গতকাল ইফতারের আগে সালাদ বানাতে গিয়ে চাকুর পোচে অনামিকা কেটে শোণিত বের হলে আমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়ি। শসার কুচিতে রক্তের মাখামাখি। কোথায় একটু সান্তনা দেবে সেখানে উল্টো জায়া এসে শাসিয়ে গেল। রক্ত যাতে আর বের হতে না পারে আমি আঙ্গুল চেপে ধরে বারান্দায় চলে এলাম। কাকে দোষ দেয়া যায় চিন্তা করতে লাগলাম। পেয়েছি, উপবাসব্রত (ফার্সিতে রোজা) মানে আরবিতে সাওম। রোজার মাসে আমি যে পরিমাণ সালাদ খাই বাকি মাসগুলোতে তার ধারে কাছেও যাই না। সালাদ বানাতে গিয়েই আজ আমার এই দুর্গতি। সাওম কী?
কুরআন বলছেন, ‘হে আমানুগণ, তোমাদের উপর সিয়াম কিতাবস্থ করা হল যেভাবে কিতাবস্থ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেন তোমরা তাকওয়া কর’ (২:১৮৩)।
অধিকাংশজন অনুবাদে লিখেছেন, তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হলো। কোথায় ফরয আর কোথায় কিতাব। ফরযই যদি করা হতো তাহলে তো তিনি কিতাবের পরিবর্তে ফরয বলতে পারতেন।
কিতাব বলতে আসলে কী বুঝানো হয়েছে কিংবা কিতাবের ব্যাখ্যা আমি এখানে দেবোনা। এটা অনেক গভীর একটি বিষয়। ফরয মানে হলো আবশ্যিক কর্তব্য। রোজা কি সবাই পালন করতে পারে? কবি নজরুলের একটি পংক্তি মনে পড়ছে,
‘জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসে না নিদ’
পৃথিবী একটা বৈচিত্র্যের কারখানা, এখানে কেউ কেউ সারা বছর রোজা রাখে নিয়তির নির্মম প্রতিশোধে আর কেউ কেউ মাসে একবার রোজা রেখে দু’চোখে বেহেশতের হুর-পরী দেখতে শুরু করে। রোজাও রাখে আবার মানুষের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেয়! এ কী তামাশা!
পরিমিত খাওয়ার মধ্যে একটি উপকারিতা আছে আর সেটা রোজা না রেখেও করা যায়। পরিমিত অর্থ হলো লোভ সংবরণ। হালাল-হারামের বাছ-বিচার করা। মনে করবেন না আমি আবার রোজা রাখতে নিরুৎসাহিত করছি।
তোমাদের উপর সিয়াম কিতাবস্থ করা হল। এটা নিয়ে ভাবুন। আগে সিয়াম এবং কিতাবের জ্ঞান অর্জন করুন। তারপর না হয় আস্তে ধীরে রোজা-কালাম করা যাবে।
রক্ত পড়া বন্ধ হয়েছে। যাই, ইফতার করতে বসি। নইলে শরীয়তের রোজা ভাঙ্গবে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




