মানুষকে কি খাওয়ানো হয় এবং মানুষের মনের ওপর কিভাবে প্রভাব বিস্তার করা হয়-তার সবচেয়ে জ্বলন্ত উদাহরণ হলো টাইটানিক ছবিটি। আপনার চিন্তা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় সেটা ভাবলেই এ লেখাটির কথা মনে পড়ে।
টাইটানিক জাহাজে প্রায় ২,২৩০ জন মানুষ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মাত্র ৭০৬ জন বেঁচে যান। আর ১,৫০০–এরও বেশি মানুষ ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সামুদ্রিক বিপর্যয়ে প্রাণ হারান।
এই চলচ্চিত্রে আমরা দেখি- অধিকাংশ যাত্রী কি অসহায়ভাবে ডুবে মারা যাচ্ছেন। আর নায়ক সমস্ত গান বাজনা শেষ করে ডুবে নয় বরং ঠান্ডা পানির কারণে মৃত্যুবরণ করেন। তবুও অধিকাংশ দর্শক শত শত নারী, শিশু ও বৃদ্ধ মানুষের প্রতি গভীর সহানুভূতি অনুভব করেননি - যারা প্রাণ হারিয়েছিলেন। বরং তাঁদের একটাই কামনা ছিল- যে কোনো মূল্যে নায়ক ও নায়িকা যেন বেঁচে যান।
এখানেই প্রশ্ন উঠে আসে।
আমরা কেন একজন চোর, মদ্যপ ও জুয়াড়ি নায়কের প্রতি সহানুভূতিশীল হলাম। অথচ তাঁর চারপাশের নিরপরাধ মানুষের নির্মম হৃদয়বিদারক মৃত্যুর ট্র্যাজেডিকে এতো উপেক্ষা করলাম?
উত্তরটি একই সঙ্গে সহজ এবং গভীর।
কারণ পরিচালক কেবল তাঁদের দুজনের ওপরই আলো ফেলেছিলেন এবং তাঁদেরকেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু ও ট্র্যাজেডির মূল রূপে উপস্থাপন করেছিলেন। ফলে আমি , আপনি তাঁদেরকে ভালোবেসেছি, তাঁদের ত্রুটি ক্ষমা করেছি আর একই সঙ্গে নীরবে মারা যাওয়া শত শত প্রাণকে বেমালুম ভুলে গেছি।
যারা আপনার -আমার চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়-তারাও ঠিক এভাবেই কাজ করে।
সাগর-রুনি যখন মারা যায়- তখন মেঘ ছিলো ছোট শিশু। সে এখন বড় হয়েছে। সরকার আসছে আর যাচ্ছে- কিন্তু সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সমস্ত বিচার ফাইলবন্দি হয়ে আছে। এরকম আরো কত খুনের ঘটনার বিচার নীরবে, নিভৃত কাঁদে।
সে দিকে কারো ফোকাসে নেই।
আমাদের ফোকাস শিক্ষামন্ত্রী লাফ দিয়েছেন, হাসনাত জার্সি পরে শপথে এসেছে, তারেক রহমানের কন্যা কোথায় নেচেছে ইত্যাদি স্থুল বিষয়ের দিকে।
খুব সুকৌশলে এগুলো করা হয়। তারা বেছে নেয় কী দেখাবে আর কী আড়াল করবে। কারণ- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা মতাদর্শগত যা আছে সবকিছুই স্বার্থ অনুযায়ী হয়। ন্যায়-অন্যায়ের ভারসাম্য অনুযায়ী নয়। আপনার-আমার অনুভূতিকে এভাবেই পরিচালিত করা হয়-আপনি কি নিয়ে মেতে থাকবেন, কার প্রতি সহানুভূতি দেখাবেন আর কোন জিনিস উপেক্ষা করবেন।
আপনার -আমার চিন্তাকে এভাবেই খেলা হয়। কিন্তু নির্মম সত্য হলো- সত্য সব সময় ক্যামেরার ফ্রেমের চেয়েও বড় হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




