somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বহুদিন পর এমন নির্জনে

১৯ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৪:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আশ্বিনের এক রৌদ্রকরোজ্জ্বল সকালে চলেছি উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ের কোলে ঘুমিয়ে থাকা এক স্বল্পখ্যাত গ্রামের পথে। গ্রামের নাম ‘‌নওটি’‌। কেদার–‌বদ্রী যাওয়ার পথে একে একে অতি পরিচিত সব জনপদ–‌‌ দেবপ্রয়াগ, কর্ণপ্রয়াগ, রুদ্রপ্রয়াগ প্রভৃতি পেরিয়ে যাই। তেমনই এক জনবহুল জনপদ কর্ণপ্রয়াগ থেকে মাত্র ২৬ কিমি দূরে এক অত্যন্ত নির্জন ছোট্ট পাহাড়ি জনপদ নওটি। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত আর পাঁচটা পাহাড়ি গ্রামের মতোই সাদামাঠা একটি গ্রাম। কিন্তু একটি বিশেষত্ব রয়েছে অন্য জায়গায়। এখানে অবস্থিত নন্দাদেবীর মন্দির থেকেই উত্তরাখণ্ডের বিখ্যাত ধর্মীয় যাত্রা নন্দা জোত যাত্রার সূচনা হয়। প্রায় ২৯০ কিমি দীর্ঘ যাত্রাপথ শেষ হয় রূপকুণ্ড, হোমকুণ্ড পেরিয়ে। গাড়োয়াল ও কুমায়ুন হিমালয়ের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ ভক্ত মা নন্দাদেবীর এই ডোলিযাত্রায় সামিল হন। প্রতি বারো বৎসর অন্তর এই যাত্রা হয়। ২০১৪ সালে শেষবার এই যাত্রা হয়েছে। কিন্তু যাত্রার এই সময়টুকু বাদ দিলে বাকি সব সময় এই নির্জন পাহাড়ি জনপদ তার রূপের ডালি সাজিয়ে অপেক্ষায় থাকে কৌতূহলী পর্যটকের।
আশ্বিনের সকালে যখন কর্ণপ্রয়াগ থেকে গাড়ি নওটির উদ্দেশে রওনা দিল, তখন যাত্রাপথে পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে হিমালয়ের জানা–অজানা তুষারশৃঙ্গের উঁকি–‌ঝুঁকি আমাদের নওটি সম্পর্কে আরও কৌতূহলী করে তুলল। অবশেষে নওটি এসে পৌঁছলাম। থাকার জায়গা বলতে গাড়োয়াল মণ্ডল বিকাশ নিগমের বাংলো, চারপাশের পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম। সামনেই দুপুরের রোদে ঝলমল করছে হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গ। আগেই বলেছি স্বল্পখ্যাত হওয়ার কারণে বাংলোতে পর্যটক বলতে আমরা কজন। দুপুরের আহার করে আমরা চারপাশ ঘুরতে বেরোলাম। খানিক দূরেই মাতা নন্দাদেবীর মন্দির। অত্যন্ত নির্জন পরিবেশ। আমরা মন্দির চত্বরে অনেকক্ষণ বসে রইলাম আর চারপাশের সৌন্দর্য নিরীক্ষণ করছিলাম। সন্ধের আরতি দেখে আবার গেস্ট হাউসে ফিরে এলাম। দ্বাদশীর বিশাল চাঁদের আলো চারপাশের পরিবেশকে আরও মায়াময় করে তুলেছে। আকাশে হাজার তারা ঝিকমিক করছে। রাত্রে দোতলার বারান্দায় বসে দেশি মুরগির ঝাল, গরম রুটি আর স্যালাডের অসামান্য আহার ভোলার নয়। খাবার ঘর থাকলেও, আমরাই একমাত্র পর্যটক হওয়ার কারণে বারান্দাতেই আহার করলাম। দূরে আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে। চারপাশ এত নিস্তব্ধ যে আমাদের কথা প্রতিধ্বনিত হয়ে আমাদেরই কানে বাজছে। বহুদিন পর এরকম নির্জন পরিবেশে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা হল।
যাঁরা বেড়াতে গিয়ে শহরের কোলাহলমুখর পরিবেশ ছেড়ে শান্তিতে, নির্জনে একান্তে দুয়েকটা দিন কাটাতে চান, তাঁদের জন্য নওটি আদর্শ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে খুব বেশি উঁচু না হওয়ার কারণে (‌মাত্র ৩৬৯ মিটার)‌ অতিরিক্ত ঠান্ডা পড়ে না। তবে প্রচুর গাছপালা থাকায় ঠান্ডা পড়ে না সেটাও নয়। শীতের সময় যাঁরা হরিদ্বারের দিকে বেড়াতে যাবেন বা পাউরি–‌খিরমু–ল্যান্সডাউনের দিকে যাবেন, তাঁরা অনায়াসে ‘‌নওটি’‌–‌কে আবিষ্কার করতে পারেন। সরকারি বাংলোটি বেশ সাদামাঠা কিন্তু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। অতিরিক্ত আরাম–‌বিলাসের আশা না করাই ভাল। সাধারণ খাবারেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। তবে পরিবর্তে যা দেখবেন তা অবশ্যই মনকে পরিপূর্ণ করবে।
পরদিন ভোরে আমরা হরিদ্বারের (‌২১৭ কিমি)‌ উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় তুষার শৃঙ্গরাজির সৌন্দর্যলাভ থেকে বঞ্চিত হলাম। সন্ধেয় হর–‌কি–‌পৌরির কোলাহল মুখরিত ঘাটে বসে আগের সন্ধের সেই অসামান্য নির্জনতার জন্য মন কেমন করছিল।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৪:৫৭
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্ষমতা আসলে কত দিনের?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬

একটি ১২ ঘণ্টার প্যারোল, একটি শেষ বিদায় এবং ক্ষমতার অনিত্যতার নির্মম শিক্ষা

“পুলিশ ভাই, আমাকে তো এখনই নিয়ে যাবেন, আমি দুই মিনিট ফ্যামিলির সঙ্গে কথা বলি?”

কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিদারাবাদ থেকে মাছুয়াপাড়া

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাহিনীটা কী?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৭

কাহিনীটা কী?
বিএনপিকে যারা ২৪ ঘণ্টা অভিশাপ দেয়, গালমন্দ করে, "বিএনপি দেশটা শেষ করে দিয়েছে- আর ছয়মাসও টিকবে না", তারাই আবার বিএনপি কাকে মন্ত্রী বানালো, কাকে উপদেষ্টা করলো- এই হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×