somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোষামোদ

০৬ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘এই যে অফিসার, আসুন আসুন
ঠিক সামনের চেয়ারটায়
একটু টেনে বসুন।’

‘স্ল্যালামালাইকুম স্যার,
এ কী চেহারা আপনার
শুকিয়ে যে গেছেন অনেকখানি!’
‘কী করব বলুন আর,
নিয়েছি দায়িত্ব দেশ সেবার
টানতে হচ্ছে জনগনের ঘানি।’

‘ তা বটে তা বটে
এমন ভাগ্য ক’জনেরই বা জোটে।’

‘ এই তোরা সব যা, আসবি
ডাকলে পরে—’
‘জি স্যার, এসব কথা বলা উচিত
সকলের অগোচরে।’

‘তারপর বলুন, কাজ হল কতখানি¬
এখনি আবার যেতে হবে—’ ‘তা
আপনি জনসেবায় ব্যস্ত, সে
স্যার আমি জানি।
কাজ প্রায় শেষ স্যার
তবে ব্যাপারটা নিয়ে
একটু হচ্ছে কানিকানি।’

‘দেখুন ওসব নিয়ে ভাববেন না
একদম, দু’দিন বাদে সব—
বেমালুম ভুলে যাবে,
চালিয়ে দেব নতুন কোন সবক।’

‘কিন্তু স্যার, লোকে বলে—’
‘যাহা কিছু রটে কিছু না কিছু বটে’
‘মূর্খের দল পলিটিক্স বোঝে না
শুধু কথার খই ফোটে।’

‘ঠিক বলেছেন স্যার,
আপনি হলেন—

বড় দলের বড় নেতা
বড় আপনার কাম
কাজ-কম্ম নাই ব্যাটা তোদের¬¬ ?
শুধু নেতার করিস বদনাম।’

‘তারপরেও স্যার, আইন বলেও ত
একটা বিষয় আছে’
‘কী বললে ?’ ‘ না না স্যার, ‘আপনি নেতা;
সবই জায়েজ আপনার কাছে!’

‘ জানিস ব্যাটা, একটা মাত্র ফোনে
বান্দরবানের দুর্গম ঐ কোণে
তোকে বদলি করতে পারি—
‘ তা পারেন, তা পারেন স্যার,
আপনি আমার রক্ষক,
আমি আপনার সেবক;
একটু নজর দিবেন স্যার, আমিত আপনারই।’

‘ কথাটা যেন ঠিক ঠিক মনে থাকে।’
‘তা থাকবে স্যার মনে—
কার বুকের পাটা এত্ত বড়, যে
নেতার কথা না শোনে!’

‘ কিন্তু স্যার—’
‘ কী হল আবার ?’
‘ প্রমোসান টা আমার—
রয়েছে যে একটু খানি ঝুলে’
‘ ওটা হবেনা এবার,
কিছু একটা আছে ত আইন বলে।’

‘ তওবা, তওবা স্যার!
আপনি নেতা, আপনার
নিকট সকল কিছুই জায়েজ,
যদি দ্যান স্যার একটু খানি ফায়েজ
মিটে আমার ছোট্ট এই খায়েশ।’
‘ একদিন আসুন না স্যার
এই অধমের বাসায়,
গিন্নীর খুব শখ
খাওয়াবেন একটু পায়েশ।’

‘ এ সবের কী দরকার ছিল আর—’
‘ তারপরেও স্যার—
অনুরোধটা গিন্নী করেছে
নয়কো যে আমার।’
‘ ভাবী যখন বলছেন বারংবার
ঠিক আছে, আসব একদিন
সময় করে; তবে কিছু দিন পর।’

‘মারহাবা! মারহাবা!!
সেলাম স্যার।’


২৮ শে শ্রাবন, ১৪১৯
মীর হাজিরবাগ, ঢাকা।


সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ১০:৫৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×