একজন অর্থনীতির অধ্যাপক একবার তাঁর বন্ধুদের বলেছিলেন: আমি যে ক্লাসে পড়াই সেখানে সাধারণত কোনো ছাত্রই কখনো ফেল করেনা। কিন্তু এবার আমাকে পুরো একটি ক্লাসকেই ফেল করাতে হলো।
সবাই অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে-একটা ক্লাসের সব ছাত্ররাই ফেল। সেটা কীভাবে সম্ভব ?
অধ্যাপক ব্যাখ্যা করলেন: ওই ক্লাসের ছাত্ররা আমার কাছে একটি অনুরোধ নিয়ে আসে । তারা বলে- স্যার আমরা সবাই একই ক্লাসে আসি, একই স্যারের ক্লাস নেই। একই দিনে পরীক্ষা দেই। আমরা সবাই একিভাবে সফল হতে চাই। তাই, কিছু ছাত্রকে বেশি নম্বর আর কিছু ছাত্রকে কম নম্বর না দিয়ে, সবার এভারেজ মার্ক বের করে একই গ্রেড দিন। তাতে ক্লাসের বৈষম্য দূর হবে।
আমি তাদের কথায় রাজি হলাম।
আমি বললাম—আমি পুরো ক্লাসের মোট নম্বর যোগ করে গড় বের করব এবং সে অনুযায়ী সবাইকে একই গ্রেড দেব।
ছাত্ররা এতে খুশি হলো এবং আমাকে ধন্যবাদ জানালো।
প্রথম সেমিস্টারে সবাই পেল গড় গ্রেড ‘বি’।
দ্বিতীয় সেমিস্টারে সবাই পেল ‘ডি’।
তৃতীয় সেমিস্টারে সবাই পেল ‘এফ’।
চূড়ান্ত পরীক্ষায় পুরো ক্লাসটাই ফেল করে বসলো।
এতে ছাত্ররা হতভম্ব হয়ে গেল।
যারা আগে মন দিয়ে পড়াশোনা করত, তারা ভাবল—আমরা কেন অন্যদের জন্য পড়ব?
ফলে তারা পরিশ্রম করা বন্ধ করে দিল।
যারা কখনও পড়াশোনা করত না, তারা ভাবল— যাই হোক, মেধাবীরা পড়বে আর আমরাও একই গ্রেড পাব—
তাহলে কষ্ট করে পড়ার দরকার কী?
তারাও পুরোপুরি পড়াশোনা ছেড়ে দিল।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে চারটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠলঃ
এক) শুধু আইন একজন গরিব মানুষকে ধনী করতে পারে না।
দুই) কেউ যদি কোনো কিছু “বিনামূল্যে” পায়। তার মানে অন্য কেউ সেই “বিনামূল্যের” জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
তিন) সরকার যখন কিছু বিনামূল্যে দেয়, তখন সেই শ্রম বা অর্থ কারও না কারও কাছ থেকেই নেওয়া হয়।
চার) যদি সম্পদ শুধু বণ্টনই করা হয় কিন্তু সৃষ্টি না করা হয়,তাহলে সমৃদ্ধি হারিয়ে যায়। শুধু বসে বসে ভোগ করলে পাহাড়ও একদিন গলে যায়।
যখন সমাজের অর্ধেক মানুষ ভাবতে শুরু করে- সবকিছু যদি ফ্রিতেই পাই, তবে আমরা কেন পরিশ্রম করব?
আর যারা সত্যিই কাজ করছে, তারা ভাবতে শুরু করে—আমরা কেন এত পরিশ্রম করে শুধু অন্যদের খাওয়াবো।
বন্ধুরা এবার অধ্যাপককে বললো- তাহলে আপনি কি চিন্তা করলেন?
অধ্যাপক বললেন- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে আমাকে ভাবতে হবে আমার পুরো ক্লাসটা যেন আর কোনোদিন ফেল না করে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




