somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেষ রাতের শীতবস্ত্র

১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মফস্বলে এ সময়টায় খুব শীত পড়ে। আসার সময় বৌ যত্ন করে জ্যাকেট, শাল, সুয়েটার গুছিয়ে দিয়েছিল। সাথে দিয়েছিল তুশকা কাশির সিরাপ। দু'তিন দিনের ব্যাপার - তবুও সতর্কতা, যদি ঠান্ডা লেগে যায়! শেষ মুহূর্তে বড় মেয়ে যত্ন করে গলায় মাফলার জড়িয়ে বলেছিল - একদম অবহেলা করবে না!

দুই.
অবহেলা করার সময়টুকুও নেই। ভীষণ তাড়াহুড়া। অনেকগুলো মিটিং করতে হচ্ছে। টেবিল মিটিং, পথসভা, সমাবেশ, মহাসমাবেশ - পত্রিকার ভাষায় জনসংযোগ। মফস্বলে মিটিংয়ের চেয়ে কাজ বেশী, কোলাকুলি বেশী। এবার সময়টাও খুব গোলমেলে। তবে ভাগ্যজোরে শীত সিজনে ইলেকশন, কিংবা ইলেকশন সিজনে শীত! আহ্, কী অপূর্ব সমন্বয়! তাই শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে জোরেশোরে। মাইকিং হচ্ছে, পোস্টারিং হচ্ছে। নামের আগে জনদরদী, সমাজসেবক, এলাকার নয়নমণি যোগ হচ্ছে হরহামেশা। শীর্ণ শরীরের হাড্ডিসার মানুষের হাতে হাসিমুখে রিলিফ তুলে দিয়ে বেশ তৃপ্তি পাওয়া যায়। পাশ থেকে সাঙ্গপাঙ্গের দল বলে দেয়
- "জিনিস নেও, তয় ভোটের সময় নিমক হারামী কইরো না..."
শুনে নেতা মুচকি হাসে।
দরকারী কথাগুলো দরকারী মুহূর্তে বলা খুব প্রয়োজন।


তিন.
শীতকালে হাঁসের মাংস খুব স্বাদ হয়। ঘন মসলা দিয়ে রান্না করা তরকারীটাও ভালো ছিল। খিদের চোটে গপগপ করে খাওয়ায় বারবার ঢেকুর উঠছে। লবঙ্গ দিয়ে রং চা বানানো হয়েছে। ডাকবাংলোর বৈঠকখানায় বসে নেতা আস্তে আস্তে চায়ে চুমুক দিচ্ছে। গলাটা ঠিক রাখতে হবে। এই শীতে গলা বসে গেলে সমস্যা। চিৎকার করে ভাষণ না দিলে হাততালিও আসে না তেমন।
...রাত প্রায় এগারোটার মতো। পরদিনের প্রোগ্রাম ঠিক করে কর্মীরা ঘরে ফিরে গেছে। দলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক বসে আছে - যদি দু'চুমুক লাল পানি পাওয়া যায়, শীতের রাতে শরীরটা গরম হতো খুব! কিন্তু নেতার ভাবভঙ্গী সুবিধার ঠেকছে না। বুঝতে পেরে নেতা নিজেই বললেন
- ঢাকায় আইসো, তখন জমবো নে। বুঝো না, এখন ইলেকশনের সময় কোন দিক দিয়ে কোন কথা বের হয় আবার...!
- তাইলে গেলাম আজকে। সাধারণ সম্পাদক চেয়ার ছাড়ে।
- ঠিক আছে যাও, কালকে সকাল সকাল চলে আইসো। বাকী সব ঠিক আছে তো?
- ঠিক মানে? পুরা ঠিক! কোন টেনশন কইরেন না।
দুজনেরই ঠোটের কোণায় তখন লুকানো হাসি।


চার.
শেষ রাতের দিকে ক্যামন যেন একটা খোঁচাখুচিতে নেতার ঘুম ভেঙে যায়। গায়ের উপরের লেপটা কে যেন টান দিয়ে নিতে চাইছে। ঘুমঘুম ভাব নিয়ে নেতা বলেন
- অ্যাই, কী হইছে?
- খুব শীত করতাছে।
ডিমলাইটের হাল্কা আলোয় নেতা দেখে - পাশে শোয়া মেয়েটি শীতে কুঁকড়ে আছে। খানিকটা মায়াও হয় - অনভ্যস্ত শরীরের উপর ধকলটা বোধ হয় একটু বেশী হয়ে গেছে।
নেতা কিছু বলার আগে জড়ানো গলায় মেয়েটি আবার বলে - খুব শীত করতাছে, লেপের এই পাশটা একটু দিবেন!

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৩:৫৭
২৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×