শেষ যে কবে পরে ছিলাম মনে নেই
বোধ হয় হারিয়ে ফেলেছি।
কিন্তু হারিয়ে ফেলার তো কথা নয়
সারাক্ষন চোখে চোখে রাখতাম,
রঙিন দুনিয়াকে একটু কালচে করে দেখার প্রচেষ্টা মাত্র।
সেবার গাবতলীর টার্মিনালে তীব্র যানজটে
রাস্তায় দাড়িয়ে চিৎকার করে গান গেয়েছিলাম,
তখনও তো চোখে ছিল ।
আবার সেদিন যখন নিরীহ ছাত্রদের উপর
শোষকদের নির্যাতনের কাহিনী পড়ছিলাম,
তখনও বোধ হয় ছিল!!
আমার সানগ্লাসটা খুব গোঁয়ার ছিল,
খুব দুঃখজনক কোন কাহিনী কি খুব সহজে
অনুধাবন করতে পারতো ।
চোখের কোনে পানি জমতে দিত না।
লেখার ঝাঁঝ ওই কালো পর্দা ভেদ করে
চোখে আঘাত করতে পারতো না যে।
ওই সানগ্লাসটি পরলে মনে হত
উচ্চাভিলাষী ওই সেনাশাসকের টুঁটি চেপে ধরি,
দুই হাতের মধ্যে পিষ্টে মারি যতসব কুলাঙ্গার দেশনেতাকে ।
আবার ওই সানগ্লাসটি পরলে ভুলে যায়
সেসব কীর্তিমানদের কথা, দিন বদলের নায়কদের কথা,
রাস্তার পাশে শীতার্ত মানুষের হাহাকার
বস্ত্রের জন্য, খাদ্যের জন্য,
আমি ভুলে যায় রোজ সকালে হেঁটে চলা
বাজারের থলি হাতে ওই মধ্যবিত্ত চাকুরীজীবীকে,
আমি ভুলে যায়, সেই মায়ের সন্তানকে
যে মা তার শেষ সম্বল বিক্রি করে
সন্তানকে পাঠিয়েছিলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ,
আর সেই সন্তান লাশ হয়ে ফিরছে ঘরে,
যেন তার সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে।
ওই সানগ্লাসটি নাকি ভারি দুষ্টু ছিল,
ওটার মধ্য দিয়ে আমি দেখতাম
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু অতি
আধুনিক মেয়েদের বচনামৃত দেহ ,
কিছু নব্য আধুনিকতার নটিকীর্তন।
কিন্তু এক জায়গায় ওই সানগ্লাসটি অন্ধ ছিল
যখন কোন বেশ্যা পরদিন সকালে খাবারের জন্য
আগের রাতে দেহ বিলাতো,
যখন খাদ্যাভাবে ইথুপিয়ার কোনো শিশুর নির্মম মৃত্যু ঘটত,
কিংবা অর্থাভাবে নিন্মপদস্থ কোনো কেরানী ছিনতাইকারী উপাধি পেত।
আমি আর লিখতে পারছি না, হাতটা অবশ হয়ে যাচ্ছে,
চোখটাও ঝাপসা হয়ে আসছে।
ইদানিং আমার আর সানগ্লাস এর প্রয়োজন হয় না
আবেগ গুলো এমনিতেই নিয়ন্ত্রনে থাকে
চোখের মধ্যে ময়লার আস্তরণ পড়ে না,
মনে হয় চোখে পর্দা পড়ছে,
কালো একটি পুরু পর্দা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


