somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রজাপতি সারাহ

০৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



৪।


চারিদিকে রং বেরঙের প্রজাপতি উড়ছে। তারা হাসাহাসি করছে, খেলছে আর কী কী যেন বলছে। এ আমি কোথায় এলাম? কীভাবে এলাম? এটা কি প্রজাপতিদের রাজ্য? হঠাৎ আমার সারাহ’র কথা মনে পড়ল। প্রজাপতি সারাহ। সে কোথায়? তাকে দেখছি না কেন?

– এই যে আমি, তোমার পেছনেই ছিলাম।
– সারাহ! এতোক্ষণ চুপ ছিলে কেন? আমি তো এখানে অসহায় বোধ করছিলাম। একি! তোমার মুখ মলিন কেন সারাহ?
– না তোহ। তুমি কেমন আছো?
– অনেকদিন পর তোমার দেখা পেলাম। তুমি মনে হয় আমার নিকট থেকে কিছু লুকোচ্ছো?
– না না তেমন কিছু না। মনটা একটু খারাপ। আমার সাথে উড়বে?
– উড়বো কিন্তু আগে বলো কেন মন খারাপ?
– না, আগে উড়তে হবে।
– কিন্তু আমার তো পাখা নেই।
– আমি আছি না। এসো, আমার হাত ধরো।

সারাহ’র হাত ছোঁয়া মাত্রই আমার নিজেকে হালকা মনে হল। তার হাতে কি জাদু আছে? আমার মনে হচ্ছে আমি চাইলেই এখন উড়তে পারব।

– মন খারাপের অনেক কারণ আছে। কয়টা শুনবে? বাদ দাও। তোমার সাথে সুন্দর সময় কাটছে। তাতেই আমার মন ভালো হয়ে যাচ্ছে।
– তাই নাকি? তাহলে চলো আরেকটু উপরে উড়ি, মেঘেরও উপরে।
– না না, একদম সীমালঙ্ঘন করা যাবে না। মানা আছে।
– কিন্তু আমার তো খুব ইচ্ছে করছে। এ সুযোগ আর পাবো কিনা জানিনা।
– তুমিতো সুযোগ সন্ধানীদের মত কথা বলছো! মানা মানেই মানা। সুযোগ সন্ধানীদের প্রেম করা মানায় না।
– বাহ, চমৎকার বললে তো, সুযোগ সন্ধানীদের প্রেম করা মানায় না। তোমাকে ধন্যবাদ আমার চোখ খুলে দেয়ার জন্য।
– আজ তোমাকে আত্মশুদ্ধি’র বিষয়ে বলার কথা ছিল যে যারা আত্মশুদ্ধি করতে পারবে তারাই মু’মিনের সাথে থাকতে পারবে।
– হুম। আত্ম মানে তো নিজ মানে আমি। অর্থাৎ আমার শুদ্ধি। আমার শুদ্ধি আমি কীভাবে করব? নিজের দোষ কি কেউ নিজে দেখতে পারে?
– আত্ম মানে তোমার নফস। হ্যাঁ ব্যাপারটা অনেকের হজম করতে কষ্ট হবে।
– আত্ম মানে নফস! এটা কীভাবে সম্ভব? নফস তো অন্য জিনিস। নফস একটা ইন্দ্রিয়। কুরআনে চার প্রকার নফসের কথা উল্লেখ আছে।
– চার প্রকার ছাড়াও কুরআনে আরও অনেক জায়গায় নফসের কথা বিভিন্নভাবে উল্লেখ আছে। তুমি সেসব ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে দেখো, দেখবে তোমার নফসই হলো তুমি নিজে।
– কিন্তু আত্মশুদ্ধি বলতে আমরা তো কাল্ব তথা অন্তরের পরিশুদ্ধির কথাই শুনে আসছি। যেমন কুরআনের সূরা শুআরা’য় আছে যে ক্বিয়ামতের দিন ধন সম্পদ কিংবা সন্তান সন্ততি কোন কাজে আসবে না একমাত্র কল্বে সলিম ব্যতীত।
– তার মানে তুমি বলতে চাইছো কাল্ব অর্থ হলো অন্তর। কিন্তু সমস্যা হল কুরআনে সর্বত্র কাল্ব বলতে অন্তর বুঝায়নি। তুমি সূরা শুআরা’র যে আয়াতের কথা বলেছ সেখানে কিন্তু কাল্ব এর অর্থ অন্তর নয় অন্য কিছু।
– অন্য কিছু মানে!
– সেটা এখন তোমাকে বলতে পারছি না কারণ আমাদের বিষয় ছিল আত্মার পরিশুদ্ধি। অন্তরের আরবি হচ্ছে সদর। সূরা ইনশিরাহ’র প্রথম আয়াতে আছে। তুমি ভালো করে কুরআন পড়ে দেখো, কাল্বের কথা যেখানে এসেছে সেখানে ক্বিয়ামত কিংবা জান্নাত অথবা জাহান্নাম এর মত বিষয় থাকবে। আর কাল্বের পরিশুদ্ধির কথা কুরআনে সেভাবে বলা হয়নি। বলা হয়েছে নফসের পরিশুদ্ধির কথা। ক্বিয়ামতের দিন কী কাজে আসবে আর আসবে না তার চেয়ে বড় কথা হলো জীবিত থাকা অবস্থায় আত্ম তথা নফসের পরিশুদ্ধির জন্য আমি কী করছি। সূরা শামস এ বলা হয়েছে, যে নফসকে পরিশুদ্ধ করতে পেরেছে সেই সফলকাম।
– কিন্তু আমরা একটি হাদিসে পড়েছি যে দেহে একটি মাংসপিণ্ড আছে যা ঠিক থাকলে পুরো দেহ ঠিক থাকে আর ঠিক না থাকলে পুরো দেহই অসুস্থ, সেটা হলো কাল্ব।
– হুম জানি। এ্যরাবিক মিথে যে কোন প্রকার উল্টানো জিনিসকে কাল্ব বলে। আমাদের শরীরে দুটো জিনিস উল্টানো অবস্থায় আছে তার মধ্যে একটি হলো হৃৎপিণ্ড তথা অন্তর, দয়া করে আরেকটির কথা জিজ্ঞেস করো না। হাদিসটিতে যে কাল্বের কথা বলা হয়েছে সেটা দিয়ে দুটোই বুঝাচ্ছে।
– আচ্ছা। কিন্তু কথা হল আত্মশুদ্ধি করতে পারলেই না আমি মু’মিনের সাথে থাকতে পারবো। তো আমি কীভাবে আত্মশুদ্ধি করব? বই পড়ে কি এটি সম্ভব?
– মোটেই না। তাহলে তো জগতের সবাই সুফি হয়ে যেত। কুরআনের সূরা তাওবায় আছে আত্মশুদ্ধি করতে হলে তোমাকে আগে আল্লাহর তাকওয়া করতে হবে এবং সাদেক তথা সত্যবাদীর সঙ্গী হতে হবে। সূরা শামস এ যে আয়াতে নফসকে পরিশুদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে তার আগের আয়াতে এর তাকওয়ার বিষয়ে জোর দিতে বলা হয়েছে। একমাত্র একজন সাদেক-ই তোমাকে তাকওয়ার বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান দিতে পারবেন। আর আল্লাহর তাকওয়া ছাড়া আত্মশুদ্ধি অসম্ভব।
– কিন্তু সূরা আল ইমরানে আমরা দেখি যেখানে আল্লাহ বলেছেন, ‘এবং আল্লাহ যাতে আ’মানুদের পরিশুদ্ধ করতে পারেন।’ অর্থাৎ ঈমানদারদের পরিশুদ্ধ করার দায়িত্ব তো তিনি নিজেই নিয়েছেন।
– তুমি কি ঈমানদার হতে পেরেছো যে আল্লাহ তোমার দায়িত্ব নেবেন?
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:১৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যুগে যুগে সারদা দেবী

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



নদীর নাম রুপসা।
জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায়ও রূপসা নদীর কথা বলেছেন। এই নদীতে স্নান করেছেন- রবীন্দ্রনাথের মা এবং স্ত্রী। বর্ষাকালে রুপসা নদী যেন যৌবনে ফিরে যায়। কি তেজ! কি জলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভাঃ কিছু অনুভূতি....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভাঃ কিছু অনুভূতি....

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে পিআইবি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয়ন্ধুতি!

লিখেছেন মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্‌, ০৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০১

আমায় তোমার করবে সাথী? প্রিয়ন্ধুতি?
কোথায় থাক? কোন আকাশে?
দাওনা কেন সদাই দেখা নিত্য নিতি?
উড়ে বেড়াই ঘুড়ির পথে
আসবে তুমি আমার সাথে? হয়ে কৃতী?
জাগতিক সব ভাবনা রেখে
অরূপ রূপে দিগ রাঙিয়ে
গড়তে অসম্ভবের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগের ফেরার জন্য কোনও পরাশক্তি নয় /।বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আর ইতিহাসের পাতাই যথেষ্ট॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৫ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৩৬



মাহফুজ, তুমি বাংলাদেশের তরুণদের কাছে একজন বেঈমান। যে যে কারণে আওয়ামী লীগ ব‍্যাক করেছে বলছো প্রায় সবগুলান কারনই সত‍্য। তবে সবচাইতে বড় কারণটা মিস করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলার সংগ্রামের ২০০ বছরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও তুলনা।

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৮

১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মাধ্যমে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয়। এরপর থেকে প্রথম ১০০ বছর ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সরাসরি সশস্ত্র সংগ্রাম মূলত বাংলাতেই হয়েছে। ১৮৩১ সালে তিতুমীরের 'বাঁশের কেল্লা' কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×