somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রশ্নের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়!

১০ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ৩:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনে আমার হাজার প্রশ্ন উত্তর কোথাও নাই,
উত্তরটা সবারই জানা বলার দরকার নাই।
শুধু প্রশ্ন বাণেই বধিব সিঁদেল রাম ও রাবণ,
অসঙ্গতি ভেসে যাবে হলে প্রশ্নের প্লাবন।


আমার ধারণা শ্রেণীহীন পৃথিবীটা প্রেমহীন পৃথিবীর মতই শ্রীহীন হবে! মানুষের মধ্যে শ্রেনী ভেদ আছে বলেই বেঁচে থাকাটা এতটা বর্নিল আর শ্রেনীবদলই বেঁচে থাকার আসল প্রেরণা। যদিও আজতক নিজেকে ছাত্র ছাড়া আর কোন শ্রেনীভুক্ত বলে বিশ্বাস করতে পারিনি। বাস্তবে শ্রেনীহীন সমাজ-রাষ্ট্র-পৃথিবী সম্ভব বলে মার্ক্স নিজেও বিশ্বাস করতেন এটা আমার মোটেও বিশ্বাস হয় না। পৃথিবীর কোথাও কখনই ধ্রুপদী সমাজতন্ত্র ছিল না আর তা সম্ভবও নয়। আর পূঁজিবাদ যে রুপেই থাকুক তাতে শোষনের ধরণ বদলায় পরিমান নয়। সব মানুষ সমান এই ধারণাটা আমাদের পূর্বপুরুষদের জঙ্গল জীবনের জন্য প্রযোজ্য ছিল কারণ ওটাই ওখানকার নীতি। সভ্য মানুষেরা নিজেদের প্রাণী থেকে মানুষে রুপান্তর করবে আর এই রুপান্তরের হার নির্ধারণ করবে যার যার শ্রেনী। তবে অধিকারের প্রশ্নে মানুষ মাত্রই সমান অধিকার। পৃথিবীতে সাম্য বা ভারসাম্য কোনটাই সম্ভব নয় সম্পদের ব্যাক্তিগত উত্তরাধিকার প্রথা বহাল রেখে। ধরনীতে ধনী গরীব বৈষম্যের মূল হোতা এই উত্তরাধিকার প্রথা। পৃথিবীর সকল সম্পদে সকল মানুষের সম অধিকার জীবনের মৌলিক অধিকার যা ছাড়া নিজেদের সভ্য ভাবার কোন অধিকারই মানব জাতীর নাই। উত্তরাধিকার প্রথা বহাল রেখে মানব জাতীর পক্ষে কোন দিনও মানুষ হওয়া সম্ভব নয়!
আমাদের জাগতিক ধারণার মৌলিক ভিত্তি গুলোর প্রেক্ষিত সাংঘাতিক ভাবে শিল্প বিপ্লব ও পূঁজীবাদী ধ্যান ধারণা দ্বারা সচেতন কৌশলে প্রভাবিত। আর নিয়তি নির্ভর মনুষ্য প্রজাতির সদস্যরা কৃত্রিম ও সূযোগী সংকটের দায় কপালের উপর চাপিয়ে সব কিছু মেনে নিয়ে নিজেকে সর্বসহ্য বলদ প্রাণীতে পরিণত করার তালিম নিচ্ছে। যে সব প্রেক্ষিতে আমাদের জীবন নির্ধারণী নীতি গুলি তৈরী হয়েছিল তা আমুল বদলালেও তার সাথে সংগতি রেখে নীতি বদলায়নি তা শাসক গোষ্ঠীর সুবিধার্থে বরং যে টুকু বদলেছে তাও তাদেরই সুবিধার্থে। বর্তমান ব্যাবস্থা আর কোন ক্রমেই মেরামত যোগ্য নয় দরকার এর আমুল পরিবর্তন যা বিপ্লব ছাড়া সম্ভব নয়। তবে এই বিপ্লবের জন্য বন্দুক বা জঙ্গল কোনটাই দরকার নেই দরকার কেবল প্রশ্ন করতে শেখা সিস্টেমকে তার অসারতা নিয়ে। বাকিটা সবাই জানে কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক। 
সসস্ত্র বিপ্লবের বা ক্ষমতা দখলের হিরোইজম ফ্যান্টাসি বহু আগেই মেয়াদোত্তীর্ন হলেও যারা বাম কানে শোনে তারা এখনো সেটা জানেনা। এখন বন্দুক দিয়ে বিপ্লব কোন মতেই সম্ভব নয় তবে প্রশ্ন দিয়ে অবশ্যই সম্ভব! প্রশ্নহীনতাই অসঙ্গতিকে সঙ্গত করে মৌন সম্মতি দিয়ে। উত্তর পাওয়ার না পেলেও কিচ্ছু যায় আসে না। আকাশ বাতাস প্রশ্ন গুলি জেনে গেলে উত্তর একদিন আসবেই। কিম্বা উত্তরের আর প্রয়োজনই হবে না সঙ্গত কারণেই। যে কোন অসঙ্গতি দেখা মাত্রই প্রশ্ন করুন, এমনকি ঈশ্বরও বাদ যাবে না।

ভাবছ তোমার মতলব আমার জানা নাই,
সবই জানি সবই বুঝি ধরলে রক্ষা নাই।
প্রশ্ন দিয়ে লড়াই হবে আগামীর রাজপথে,
প্রশ্ন বিনা ছাড় নাই ঈশ্বর আসলেও পথে।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ৩:১২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

হয়তো আজ টেলিফোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো স্মার্ট হতো!



একসময় মানুষের দূর-দূরান্তে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। মোবাইল ফোনের মতোই টেলিফোন দিয়ে কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×