"আমেরিকার সবচেয়ে বড় শত্রু"
পারমানবিক বোমা, ইরান, চায়না, রাশিয়া কিংবা উত্তর কোরিয়া না - আমেরিকার সবচেয়ে বড় শত্রু হলো "সময়"।
বারাক ওবামা ইরানের সাথে চুক্তিতে যা অর্জন করেছিলেন। ট্রাম্প তা ছিঁড়ে ফেলে এখন যুদ্ধের মাধ্যমে সেই একই কাজ করার চেষ্টা করছেন। এটাই হলো মানুষের বুদ্ধি আর বানরের বুদ্ধির মাঝে ফারাক।
আমেরিকার সাধারণ মানুষেরও কোনো বিষয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই । যে পর্যন্ত তেল আর বিয়ার এ দুটোর দাম কম আছে। কিন্তু সময় যত গড়াবে এ দুটোর দাম তত বাড়বে। গ্যাস স্টেশান গুলোতে যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ সেন্ট বেড়েছে প্রতি গ্যালনে।
গত কয়েকদিন আগে আমেরিকান মেরিন অফিসার যিনি সিনেটের সামনে এ যুদ্ধের বিরোধীতা করেছেন- তার হাড় ভেঙে দেয়া হয়েছে।নিরঙকুশ বাক স্বাধীনতা আসলে কোথাও নেই। এক মেরিনের হাড় ভেঙ্গেছে। আরো মেরিনরা উত্তপ্ত হবে। দিন যত যাবে এই সময়ই আমেরিকার সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে ওঠবে। শুকনো এক কাষ্ঠে আগুন লাগলে শুধু সেই কাঠই পুড়েনা। পুরো জঙ্গলটাই পুড়ে ছারখার হয়ে যায়।
একটা যুদ্ধের মূল্য সবাইকে দিতে হয়। যে ইরানকে সাপোর্ট করে তাকে। যে ট্রাম্পকে সাপোর্ট করে তাকে। যে শরীয়া আইন পছন্দ করে তাকে । যে পছন্দ করেনা তাকে। জ্বালানির দাম বাড়বে, পরিবহন ব্যয় বাড়বে, উৎপাদন খরচ বাড়বে। আর জ্বালানি খরচ বাড়া মানেই—প্রতিটি পণ্যের দামে আগুন লাগা।
বুদ্ধিমান মানুষ ভালোই জানে- ড্রোন দিয়ে বোমারু বিমান ধ্বংস করা না গেলেও - মাত্র হাজার ডলারের একটি মাইন বা ছোট নৌকা দিয়েই ৫০ মিলিয়ন ডলারের পণ্যবাহী জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া সম্ভব।
১৯৮৭ সালে আমেরিকান যুদ্ধ জাহাজের ওপর আঘাতের ঘটনা-এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ।
ট্রাম্প দুই সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ইরানি সরকার পতনের জন্য। এখন বলছেন- ৪২ সপ্তাহ। তার মান আগুন লাগানো সহজ, কিন্তু নেভানো বড়ই কঠিন।
সাদ্দাম হোসেনের সময় একটি রকেট হামলাই সৌদি আরবে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল এবং বিপুল অর্থ ব্যয়ে মার্কিন বাহিনীকে আনা হয়েছিল। তখন ছিল একটি মাত্র ইরাকি ক্ষেপণাস্ত্র। এখন যদি হাজার হাজার ইরানি ড্রোন ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হয়—তাহলে কী হবে?
ইরানের সুপ্রীম লিডার মারা গেছেন। ট্রাম্পও যুদ্ধ বাঁধিয়ে নির্বাচন জেতার চেষ্টায় আছেন। এদিকে কংগ্রেস বলছে- এপেস্টেন ফাইলও বন্ধ হবেনা। নেতানিয়াহুর ছেলেমেয়েরা আমেরিকার বীচে হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছে। শুধু সাফার করবে সাধারণ মানুষ। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি ভাইয়েরা কর্মহীন হবে। দেশ হয়তো কোনো রকমে চলে যাবে। কিন্তু যে সব সংসারের একমাত্র আয় তাদের সন্তানের প্রবাসে থাকা রেমিটেন্স সেই সব সংসারগুলোর কি হবে?
আরব অঞ্চল নজিরবিহীন ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। কল্পনা করুন, উপসাগরীয় দেশের মানুষ তেল বিক্রি করতে পারছে না, কাজে যেতে পারছে না- আমেরিকার সিওরা দুবাইতে বসে অফিস করতে পারছেনা। হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। পরিবহন ব্যবসা বন্ধ।
ইরান কি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেই সব শেষ করে ফেলবে? তা ও না । যদি সরকার পতন ঘটে এবং অস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে চলে যায়—তাহলে উপসাগরীয় যে কোনো স্থাপনা বা জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ৮ কোটি জনগণের দেশ,ইরানের রয়েছে বিশাল ভূখণ্ড। যেখানে বিপুল সংখ্যক সমর্থক, অস্ত্র বিশেষজ্ঞ এবং পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে দক্ষ বিজ্ঞানী রয়েছে।
দু বছরের ভিয়েতনাম যুদ্ধে গিয়ে আমেরিকার শেষ করতে লেগেছিলো কুড়ি বছর। কুড়ি বছরে মানুষ মারা যায় প্রায় বিশ লাখ। তারপর ফিরতে হয়েছে শুণ্য হাতে। রাষ্ট্রের শক্তি অস্ত্রে মাপা যায়, নোটে মাপা যায়, জোটে মাপা যায়। কিন্তু সময়ের মাপ বড়ই নিষ্ঠুর। আমেরিকা মনে হয় এক নিষ্ঠুর সময়ের ফাঁদে আবার পা দিয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




