somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি নাকি উর্ধগতি’র দ্রব্য!?

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ ভোর ৫:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশ কয়েক বছর যাবতই দেশের প্রধান বর্তমান সমস্যা হচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগাম হীনতা যা অতি সম্প্রতি লাগামিত লাগামহীন হয়েছে। দৃশ্যত সবাই এই সমস্যা সমাধানে আপ্রাণ লড়ে যাচ্ছেন, শেষমেশ হাঁপিয়ে উঠে কেউ কেউ লাগাম দেয়ার চেষ্টাই ছেড়ে দিচ্ছে, কেউ কেউ লাগামের পিছে ঘুরে যাচ্ছে কিন' লাগামের দেখা পাচ্ছেনা। ফলাফল জনগণের নাভিশ্বাস। কিন্তু আসলেই কি বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজার লাগামহীন নাকি অতিলাগামিত?

সাম্প্রতিক কয়েক বছরের দ্রব্য মূল্যের বাজার মোটা দাগে খেয়াল করলে দেখা যায় যে উৎপাদনকালে স্বল্প কিছু সময়ের জন্য ঐ পণ্যের দাম সি'তিশীল থাকে, উৎপাদন যাই হোকনা কেন এর পর হুহু করে দাম বাড়তে থাকে। বর্ধিত মূল্য ভোগ করে মধ্যস্বত্তভোগীরা। অর্থনীতির মতে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়ে কিন্তু আমার ভোতা চোখে তার কোন প্রমাণ পাইনা, কারণ প্রায় প্রত্যেক দ্রব্যের মূল্য যাই হোকনা কেন বাজারে সরবরাহের ঘাটতি দৃশ্যত কখনোই চোখে পড়েনা। দাম যাই হোকনা কেন টাকা হলে বাজারে সবই কিনতে পাওয়া যায়। বর্তমান সরকার সম্ভবত এই বাজার নিয়ন্ত্রণের সর্বাধিক চেষ্টা করেছে এবং সর্বোচ্চ ব্যর্থ হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট-মজুতদার-ব্যবসায়ী সবই ধরা হয়েছে, বাজারে বাজারে রাজার কাজী দাম নিয়ন্ত্রণের কাজ নিয়েছে তবু ফলাফল ঘুরে ফিরে একই।

আমি পেশাগত কারণে এদেশের আমজনতার আর্থিক ও অর্থনৈতিক জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাই যারা মূলত দেশের প্রধান উৎপাদন খাত কৃষির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। পেশাগত দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত উৎসাহের ফলে দ্রব্য মূল্যের গতি-প্রগতি নিয়ে বিস্তর পর্যবেক্ষণের সুযোগ হয়।

উৎপাদনের প্রায় সাথে সাথেই কৃষক বা উৎপাদনকারী তার আবশ্যিক প্রয়োজনে কিছু পণ্য বিক্রয় করতে বাধ্য হয়, আবার অনেক কৃষকই তার প্রয়োজনীয় সব ফসলের চাষ প্রত্যেক বছর করেনা ফলে সে যা উৎপাদন করে তার কিছু অংশ বিক্রয় করে প্রয়োজনীয় অন্যান্য ফসল ক্রয় করে। ফলে এসময় বাজারে অধিক সরবরাহের জন্য দাম তুলনামূলক কিছুটা কম থাকে। কিন্তু এর পরেই বাজারের নিয়ন্ত্রণ বাজারের হাতে থাকেনা চলে যায় অদৃশ্য শক্তির হাতে। এই অদৃশ্য শক্তির বাজার নিয়ন্ত্রণের কোন যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যায়না তবে এটা বোঝা যায় কেউ কেউ এত লাভবান হচ্ছে, কিন্তু কারা তা খুঁজতে খুঁজতে লোম বাছতে কম্বল উজাড় হওয়ার যোগার, কিন্তু বাজার থামেনা।

আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বাজারে পাওয়া যায় মূলত দুই ভাবে-খোলা ও প্যাকেট জাত। খোলা পন্য গুলি প্যাকেট জাত পণ্য হতে কিছুটা কম মূল্যে এবং তা বাজারে সরবরাহের সাথে উৎপাদকের সম্পৃক্ততা তুলনামূলক বেশী। আর প্যাকেট জাতগুলি সরাসরি উৎপাদকের কাছ থেকে ভোক্তাদের নিকট আসেনা, তা তৃতীয় হাতে মূল্য সংযোজিত হয়ে বাজারে আসে। ফলে এর মূল্য কিছুটা বেশী হওয়াই স্বাভাবিক, কিন্তু কতটা বেশী? বাজারে খোলা পণ্যের দাম অসি'তিশীল হলেও প্যাকেট জাত পণ্যের দাম তুলনামূলক সি'তিশীল। যে কোন পণ্যের উৎপাদনকালে খোলা পণ্য ও প্যাকেট জাত পণ্যের দামের সর্বোচ্চ ব্যবধান থাকে। খোলা পণ্য ও প্যাকেট জাত পণ্যের দামের ব্যবধান যত কম হয় প্যাকেট জাত পণ্য ততবেশী বিক্রি হয়। প্রকৃতপৰে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে লাভবান বেশী হয় প্যাকেট জাত পণ্য বাজারজাত কারীরা। তারা বছরের শূরতেই বাজার থেকে তুলনামূলক কম মূল্যে তাদের সারা বছরের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে ফেলে, ফলে বাজারে একটা কৃত্রিম আপাত সংকট তৈরি হয় যা দাম বাড়তে সহায়তা করে। আবার সারা বছর ধরে তারা বাজারে পণ্য সরবরাহের ফলে দৃশ্যত বাজারে সরবরাহের কোন ঘাটতি থাকেনা, কেবল দাম বাড়তে থাকে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মূলত প্যাকেট জাত পণ্য সরবরাহকারী গুটিকতক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। এদের কাছে যে পরিমাণ মজুদ আছে তাই মূলত বাজারে পণ্যের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে ফলে উৎপাদন বেশী হলেও দাম কমেনা।

এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট ধারণা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধান কয়েকটি প্যাকেট জাত পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সারা বছরের বিক্রয় ও মূল্যের তারতম্য এবং মজুদ বিশেৱষন করলে আরও সহজে তা বোঝা যাবে। আবার যদি সরকার আইন করে দেয় কোন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বাজারজাত কারী প্রতিষ্ঠান তার সাত দিনের প্রয়োজনের চেয়ে বেশী পণ্য মজুদ করতে পারবেনা এবং তা যদি নিশ্চিত করা যায় তাহলেও বাজারের নিয়ন্ত্রণ বাজারের হাতে ফিরে আসবে।

এখানে একটা ব্যাপার লৰ্যনীয় যে বাজারে প্যাকেট জাত পণ্যের আগমন ও দ্রব্য মূল্যের লাগাম হীনতা প্রায় সমসাময়িক এবং সমহারে বিকাশমান। তাই দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণ খুঁজতে গেলে প্যাকেট জাত পণ্যের ভ'মিকা আগে উৎঘাটন করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ ভোর ৫:১৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোল্ডেন সেপিয়া দিগন্ত এবং ভ্যাঞ্জেলিসের অমর সুর: এক কালজয়ী সমুদ্রযাত্রার মহাকাব্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০০




গোল্ডেন সেপিয়া দিগন্ত এবং ভ্যাঞ্জেলিসের অমর সুর: এক কালজয়ী সমুদ্রযাত্রার মহাকাব্য


সময়টা যেন হুট করেই থমকে যায়, যখন ইথারে ভেসে আসে সেই অতিপ্রাকৃত সুরের মূর্ছনা। চোখ বন্ধ করলেই মনের ক্যানভাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×