somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চিন্তার বিষয়-৫

২২ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


- বাবা বাবা, ইবলিস আর শায়তান কি একই সত্ত্বা?
- না মামণি। ইবলিসকে কুরআনে কাফির বলা হয়েছে।
- আর শায়তান? সেও কি কাফির?
- না, তাকে কাফির বলা হয়নি। তবে সে ...
- থেমে গেলেন কেন? বলুন, তবে সে কী?
- সে কুমন্ত্রণাকারী।
- তাহলে ইবলিস এর কাজ কী? সেও কি কুমন্ত্রণা দেয় না?
- না, সে অহংকারী। আর যারা অহংকারী তাদের দ্বারা আল্লাহর নির্দেশ মানা সম্ভব হয় না।
- তাহলে আমরাও কি অহংকারী কারণ প্রতিদিন আমরাও তো আল্লাহর অনেক আদেশ নিষেধ মানতে পারছি না।
- হতে পারে।
- বলেন কি! তাহলে অহংকারী মানেই তো ইবলিস। কিন্তু ইবলিস তো আল্লাহর প্রিয়পাত্র ছিল।
- এটা কোথায় পেয়েছো? কে বলেছে? কুরআনে বলা হয়েছে ইবলিস ছিল জ্বীনদের অন্তর্ভুক্ত।
- জ্বীন কী?
- জ্বীন একটি সৃষ্টি, কুরআন অনুযায়ী শিখাবিহীন অগ্নি থেকে তাকে সৃজন করা হয়েছে।
- শিখাবিহীন অগ্নি আবার কী? শিখা হলো আগুনের দৃশ্যমান অংশ। শিখা নেই আগুনও নেই।
- যা দেখা যায় না কিন্তু অনুভব করা যায় সেটাই হলো শিখাবিহীন অগ্নি। যেমন কারো নিকট থেকে আঘাত পেলে আমাদের হৃদয়ে আগুন জ্বলতে থাকে।
- অর্থাৎ তারা দৃশ্যমান নয়। তাহলে তারা থাকে কোথায়?
- ইবলিসের সাথে।
- তার মানে ইবলিসও দৃশ্যমান নয়, তাই নয় কি?
- হুম।
- তাহলে মালাইকা তথা ফিরেশতেহরাও তো শিখাবিহীন অগ্নি থেকে তৈরি। এবং তারাও দৃশ্যমান নয়।
- ফিরেশতেহরা দৃশ্যমান নয় এটা ঠিক আছে কিন্তু তারা শিখাবিহীন অগ্নি থেকে তৈরি এটা কোথায় পেয়েছো?
- কুরআনেই তো আছে যে ফিরেশতেহদেরকে যখন বলা হলো আদমের জন্য সেজদা করতে, তারা সবাই আল্লাহর আদেশ পালন করলো কিন্তু ইবলিস করলো না অর্থাৎ সে সেখানেই ছিল মানে ফিরেশতেহদের সাথে। তার মানে সেও ফিরেশতেহ ছিল এবং যেহেতু সে শিখাবিহীন অগ্নি থেকে তৈরি তাহলে ফিরেশতেহরাও তো একই হওয়ার কথা।
- তোমার কথায় যুক্তি আছে। কিন্তু ফিরেশতেহরা কী দিয়ে তৈরি এটা কুরআনে নেই। এবং ইবলিস যে ফিরেশতেহদের অন্তর্ভুক্ত এটাও কুরআনে নেই বরং বলা হয়েছে সে জ্বীনদের অন্তর্ভুক্ত।
- কিন্তু আমরা সবাই যে জানি ফিরেশতেহরা নূর তথা আলোর তৈরি।
- এটা হাদিসে আছে কিন্তু কুরআন এ বিষয়ে নীরব থেকেছেন।
- কেন বাবা? কুরআন কেন অনেক বিষয়ে নীরব থেকেছেন?
- তুমি আদম বিষয়ক আয়াতগুলো আরো গভীরভাবে দেখো, বলা হয়েছে, "তোমাদের সৃজন করি", বহুবচন। ফিরেশতেহরাও অনেকজন ছিল। পরক্ষণেই বলা হয়েছে আদমের কথা। আদম কিন্তু একজন। আদমদের বলা হয়নি। ইবলিসও একজন।
- এটা কী কারণে বাবা? আর ইবলিস কেন আদমকে সেজদা করল না?
- ওই যে শায়তান‌ এর কুমন্ত্রণা।
- মানে! শায়তান‌ ইবলিসকেও কুমন্ত্রণা দিয়েছিল?
- কুরআন অনুযায়ী শায়তান একমাত্র কাফিরদের কুমন্ত্রণা দিতে পারে (সূরা মরিয়ম) এবং তারা ভর করতে পারে মিথ্যাবাদীদের উপর (সূরা শুয়ারা)। আর ইবলিসকে কুরআনে কাফির বলা হয়েছে।
- কিন্তু ইবলিস তো কাফির হয়েছে আদমকে সেজদা না করার ফলে।
- কুরআনের সর্বশেষ সূরাতেও কিন্তু উল্লেখ হয়েছে যে শায়তানই কুমন্ত্রণা দেয় জ্বীনের মাধ্যমে। আর ইবলিস ছিল জ্বীনদের অন্তর্ভুক্ত।
তবে সেখানে তাকে খান্নাস বলা হয়েছে।
- আমার মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
- বলে ফেল।
- এই যে আপনি বললেন, শায়তান একমাত্র কাফিরদের কুমন্ত্রণা দিতে পারে। আদম এবং তার সঙ্গীনিও শায়তানের কুমন্ত্রণার শিকার। তবে কি তাঁরা...
- শায়তান কিন্তু নবীদেরও শত্রু এটা সূরা আনআমে আছে।
- কিন্তু বাবা, কুরআনে তো আদমকে কোথাও নবী বলা হয়নি। আর শায়তানকে কী দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে সেটারও উল্লেখ নেই। কিন্তু বারবার বলা হয়েছে যে শায়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
- এসব বিষয় আরো বড় হলে জানতে পারবে মামণি।
- বাবা বাবা, ইবলিস আর শায়তান কি একই সত্ত্বা?
- না মামণি। ইবলিসকে কুরআনে কাফির বলা হয়েছে।
- আর শায়তান? সেও কি কাফির?
- না, তাকে কাফির বলা হয়নি। তবে সে ...
- থেমে গেলেন কেন? বলুন, তবে সে কী?
- সে কুমন্ত্রণাকারী।
- তাহলে ইবলিস এর কাজ কী? সেও কি কুমন্ত্রণা দেয় না?
- না, সে অহংকারী। আর যারা অহংকারী তাদের দ্বারা আল্লাহর নির্দেশ মানা সম্ভব হয় না।
- তাহলে আমরাও কি অহংকারী কারণ প্রতিদিন আমরাও তো আল্লাহর অনেক আদেশ নিষেধ মানতে পারছি না।
- হতে পারে।
- বলেন কি! তাহলে অহংকারী মানেই তো ইবলিস। কিন্তু ইবলিস তো আল্লাহর প্রিয়পাত্র ছিল।
- এটা কোথায় পেয়েছো? কে বলেছে? কুরআনে বলা হয়েছে ইবলিস ছিল জ্বীনদের অন্তর্ভুক্ত।
- জ্বীন কী?
- জ্বীন একটি সৃষ্টি, কুরআন অনুযায়ী শিখাবিহীন অগ্নি থেকে তাকে সৃজন করা হয়েছে।
- শিখাবিহীন অগ্নি আবার কী? শিখা হলো আগুনের দৃশ্যমান অংশ। শিখা নেই আগুনও নেই।
- যা দেখা যায় না কিন্তু অনুভব করা যায় সেটাই হলো শিখাবিহীন অগ্নি। যেমন কারো নিকট থেকে আঘাত পেলে আমাদের হৃদয়ে আগুন জ্বলতে থাকে।
- অর্থাৎ তারা দৃশ্যমান নয়। তাহলে তারা থাকে কোথায়?
- ইবলিসের সাথে।
- তার মানে ইবলিসও দৃশ্যমান নয়, তাই নয় কি?
- হুম।
- তাহলে মালাইকা তথা ফিরেশতেহরাও তো শিখাবিহীন অগ্নি থেকে তৈরি। এবং তারাও দৃশ্যমান নয়।
- ফিরেশতেহরা দৃশ্যমান নয় এটা ঠিক আছে কিন্তু তারা শিখাবিহীন অগ্নি থেকে তৈরি এটা কোথায় পেয়েছো?
- কুরআনেই তো আছে যে ফিরেশতেহদেরকে যখন বলা হলো আদমের জন্য সেজদা করতে, তারা সবাই আল্লাহর আদেশ পালন করলো কিন্তু ইবলিস করলো না অর্থাৎ সে সেখানেই ছিল মানে ফিরেশতেহদের সাথে। তার মানে সেও ফিরেশতেহ ছিল এবং যেহেতু সে শিখাবিহীন অগ্নি থেকে তৈরি তাহলে ফিরেশতেহরাও তো একই হওয়ার কথা।
- তোমার কথায় যুক্তি আছে। কিন্তু ফিরেশতেহরা কী দিয়ে তৈরি এটা কুরআনে নেই। এবং ইবলিস যে ফিরেশতেহদের অন্তর্ভুক্ত এটাও কুরআনে নেই বরং বলা হয়েছে সে জ্বীনদের অন্তর্ভুক্ত।
- কিন্তু আমরা সবাই যে জানি ফিরেশতেহরা নূর তথা আলোর তৈরি।
- এটা হাদিসে আছে কিন্তু কুরআন এ বিষয়ে নীরব থেকেছেন।
- কেন বাবা? কুরআন কেন অনেক বিষয়ে নীরব থেকেছেন?
- তুমি আদম বিষয়ক আয়াতগুলো আরো গভীরভাবে দেখো, বলা হয়েছে, "তোমাদের সৃজন করি", বহুবচন। ফিরেশতেহরাও অনেকজন ছিল। পরক্ষণেই বলা হয়েছে আদমের কথা। আদম কিন্তু একজন। আদমদের বলা হয়নি। ইবলিসও একজন।
- এটা কী কারণে বাবা? আর ইবলিস কেন আদমকে সেজদা করল না?
- ওই যে শায়তান‌ এর কুমন্ত্রণা।
- মানে! শায়তান‌ ইবলিসকেও কুমন্ত্রণা দিয়েছিল?
- কুরআন অনুযায়ী শায়তান একমাত্র কাফিরদের কুমন্ত্রণা দিতে পারে (সূরা মরিয়ম) এবং তারা ভর করতে পারে মিথ্যাবাদীদের উপর (সূরা শুয়ারা)। আর ইবলিসকে কুরআনে কাফির বলা হয়েছে।
- কিন্তু ইবলিস তো কাফির হয়েছে আদমকে সেজদা না করার ফলে।
- কুরআনের সর্বশেষ সূরাতেও কিন্তু উল্লেখ হয়েছে যে শায়তানই কুমন্ত্রণা দেয় জ্বীনের মাধ্যমে। আর ইবলিস ছিল জ্বীনদের অন্তর্ভুক্ত।
তবে সেখানে তাকে খান্নাস বলা হয়েছে।
- আমার মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
- বলে ফেল।
- এই যে আপনি বললেন, শায়তান একমাত্র কাফিরদের কুমন্ত্রণা দিতে পারে। আদম এবং তার সঙ্গীনিও শায়তানের কুমন্ত্রণার শিকার। তবে কি তাঁরা...
- শায়তান কিন্তু নবীদেরও শত্রু এটা সূরা আনআমে আছে।
- কিন্তু বাবা, কুরআনে তো আদমকে কোথাও নবী বলা হয়নি। আর শায়তানকে কী দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে সেটারও উল্লেখ নেই। কিন্তু বারবার বলা হয়েছে যে শায়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
- এসব বিষয় আরো বড় হলে জানতে পারবে মামণি।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৯
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×