somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনিঃশেষ

০৬ ই মে, ২০১৬ সকাল ১১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অ্যালার্মটা বেজেই চলছে।
১৬ই জুন।
সকাল ৯টা ।
রাহাত আড়মোড়া ভেঙ্গে বলল ‘অ্যা’
আজ তো সকাল সকাল উঠার কথা ছিল। নইলে রিজুকে আর ধরা যাবে না।
রাহাত রিজুর রুমে গিয়ে আমতা আমতা করে বলল ‘দোস্ত, তোর ঐ নীল পাঞ্জাবিটা দেওয়া যাবে ? ঐ যে গত ঈদে কিনেছিলি? ’
কথাটা বলতে একটু আধটু লজ্জা করছিল রাহাতের। কিন্তু কি আর করার !
নীলার তো ঐ নীল রঙই পছন্দ। নইলে টানা চারটি বৈশাখে কি আর এমনি এমনি নীল শাড়ি পরেছিল। তার উপর গত চার বছর ঐ নীল চুড়ি পরেই তো প্রতিদিন ক্যাম্পাসে আসে।
হ্যাঁ, রাহাতে চোখে কিছুটা সমস্যা আছে। তাই বলে তো আর কালার ব্লাইন্ড না !
বিকেল সাড়ে চারটের সময় সার্কেল রোডের পাশের বাঁশের হাফ বেঞ্চিটার পাশে রাহাতের অপেক্ষা করার কথা ছিল।
ঠিক বাইশ মিনিট আগেই রাহাত পৌঁছে গেল। সাথে দুইটি সাদা গোলাপ। অবশ্য খয়েরি রঙের একটি খামের মধ্যে। আশে-পাশের মানুষজনের কথা চিন্তা করে এই অভিনব চিন্তা।
বিকেল পৌনে পাঁচটা বাজে। নীলা কি আদৌ আসবে?
অবশ্য রাহাতের কাছে এর কোন উত্তর নেই।
হঠাৎ করেই মোবাইলটা বেজে উঠলো। এসময় মাহিনের ফোন!
ওপাশ থেকে ‘দোস্ত, তোর বাবা আর নেই’
রাহাত কিছুক্ষণের জন্য সম্মোহিত হয়ে পড়লো। তারপর নিজেকে সামলিয়ে বলল ‘কখন?’
উত্তরের অপেক্ষা না করেই আবার বলল ‘আমি আসছি’ ।
খয়েরি রঙের খামটা ঐ হাফ বেঞ্চিটা উপর রেখেই রাহাত উঠে পড়লো।
রাহাত এখন গাড়ীতে। সূর্য তখনও পুরোপুরি অস্ত যায়নি। তবে আকাশের নীলটা আস্তে আস্তে শেষ বিকেলের সূর্যের রক্তিম আভায় মিলিয়ে যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর তা গাঢ় অন্ধকারের আচ্ছাদনে ঢাকা পড়লো।
‘নীলা কি এসেছিল?’





হঠাৎ অ্যালার্মটা বেজে উঠলো...
রাহাত সম্ভিত খুঁজে পেলো।
ন’বছর আগের ঘটনাগুলো আজ হঠাৎ করে মনে পড়লো।
ও আজ তো ১৬ই জুন!!!
তবে আজ বাহিরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে।
ইলেক্ট্রিসিটিটাও চলে গেছে।
এরপর নীলার সাথে আর দেখা হয়নি।
হয়তো আর হবে ও না।
ঐ ঘটনার পর যখন রাহাত ক্যাম্পাসে ফিরে আসলো, ততদিনে নীলা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গিয়েছিলো।
ওদের পুরো পরিবার নাকি অস্ট্রেলিয়া চলে গিয়েছিলো।
রাহাত ও আর খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করে নি।
ইলেক্ট্রিসিটি চলে এসেছে...
বৃষ্টি শেষ।
একটু পরে গাড়ি চলে আসবে।
রাহাত ও ব্যস্ত হয়ে পড়লো।
এক্ষুনি যে বের হতে হবে।
পাড়ি দিতে আরও অনেকটা পথ।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০১৬ সকাল ১১:১৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জ্ঞান কোনো একক কর্তৃত্ব নয়: সমন্বিত প্রজ্ঞা

লিখেছেন রাড্ডা, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১০:২১



বিশ্ব আজ যেখানটায় দাঁড়িয়ে তা কোনো একক ব্যক্তি, একক প্রতিষ্ঠান বা একক চিন্তার ফসল নয়; বরং এটি বহুমাত্রিক জ্ঞান, সমন্বিত গবেষণা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার একটি দীর্ঘ যাত্রার ফল। ইউরোপ, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেলের বৃষ্টি

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


বিকেলের শেষে হঠাৎ বৃষ্টি নামলে
জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলে চুপ,
তোমার ওমন ঘন মেঘের মতো চুলে
জমে ছিল আকাশের গন্ধ,
কদমফুলের মতো বিষণ্ন তার রূপ।

আমি তখন পথহারা এক নগর বাউল,
বুকের ভেতর কেবল ধোঁয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তরের আগের আর পরের জামাত এখনও এক

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০২ রা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮


গোলাম পরওয়ার বলেছে একাত্তরের জামাত আর বর্তমান জামাত এক নয়। অথচ এক। স্বাধীনতার আগের জামাত আর পরের জামাত একই রকম।
একাত্তরের আগে জামাত পাকিস্তানের গো% চাটতো এখনও তাই চাটে। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনার ধানে নোনা জল

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:১২



হঠাৎ একটা তীক্ষ্ণ শব্দে রেদোয়ানের ঘুম ভাঙল। না, কোনো স্বপ্ন নয়; মেঘের ডাক আর টিনের চালে বৃষ্টির উন্মত্ত তান্ডব। বিছানা ছেড়ে দরজায় এসে দাঁড়াতেই এক ঝলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×