প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই থাকে সেই ছোট ড্রয়ার—যেটা ভর্তি থাকে নানা রকমের চাবিতে। অনেক চাবি থাকে। কিছুতে ধরেছে মরিচা যেগুলো একসময় এমন দরজা খুলত, যেগুলো এখন আর নেই। বহু আগেই তাদের তালা খুলে ফেলা হয়েছে কিংবা তালা বদলে গেছে।
আবার এমন কিছু চাবি আছে- আমরা ঠিক জানিই না সেগুলো কী খুলে। তবু ভয় বা সাবধানতা থেকে রেখে দিই। শুধু এই কারণে যে, কবে দরকার পড়ে কে জানে।
এতে সমস্যা নেই। ড্রয়ার ভরে গেলেও ক্ষতি নেই। ড্রয়ার তো অনেক। কিন্তু সমস্যা তখনই হয়, যখন চাবির জায়গায় আমরা সম্পর্ক আর আসক্তি জমিয়ে রাখি।
যখন আমরা আমাদের হৃদয়ের ড্রয়ারগুলোতে এমন সম্পর্কের পুরোনো চাবি রেখে দিই-যে সম্পর্কগুলো বাস্তবে শেষ হয়ে গেছে। তবু শিশুসুলভ জেদে বিশ্বাস করি, সেই চাবিগুলো এখনও এমন এক তালা খুলতে পারবে, যা বহু আগেই বদলে গেছে। তারপর অবাক হই, যখন তালা আর খুলে না।
আমরা রাগ করি দরজার ওপর। বিরক্ত হই তালার উপর। কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও মনে আসে না যে চাবিটাই হয়তো আর কার্যকর নয়।
অথবা দরজাটাই আর আমাদের জন্য নয়। আর আমাদের অধিকার নেই সেটি খোলার।
হয়তো দরজাটাই বদলে গেছে। আর বদলে গেছে তার ওপাশে থাকা মানুষগুলোও।
আপনার যে বন্ধু দুদিন আগে আপনার মতো নাগরিক ছিলেন কিন্তু এখন এমপি হয়ে গেছেন- দেখবেন উনি বদলে গেছেন। কিংবা যার সাথে বসে ক্লাস করেছিলেন- কাঁধে হাত দিয়ে হেঁটেছিলেন- সেও কোনো বড় পদবীতে গিয়ে সেই আগের বন্ধুটি নেই। বদলে যায়। অথবা বদলে যেতে বাধ্য হয়।
আর আপনি বন্ধুত্বের চাবি হাতে বসে আছেন।
মানুষ বদলে যায়, বন্ধু—এটাই সত্য। বিত্ত, ক্ষমতা, পদবী, নতুন সম্পর্ক এসব কিছু মানুষকে খুব দ্রুত বদলে দেয়।
এই সত্যটা অগ্রাহ্য করা যায়না।
স্মৃতির ড্রয়ারে কিছু চাবি রেখে দেওয়ায় দোষ নেই। কিন্তু প্রজ্ঞা হলো এই সত্যটা বোঝা যে— প্রতিটি বন্ধ দরজা হয়তো প্রত্যাখ্যান করে না। কিছু বন্ধ দরজা দৃঢ় কণ্ঠে শুধু এটুকুই বলে: দুঃখিত বন্ধু- এই দরজাটা আর তোমার জন্য নেই
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




