রাত এখন ২টা।
চারিদিক ভয়াবহ রকম শুনশান। দেয়াল ঘড়ির টিকটিক আওয়াজ ছাড়া আর কোনও আওয়াজই নেই। মাঝে মাঝে দূর থেকে নাইটগার্ডের বাঁশির আওয়াজ ভেসে আসছে। এর মধ্যে আমি জেগে আছি। ভাবছি অনেক কিছু। ঠাণ্ডা পরিবেশে মাথা ভালো কাজ করে (অন্ততঃ আমার তাই মনে হয়)।
১১টার দিকে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। পড়েছিলামই বলতে হবে, কারন ঘুমানোর কোন ইচ্ছাই ছিল না। কিছুক্ষণ আগে শরীর মশার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিল। তারপর থেকে আর ঘুম আসছে না।
মানুষের মন অদ্ভুত। অনেক দুঃখের মাঝে অল্প একটু সুখ পেলে তাকেই আঁকড়ে ধরে সব দুঃখ ভুলে যেতে চায়। কোন এক ক্ষেত্রে আশাপূরণ হলে সে আশাপূরণ দিয়ে সে হাজারটা আশাভঙ্গের বেদনা ভুলে থাকতে পারে। এরকম অল্প একটু সুখ, একটা আশাপূরণের আশায় অনেকদিন ধরে বসে আছি। কিন্তু খুঁজে পাচ্ছি না। বা আরেকটু রঙ চড়িয়ে বলা যায়, ধরা দিচ্ছে না।
আশা সে তো মরিচীকা, আমরা বলি
ওরা বলে আশাই জীবন, জীবনের শ্রী
ছোটবেলায় বাংলা বইতে পড়া কবিতার দুটি লাইন। কবিতার নাম বা কবির নাম কোনটাই মনে পড়ছে না। খালি লাইনদুটো মনে আছে। কত বাস্তব দুটি লাইন। আমার বর্তমান জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে লাইনদুটো অক্ষরে অক্ষরে সত্য। আশা নামক মরিচীকার পিছনে কত দৌড়ালাম। যতবারই কাছে পৌছাই, মরিচীকার মত অদৃশ্য হয়ে যায়। এখন দৌড়ানো ছেড়ে দিয়েছি। ইচ্ছা করে দিয়েছি বললে ভুল হবে, এখন এই মরুভূমিতে মরিচীকাও চোখে ধরা পড়ে না। একারণে আমার জীবন আক্ষরিক অর্থেই শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। এখন আর এটাকে জীবনের শ্রী বলা চলে না, বলতে হয় জীবনের ছিরি। কি অবস্থা!
আমি আমার বিগত ২১ বছরের জীবনে চিন্তা করে কাজ খুব কমই করেছি। যখন যেটা ভালো লেগেছে করেছি, যেটা ভালো লাগেনি করিনি, তা সে কাজ যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন। একারণেই মনে হয় আজকাল চিন্তা করতে গেলে চিন্তাগুলো খুব বেশী ভোগায়। নতুন নতুন চিন্তা করতে শুরু করেছি তো। আরও আগে চিন্তাভাবনা শুরু করলে বোধহয় এত ভোগাত না।
ঠিক এইমুহূর্তে মাথার মধ্যে হাজারটা চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। শুধু চিন্তা বললে ভুল হবে, চিন্তা আর সম্ভাব্য সকল সম্ভাবনার জগাখিচুড়ী। প্রত্যেকটা চিন্তা, প্রত্যেকটা সম্ভাবনা আবার একে অপরের সাথে সংযুক্ত। একটার পরিবর্তনে আরেকটাও পরিবর্তিত হয়। আর একারণেই সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। আজব আজব সব কথাবার্তা লিখছি(এইমাত্র পুরো লেখাটা একবার পড়লাম। পড়ে এটাই মনে হল)। যাহোক, যা বুঝতে পারছি তা হল আগের লেখায় যে দ্বন্দের কথা লিখেছিলাম তা এখনও চলছে। মাথার এক অংশ বলছে, আশা হারিও না, স্বপ্ন দেখ। আরেক অংশ বলছে, যতই স্বপ্ন দেখ, কোনই লাভ নেই; কিছুই হবে না।
আমি আপাতত তৃতীয় পক্ষে যোগদান করেছি। চুপচাপ ২ অংশের যুদ্ধ দেখছি। এই যুদ্ধের ফলাফলে আমার কিছুই যায় আসে না, যুদ্ধ দেখাটা দৈনন্দিন জীবনের বিনোদনের একটা অংশ, এরকম চিন্তা করার চেষ্টা করছি। ভালোই লাগছে বলতে হবে। আমার যুক্তি খুব ভালো লাগে। আর এই যুদ্ধে দুই পক্ষের অস্ত্রও যুক্তি। একজন যুক্তি দিয়ে আঘাত করে তো একজন যুক্তিকে ঢাল বানিয়ে তা প্রতিহত করে। অসাধারণ এক যুদ্ধ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


