, কুকুরটিকে স্ট্রিট হতে পেয়ে প্রফেসর যথেষ্ট চেষ্টা করেন এর প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করতে। প্রফেসরের পরিবারের সবাই এতে বিরক্ত হয়। একটা বাইরের প্রাণীকে ঘরে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না তারা। প্রফেসর এর মালিককে খুঁজতে থাকলেও কুকুরটিকে অযত্ন করতে পারেন না। তাঁর চলাফেরা, কাজকর্ম, বেড়ানো থেকে শুরু করে সব জায়গায় নিত্য সঙ্গী হয়ে উঠে কুকুরটি। এক পর্যায়ে সমস্ত মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যায় কুকুরটির উপস্থিতিতে।
মুভির মধ্যে প্রফেসরের মৃত্যু খুব দ্রুতই ঘটে। কিন্তু কাহিনীর ভিন্নতা শুরু হয় এখান থেকেই। কুকুরটা মোটেও বিশ্বাস করে না তার মনিবের মৃত্যুকে। সে অগাধ বিশ্বাস নিয়ে ট্রেনের শব্দ শুনে কান খাঁড়া করে দৌড়ে যায় তার মনিব প্রফেসরকে পাওয়ার আশায়। তারপর অগণিত লোককে ট্রেন থেকে নামতে দেখে, শুধুমাত্র প্রফেসর থাকেন না সেখানে। শুরুতে যেসব দৃশ্য মনে হয়েছিলো সাদামাটা, সেই দৃশ্যগুলোর প্রতি কুকুরটির আনুগত্য আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে যে দৃশ্যগুলোও মোটেও সাদামাটা ছিলো না। ছিলো শক্তিশালী অনুভূতির স্মৃতি।
তখন আপনার কঠিন হৃদয়কেও নাড়িয়ে যাবে মানুষের প্রতি একটি প্রাণীর নিঃস্বার্থ অকৃত্রিম দীর্ঘ ভালোবাসার টানে। কেমন যেন হাহাকার করে উঠে তখন হৃদয় এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নজির দেখে। ভালোবাসতে ইচ্ছা করে সবকিছুকে। মানুষকে, প্রাণীকে ও প্রকৃতিকে। খারাপ কি এই অনুভূতিখানি পেলে?

বিঃদ্রঃ
সত্যিকারের হাচিকো ১৯২৩ সালে জাপানের ওডেটে জন্ম গ্রহণ করে। যখন তার প্রভু ডঃ ইসাবুরো উয়েনো, টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ১৯২৫ সালের মেয়ে মাসে মারা যান, তার পরের দিন হাচি শিবুয়া রেলস্টেশনে ফিরে আসে এবং পরবর্তী নয় বছর ধরে অপেক্ষা করতে থাকে তার প্রভুর জন্য।
হাচিকো মারা যায় মার্চের ১৯৩৪ সালে।
আজকে হাচিকোর স্মরণে শিবুয়া রেলস্টেশনে তার অপেক্ষার জায়গায় একটি তামার খোদাইকৃত মূর্তি বসানো আছে। ছবিটি এটাচ করে দিয়ে দিলাম।
Some information about Hachi:
Hachi: A Dog's Tale
2009 film
8.2/10•IMDb
62%•Rotten Tomatoes
4/5•Common Sense Media
Initial release: July 8, 2009 (Tokyo)
Director: Lasse Hallström
Running time: 1h 33m
Music composed by: Jan A. P. Kaczmarek
Screenplay: Stephen P. Lindsey
Cast
Richard Gere
(Parker Wilson)
Joan Allen
(Cate Wilson)
Sarah Roemer
(Andy)
Cary Hiroyuki Tagawa
(Ken)
Jason Alexander
(Carl)

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১৫ দুপুর ১২:৪৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোর্টাল – ২ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭


তখন বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের রাত।
বরফ পড়া শুরু হয়নি। মন্ট্রিয়লের রাস্তা জনাকীর্ণ। বাড়ি থেকে বের হলে কো-দ্যেনিশ রাস্তার শেষ প্রান্তে একটা লাইব্রেরি আছে। তার পরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×