somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গেছেন ছোটা মাঙ্গুয়া?‌

৩০ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৩:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



উঠল বাই তো কটক যাই।প্রায় ন’‌মাস পরে আমরা যাব ছোটা মাঙ্গুয়া। ইকো–‌ট্যুরিজম কমপ্লেক্স। রিসর্টে মোট ২৩টি বেড। দুই তিন চার বেডের রুম। পুরোটাই আমাদের জন্যে রিজার্ভ। দার্জিলিং মেলে রওনা হয়ে পরদিন সকালে নিউ জলপাইগুড়ি। সেখান থেকে রিসর্টের পাঠানো গাড়িতে চললাম প্রায় ৭০ কিমি দূরে ছোটা মাঙ্গুয়া। পথে লোহাপুলে একটি রেস্টুরেন্টে পুরি সবজি চা। তারপর তিস্তাবাজার থেকে রাস্তা ওপর দিকে উঠে গেছে। রাস্তা ভালই। বড়া মাঙ্গুয়ার পরে রাস্তা ভাল নয়। পিচ ওঠা এবড়োখেবড়ো। পথের দু’‌পাশে প্রায়ই কমলালেবুর বাগান ও সুন্দর লালফুলের গাছ। শেষে ছোটা মাঙ্গুয়ার বোর্ড লাগানো ডানদিকের রাস্তায় পড়লাম। এখান থেকে রাস্তা অতি খারাপ। উঁচুনিচু, কখনও গাড়ি নৌকোর মতো দুলছে, কখনও লাফাচ্ছে। কখনও আবার ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে সোজা ওপরের দিকে এগোচ্ছে। পেটের নাড়িভুঁড়ি তালগোল পাকাবার উপক্রম!‌ কোথাও পাশে স্থানীয়দের বাড়ি ও ছোট ছোট খেত। শেষে খানিক গড়িয়ে নেমে ঢুকলাম আমাদের রিসর্টের গেটে। একেবারে ছবির মতো সুন্দর। কষ্ট করে যেন কেষ্ট মিলল। শেষের পথটুকু বেশি নয়। কিন্তু শ্লথগতিতে প্রায় দশ মিনিট সময় নিল।
জায়গাটি অপূর্ব। যেন একটা উপদ্বীপ। তিনদিকে খাদ। পরে পাহাড়শ্রেণী। কটেজগুলি খুবই সুন্দর। ঘরের আসবাব থেকে পর্দা সবই নয়নলোভন। আরও ৮ বেডের ডর্মিটরি রেডি। বেশ নিরিবিলি। রিসর্টে সোলার সিস্টেম। ঘরে টিভি নেই। উঠোন পেরিয়ে বেশ বড় ডাইনিং হলে একটি টিভি আছে। চাইলে স্নানের গরম জল ঘরে পৌঁছে দেবে। ঘর–বারান্দা ও উঠোনে বসেই সময় কাটিয়ে দেওয়া যায়। সামনেই যেন কাঞ্চনজঙ্ঘা। তারই নিচে পাহাড়ের গায়ে সাদা মন্দির দেখা যাচ্ছে। ওটা নাকি সিকিমে চারধাম। উল্টোদিকের পাহাড়ে কালিম্পংও নজরে আসে।
রিসর্টের আশপাশে কোনও হোটেল নেই। তাই রিসর্টেই খাওয়া। খাওয়াদাওয়া খুবই ভাল। পরিবেশনকারী স্থানীয় অল্পবয়স্কা মেয়েগুলি খুবই চটপটে ও খুবই ভাল তাদের ব্যবহার। মালিক–মালকিন প্রধান দম্পতিও একেবারে আত্মীয়ের মতোই।
তৃতীয় দিনে রিসর্টের গাড়িতেই সাইট সিয়িং। প্রথমেই কাছাকাছি টাকলিং গ্রামে একটি পুরনো মনাস্ট্রি। তারপর বড়া মাঙ্গুয়ায় একটি বাগানে বিভিন্ন ফুল–ফলের গাছ। অরেঞ্জ জুস ফ্যাক্টরি। তারপর তিস্তাবাজার পেরিয়ে বেশ দূরে তিস্তা ও রঙ্গিত নদীর সঙ্গম। লাভার্স মিট–‌ভিউ পয়েন্ট। অনেক নিচে সঙ্গম। তারপর কিছু দূরে লামাহাটায় একটি নতুন তৈরি সুন্দর পার্ক। ধাপে ধাপে প্রচুর ফুলগাছ। তারপর সুন্দর চা–বাগানের মধ্য দিয়ে অন্য রাস্তায় কিছুক্ষণের মধ্যেই রিসর্টে ফেরা।
পরদিন ফেরার সময় বিদায় সংবর্ধনাটিও মনে রাখার মতো। আমাদের প্রত্যেকের গলায় পাতলা রঙিন কাপড়ের মাফলারের মতো ‘‌খাদা’‌ দিয়ে সম্মানিত করা হল।
ব্যাকপ্যাক
হাওড়া থেকে ১২০৪১ শতাব্দী এক্সপ্রেস, ১২৩৪৫ সরাইঘাট এক্সপ্রেস ও শিয়ালদহ থেকে ১৩১৪৯ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, ১২৩৪৩ দার্জিলিং মেলে, ১৩১৪১ তিস্তা-‌তোর্সা, ১২৩৭৭ পদাতিক এক্সপ্রেসে নিউ জলপাইগুড়ি। ভাড়া: ১এ- ‌২,১৭০,‌ ২এ-‌ ১,২৯৫, ৩এ-‌ ৯৭৫ ও স্লিপার-‌ ৩৫০ টাকা। সেখান থেকে রিসর্টের গাড়িতে যাওয়াই ভাল। ফোন করলে গাড়ি পাঠিয়ে দেবে। ফোন:‌ ৯৮০০০-‌৭২৬৩৯, ৮৯৭২৫-‌৪৯৮২৭ ও ৯৩৩২৯-‌০১০৪১। ই-‌মেল:[email protected]। নন-‌ভেজ‌ ৬০০ ও ভেজ‌ ৪৫০ টাকা প্রতিদিন। ‌থাকা–‌ ১,২০০–‌‌ ২,৫০০ টাকা। জানুয়ারি’‌১৬ থেকে ভাড়া বাড়ল। যাওয়ার ভাল সময়:‌ অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি‌‌‌‌
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৩:৫৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একান্ত ভাবনা

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪০

একবার রিয়েক্টর ফিজিক্স ক্লাসে আমাদের একজন শিক্ষক বলেছিলেন, "এই দেশে আসলে সবাই সবার সঙ্গে বাটপারি করে।" কথাটা শুনে প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু যতদিন গেছে, চারপাশটা যতটুকু দেখেছি, ততই মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×