somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরীক্ষায় সবাই ফেল

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন অর্থনীতির অধ্যাপক একবার তাঁর বন্ধুদের বলেছিলেন: আমি যে ক্লাসে পড়াই সেখানে সাধারণত কোনো ছাত্রই কখনো ফেল করেনা। কিন্তু এবার আমাকে পুরো একটি ক্লাসকেই ফেল করাতে হলো।

সবাই অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে-একটা ক্লাসের সব ছাত্ররাই ফেল। সেটা কীভাবে সম্ভব ?

অধ্যাপক ব্যাখ্যা করলেন: ওই ক্লাসের ছাত্ররা আমার কাছে একটি অনুরোধ নিয়ে আসে । তারা বলে- স্যার আমরা সবাই একই ক্লাসে আসি, একই স্যারের ক্লাস নেই। একই দিনে পরীক্ষা দেই। আমরা সবাই একিভাবে সফল হতে চাই। তাই, কিছু ছাত্রকে বেশি নম্বর আর কিছু ছাত্রকে কম নম্বর না দিয়ে, সবার এভারেজ মার্ক বের করে একই গ্রেড দিন। তাতে ক্লাসের বৈষম্য দূর হবে।

আমি তাদের কথায় রাজি হলাম।

আমি বললাম—আমি পুরো ক্লাসের মোট নম্বর যোগ করে গড় বের করব এবং সে অনুযায়ী সবাইকে একই গ্রেড দেব।

ছাত্ররা এতে খুশি হলো এবং আমাকে ধন্যবাদ জানালো।

প্রথম সেমিস্টারে সবাই পেল গড় গ্রেড ‘বি’।
দ্বিতীয় সেমিস্টারে সবাই পেল ‘ডি’।
তৃতীয় সেমিস্টারে সবাই পেল ‘এফ’।
চূড়ান্ত পরীক্ষায় পুরো ক্লাসটাই ফেল করে বসলো।

এতে ছাত্ররা হতভম্ব হয়ে গেল।

যারা আগে মন দিয়ে পড়াশোনা করত, তারা ভাবল—আমরা কেন অন্যদের জন্য পড়ব?
ফলে তারা পরিশ্রম করা বন্ধ করে দিল।

যারা কখনও পড়াশোনা করত না, তারা ভাবল— যাই হোক, মেধাবীরা পড়বে আর আমরাও একই গ্রেড পাব—
তাহলে কষ্ট করে পড়ার দরকার কী?
তারাও পুরোপুরি পড়াশোনা ছেড়ে দিল।

এই পরীক্ষার মাধ্যমে চারটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠলঃ

এক) শুধু আইন একজন গরিব মানুষকে ধনী করতে পারে না।

দুই) কেউ যদি কোনো কিছু “বিনামূল্যে” পায়। তার মানে অন্য কেউ সেই “বিনামূল্যের” জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

তিন) সরকার যখন কিছু বিনামূল্যে দেয়, তখন সেই শ্রম বা অর্থ কারও না কারও কাছ থেকেই নেওয়া হয়।

চার) যদি সম্পদ শুধু বণ্টনই করা হয় কিন্তু সৃষ্টি না করা হয়,তাহলে সমৃদ্ধি হারিয়ে যায়। শুধু বসে বসে ভোগ করলে পাহাড়ও একদিন গলে যায়।

যখন সমাজের অর্ধেক মানুষ ভাবতে শুরু করে- সবকিছু যদি ফ্রিতেই পাই, তবে আমরা কেন পরিশ্রম করব?
আর যারা সত্যিই কাজ করছে, তারা ভাবতে শুরু করে—আমরা কেন এত পরিশ্রম করে শুধু অন্যদের খাওয়াবো।

বন্ধুরা এবার অধ্যাপককে বললো- তাহলে আপনি কি চিন্তা করলেন?


অধ্যাপক বললেন- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে আমাকে ভাবতে হবে আমার পুরো ক্লাসটা যেন আর কোনোদিন ফেল না করে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

ছবি, অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

পানি এই একটি শব্দে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির রহস্য, জীবনের ধারা এবং মহান আল্লাহ তাআলার অফুরন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূলের (সা.) একমাত্র অনুসরনীয় আহলে বাইত তাঁর চাচা হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব (রা.)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩




সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ৩২ নং ও ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সহিত কোমল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোরগের ডাক , বিজ্ঞানের পাঠ এবং গাধার প্রতি আমাদের অবিচার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৫


গ্রামে বেড়ে ওঠা মানেই একটা অসাধারন শৈশব। আমাদের সেই শৈশবের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল মক্তবের মৌলভি সাহেবদের গল্প। তারা বলতেন, ভোররাতে মোরগ ডাকে কারণ সে ফেরেশতা দেখতে পায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×