somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার রাজকন্যা হয়ে যাওয়া

১৫ ই জুন, ২০১৪ বিকাল ৫:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকাল খুব এলোমেলো জীবন যাপন করছি। আগের মত ঘর গোছানো নিয়ে এত মাথা ঘামাই না। ছুত ছুত করি না কোন কিছুতেই। আজকাল আমার বাঁচতে ভালো লাগে, ভাল লাগে কিছু না করে ছুটির দিন গুলো সারাদিন মুভি দেখে বা হুতুতুতু করে বিছানায় কাটিয়ে দিতে। মাঝে মাঝে ড্রাইভে যাই বন্ধুদের সাথে বা শুধু এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি করে কাটিয়ে দেই। এখন এখানে শীত পরেছে তেমন সেমন। শীতের দাপটে ইচ্ছে করে না বিছানা থেকে বের হই। ইচ্ছে করে মরে ভূত হই, কারণ ভূত হলে ২০ হাত লম্বা হাত দিয়ে বিছানায় বসে রুম হিটার টা চালিয়ে দেয়া যেত, পানির গ্লাস টা কিচেন থেকে এনে ফেলা যেত :) অনেক ছোট বেলায় একটা মুভি দেখেছিলাম ডিম্পল ছিলেন নায়িকা। তিনি মরে ভুত হয়ে যাওয়ায় বেডরুম থেকে লম্বা হাত বাড়িয়ে ডাইনিং হল থেকে পানির গ্লাস নিয়ে আসতেন। শুধু পানির গ্লাস না, নানান জিনিস তিনি এনে ফেলতেন চোখের পলকেই, সেই দেখে তখন থেকেই একটা মনোবাসনা ছিল - আহা মরে ভূত হই না কেন...। তবেতো কি মজা করে বিছানায় বসেই সব করে ফেলতে পারতাম আমি। এই ঠাণ্ডায় আর কষ্ট করে বিছানা থেকে উঠতেই হত না।

গরিবের দোয়া কি ঈশ্বর শোনেন? শোনেন কখনো কখনো ...... তাই আমি অপেক্ষায় থাকি। আমার অনেক কথাই তিনি রাখেন তো। তার সাথে আমার রোজ ঝগড়া হয় রোজ ভাব হয়, লেনদেনও হয়। আমার কিছু চাইবার হলে তার বিনিময়ে আমার আবার তার জন্য কিছু করতে হয়। তো আমাদের মধ্যে এইরকম একধরনের বিনিময় প্রথা চুক্তি চালু আছে। যেমন কখনো যদি ওভার স্পীড করে ফেলি আর ক্যামেরায় ধরা পরার ভয় থাকে তো আমি তাকে বলি প্লিজ এবারের মত বাঁচিয়ে দাও প্লিজ !! এর বিনিময়ে আমি কোন একটা ভাল কাজ করার প্রমিস করে ফেলি। আমি আমার কথা রাখি আর সে তার কথা রাখে সুতরাং শোধবোধ হয়ে যায় দিনশেষে। দুজনেই আমরা খুশি থাকি।

কেউ আমাকে কষ্ট দিলে চুপচাপ গিয়ে আমার ইশ্বরের সাথে সব ঝগড়া করি, সব নালিশ করি ...... কেন সে এটা করতে দিল, সব দোষ তো তারই। তাইতো আমাকে কখনো কেউ কষ্ট দিলে আমার কখনোই কারো উপর কোন দিন রিভেঞ্জ নিতে হয় নাই, সে'ই আমাকে বুকে নিয়ে আগলে রাখে।

খুব ঢাকা যেতে ইচ্ছে করছে, সেই আমার চিংড়ির মাথা খাওয়া, সেই টি এস সি তে বসে আড্ডা দেয়া, আমার বই মেলা, আমার ঢাকা, আমার সব সব কিছু ......।। তাকে বললাম আমি ঢাকা যেতে চাই। সে আমাকে বোঝায় কি কি কারণে আমার ঢাকা যাওয়া হচ্ছে না এখন /:) আমি তবু বুঝতে চাই না ছোট্ট মেয়েটার মত, বার বার ঘেন ঘেন করতেই থাকি করতেই থাকি :((

বাড়িতে কিছু মোটা ভাতের চাল আছে ভুল করে কেনা হয়েছিল কিন্তু এত পচা গন্ধ যে খেতে পারি নাই। সেই চাল পাখি কে খাওয়ানোর জন্য রেখে দিয়েছি , ভেবেছি একদিন Audley point এ গিয়ে কাকাতুয়া গুলকে খাইয়ে আসব। যাওয়া হচ্ছে না সময়ের অভাবে, কবে যাব কে জানে, হয়ত কোন এক পড়ন্ত দুপুরে একা একা ড্রাইভ করতে করতে চলে যাব পাহাড়ের উপড়ে সেই ছোট্ট নদীটার পাশে কাকাতুয়া গুলোকে খাওয়াতে। মন্দ হবে না ছোট্ট নৌকো করে ঘোরও হবে পানিতে :) দেখি এই উইকএন্ড এ করা যায় কিনা :)

দিন গুলো কেমন করে কেটে যাচ্ছে বুঝতে পারিনা। কাজে গেলে তো দিন ঝপ করে চলে যায়ই আবার না গেলেও টুপ করে মিলিয়ে যায় দিন, যাই কোথায় আমি, কোন কিছুই করা হয় না, তবু ভালো লাগা আলসেমিতে ভরে থাকি সারাক্ষণ। কাজ শেষে বাড়ি আসি, ফোনে একটু কথা, ফেসবুকে একটু দুষ্টুমি বন্ধুদের সাথে তাতেই বেজে যায় রাত ৯ টা, আমার ঘুমাতে যাবার সময় হয়ে যায়।

আজ Friday night. আমার জলদি ঘুমাতে যাবার তাড়া নেই, কাল সকালে ঘুম থেকে উঠবার তাড়া নেই। স্বপ্ন আর মৌ আসবে কাল !! জম্পেশ আড্ডা হবে :D । ইশ সেই আগের মত জমিয়ে খুব ব্লগ আড্ডা দিতে ইচ্ছে করে। ব্লগ নেশায় দিনের বেশিরভাগ সময়টাতে ডুবে থাকতে ইচ্ছে করে......। আমার এত এত ইচ্ছে কবে পূরণ হবে? আর কি হবে কখনো? আর কি কখনো সত্যিকারের একটা সূর্য উঠবে আমার আকাশে? রুপোর থালার মত একটা চাঁদ উঠবে আবারো? যা দেখে আমার সেটাকে খুব কামড়ে দিতে ইচ্ছে করবে, তা দেখে কারো মন মায়ায় ভরে যাবে, দিদির মত করে আমাকে "রাজকন্যা" ডাকবে ......। দিদি, তোমার "রাজকন্যা" ডাকটা আমার খুব খুব প্রিয় তাকি জানো তুমি ?
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:৩৫
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সজিব কখনো তারেক নয়॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে।এর মধ্যে একটি বহুল আলোচিত মিথ্যা প্রোপাগান্ডা হচ্ছে - সজীব ওয়াজেদ জয় কি সার্চ ইঞ্জিন আবিষ্কার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার কি ভালো লাগে, ভূত না জ্বীন?

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



হ্যা ভূতের গল্প ভালো লাগে।
নলে অবাক হবেন, আমি নিজেও ভূতের কবলে পড়েছি অনেকবার। অথচ জ্ঞানীগুণীরা বলেন, ভূত বলতে কিছু নেই। এই আধুনিক যুগে আমি নিজেও বিশ্বাস করি ভূত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শামস সুমন: এক মধ্যবিত্ত অভিনেতার নিঃশব্দ রুচিকর প্রস্থান

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭

শামস সুমন বিষয়ক সংবাদটি যখন স্ক্রীণে পৌছালো ততক্ষণে আমরা ঋদ্ধি ক্যাফেতে, মিরপুর। বসে আছি মাঝখানের টেবিলে। আমি দরজামুখি, ওপাশে রমিন এবং তার পাশে আরো দশ মিনিট পরে এসে বসবে ফরহাদ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার একটু ঘুম দরকার

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৭


আমার একটু ঘুম দরকার—
শান্তির, স্বস্তির গভীর এক ঘুম।
গা এলিয়ে, পা ছড়িয়ে দিয়ে
নিবিড়, নির্বিঘ্ন এমন এক ঘুম;
যে ঘুম পশুপাখির ডাক, মেঘের গর্জন,
বা বাঁশির সুরেও কখনও ভাঙবে না।

প্রভাত থেকে নিশীথ—বিরামহীন পথচলা,
ভাবনারা অহর্নিশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

না ফেরার দেশে চলে গেলেন আমার দাদা

লিখেছেন সাব্বির আহমেদ সাকিল, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা ৭টা ৫৪ মিনিট । চারিদিকে এশার নামাজের আজান শেষ হয়েছে । বাড়ির পুরুষরা সব মসজিদের দিকে ছুটে যাচ্ছে । কিন্তু একজন পুরুষ এইখানে শুয়ে আছেন । পুরুষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×