somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সোফায় গা এলিয়ে চিত্রকূট

২০ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৩:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



হাতে গরম কফি৷ গা এলানো সোফায়৷ সামনে কাচের জানালার ওপারে ঝমঝমিয়ে নামছে জলপ্রপাত৷ জলের শব্দ একটা নেশার মতো কানে বেজে চলেছে৷ জায়গাটা আপনাদের খুব চেনা৷ ছত্তিসগড়ের চিত্রকুট৷ প্রিয় ভাইজাগ -আরাকুর সূত্রে চিত্রকুট বহু বাঙালির ঘোরা৷ কিন্ত্ত হলফ করে বলতে পারি , চিত্রকুটে একটা রাত কাটিয়েছেন , এমন বাঙালি হাতে -গোনা৷ জগদলপুর থেকে একছুটে চিত্রকুট এসো, দেখো আবার ফিরে যাও৷ উপরের অভিজ্ঞতাটা তা হলে কী করে হবে !চুপি চুপি বলছি, এই বর্ষায় ঘুরে আসুন৷ ক'দিন আগে ঘুরতে গিয়ে দেখে এসেছি, ইন্দ্রাবতীর শরীরে এখন ভরা যৌবন৷ কুলকুল করে জল বইছে৷ আর নদীর খাতটা যেখানে হঠাত্‍‌ নেমে গিয়েছে, সেই প্রপাতের কাছে প্রবল স্রোত৷ স্রোত ভেঙে পড়ার শব্দ প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, এতোই তার তেজ৷ এ জিনিস শীতে-শরতে-গরমে কখনোই পাবেন না৷ আর এখন লোকজন কম৷ প্রপাতের পাশে বসে থাকুন, সিঁড়ি ধরে নীচে নেমে যান, সবটাই আপনার জায়গির মনে হবে৷ আরও আরাম চাইলে রিসর্ট তো থাকলোই৷ ঘরে নয়তো ব্যালকনিতে৷ সামনে নদী৷ নদীর ওপারে ঘনসবুজ জঙ্গল৷ চোখের অপার শান্তি৷ এক রাত নয়, দু'রাত থেকে যেতে ইচ্ছে করবে৷





বর্ষায় জঙ্গল বন্ধ, পাহাড়ে ধস৷ সমুদ্রেই বা আর কতোবার যাবেন? চুপি-চুপি বলছি একবার চিত্রকূট ঘুরে আসুন৷ সঙ্গী হিসেবে পাবেন ভরা যৌবনের ইন্দ্রাবতীকে৷ ঘুরে এসে লিখলেন কমলেশ চৌধুরী

হাতে গরম কফি৷ গা এলানো সোফায়৷ সামনে কাচের জানালার ওপারে ঝমঝমিয়ে নামছে জলপ্রপাত৷ জলের শব্দ একটা নেশার মতো কানে বেজে চলেছে৷ জায়গাটা আপনাদের খুব চেনা৷ ছত্তিসগড়ের চিত্রকুট৷ প্রিয় ভাইজাগ -আরাকুর সূত্রে চিত্রকুট বহু বাঙালির ঘোরা৷ কিন্ত্ত হলফ করে বলতে পারি , চিত্রকুটে একটা রাত কাটিয়েছেন , এমন বাঙালি হাতে -গোনা৷ জগদলপুর থেকে একছুটে চিত্রকুট এসো, দেখো আবার ফিরে যাও৷ উপরের অভিজ্ঞতাটা তা হলে কী করে হবে !চুপি চুপি বলছি, এই বর্ষায় ঘুরে আসুন৷ ক'দিন আগে ঘুরতে গিয়ে দেখে এসেছি, ইন্দ্রাবতীর শরীরে এখন ভরা যৌবন৷ কুলকুল করে জল বইছে৷ আর নদীর খাতটা যেখানে হঠাত্‍‌ নেমে গিয়েছে, সেই প্রপাতের কাছে প্রবল স্রোত৷ স্রোত ভেঙে পড়ার শব্দ প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, এতোই তার তেজ৷ এ জিনিস শীতে-শরতে-গরমে কখনোই পাবেন না৷ আর এখন লোকজন কম৷ প্রপাতের পাশে বসে থাকুন, সিঁড়ি ধরে নীচে নেমে যান, সবটাই আপনার জায়গির মনে হবে৷ আরও আরাম চাইলে রিসর্ট তো থাকলোই৷ ঘরে নয়তো ব্যালকনিতে৷ সামনে নদী৷ নদীর ওপারে ঘনসবুজ জঙ্গল৷ চোখের অপার শান্তি৷ এক রাত নয়, দু'রাত থেকে যেতে ইচ্ছে করবে৷

রায়পুর থেকে চিত্রকুট যাওয়ার গোটা রাস্তাটাই মায়ামাখানো৷ বিশেষ করে এই বর্ষায়৷ ধামতাড়ি পেরোলেই আস্তে আস্তে জঙ্গলের রাস্তা শুরু৷ দু'দিকে সবুজ৷ মাঝে কালো পিচের মাখন রাস্তা৷ ধামতাড়ি থেকে একটু বাঁ দিক নিয়ে মহানদী, আর নদীর উপর তৈরি গাংরেল বাঁধ৷ আবার ফিরে ন্যাশনাল হাইওয়ে ধরলে একটু এগোলেই কাঙ্কের৷ এখান থেকেই মালভূমি, টিলা, পাহাড়ি এলাকা শুরু৷

কেশকাল পৌঁছতে রীতিমতো পাহাড়ি বাঁক৷ এর পর পথে পড়বে কোন্দাগাঁও৷ তার পর বস্তার হয়ে জগদলপুর৷ পথে যে সমস্ত গ্রাম পড়ে, অধিকাংশই নিজস্ব হস্তশিল্পের জন্য বিখ্যাত৷ গাইড নিয়ে বেরোলে গ্রামের অন্দরে ঢুঁ মেরে আসাও যায়৷ এই পরিকল্পনা যদি চিত্রকুট যাওয়ার পথে হয়, ফেরার পথে তা হলে আরও দক্ষিণ ঘুরে রায়পুর ফেরা যেতে পারে৷ গাড়ি ছুটবে সোজা তিরথগড় জলপ্রপাতের দিকে৷ নদী সেখানেও ফুলেফেঁপে ঝাঁপ দিয়েছে৷ চারপাশে জঙ্গল৷ কাঙ্গের ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক৷ বর্ষায় পার্ক বন্ধ৷ কিন্ত্ত প্রপাতে যেতে ঘন জঙ্গল পেরিয়েই যেতে হয়৷ তিরথগড় থেকে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই পড়ে দান্তেওয়াড়া, সুকমা, দরভা ঘাটি৷ জায়গাগুলো যতোটা 'কুখ্যাত' তার চেয়েও বেশি সুন্দর৷ ভয়ঙ্কর সুন্দর বলে একটা কথা আছে না!

কীভাবে যাবেন

কলকাতা থেকে ট্রেনে বা ফ্লাইটে রায়পুর৷ সেখান থেকে বাসে জগদলপুর হয়ে চিত্রকুট৷ নিজেদের গাড়ি থাকলে বস্তার পৌঁছনোর আগেই ডান হাতে চিত্রকুট যাওয়ার শর্টকাট রাস্তা ধরতে পারেন৷ জিপিএসে চোখ রাখলে পথ হারানোর ভয় থাকবে না৷ আর ঘোরার তালিকায় ভাইজাগ-আরাকু ভ্যালি থাকলে ভাইজাগ থেকে কিরনডুল প্যাসেঞ্জারে জগদলপুর যেতে পারেন৷

টিপস

ছত্তিসগড়ে মাওবাদী সমস্যা এখনও যথেষ্ট৷ তাই রাতের পর জঙ্গলের রাস্তা না -ধরাই ভালো৷ হুটহুাট করে যে কোনও রাস্তায় ঢুকবেন না৷ মাওবাদী বা আধাসেনার হাতে পড়লে বিপত্তি হতে পারে৷ গাইড ছাড়া উপজাতিদের গ্রামে যাবেন না৷ অন্যের বিশ্বাসকে আঘাত করবেন না৷ এটুকু মাথায় রাখলে নিরুপদ্রবেই ঘুরে আসতে পারবেন৷



কোথায় থাকবেন

চিত্রকুট জলপ্রপাতের পাশেই , ইন্দ্রাবতী নদীর ধারে ছত্তিসগড় ট্যুরিজমের রিসর্ট৷ রয়েছে তাঁবুও৷ যোগাযোগ করতে পারেন --- এই টোল ফ্রি নম্বরে : ১৮০০১০২৬৪১৫৷

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্ষমতা আসলে কত দিনের?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬

একটি ১২ ঘণ্টার প্যারোল, একটি শেষ বিদায় এবং ক্ষমতার অনিত্যতার নির্মম শিক্ষা

“পুলিশ ভাই, আমাকে তো এখনই নিয়ে যাবেন, আমি দুই মিনিট ফ্যামিলির সঙ্গে কথা বলি?”

কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিদারাবাদ থেকে মাছুয়াপাড়া

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাহিনীটা কী?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৭

কাহিনীটা কী?
বিএনপিকে যারা ২৪ ঘণ্টা অভিশাপ দেয়, গালমন্দ করে, "বিএনপি দেশটা শেষ করে দিয়েছে- আর ছয়মাসও টিকবে না", তারাই আবার বিএনপি কাকে মন্ত্রী বানালো, কাকে উপদেষ্টা করলো- এই হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×