ফ্রান্সের বিজ্ঞানীরা এক অনন্য জৈব জ্বালানি কোষ তৈরী করেছেন যেটি সালোকসংশ্লেষন প্রক্রিয়ার সময়কার রাসায়নিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে সক্ষম। এই আবিষ্কার সৌরশক্তিকে পরিবেশ বান্ধব উপায়ে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে একটি মোক্ষম উপায় হতে পারে। এছাড়া এই জৈব জ্বালানি কোষ চিকিৎসা ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
সালোকসংশ্লেষন প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। আলোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং পানি, কিছু জটিল রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শর্করা এবং অক্সিজেন এ রূপান্তরিত হয়। ‘সেন্টার ডি রিসার্চ পল পাসকেল (CNRS)’ এর গবেষকরা এক ধরনের জৈব জ্বালানি কোষ উদ্ভাবন করেছেন যেটা এনজাইম-বিশেষিত ইলেক্ট্রোড দিয়ে তৈরী এবং কাজ করে সালোকসংশ্লেষনের উৎপাদ (শর্করা এবং পানি) ব্যবহার করে। জৈব জ্বালানি কোষটি পরীক্ষনের জন্য একটি ক্যাক্টাসে প্রবেশ করানো হয়। যখনই ইলেক্ট্রোডগুলোকে ক্যাক্টাসের পাতার ভিতর প্রবেশ করানো হয়, তখনই বিজ্ঞানীগন কোষস্থ সালোকসংশ্লেষন পর্যবেক্ষন করতে সক্ষম হন। পর্যবেক্ষনে দেখা গেছে টেবিল ল্যাম্প জ্বলা অবস্থায় বিদ্যুৎ প্রবাহের পরিমাণ বেড়ে গেছে এবং নেভানো অবস্থায় তা কমে গেছে। এই প্রথম বিজ্ঞানীগন সালোকসংশ্লেষনের সালোকসংশ্লেষনের সময় সরাসরি শর্করার স্তর পর্যবেক্ষন করতে সক্ষম হলেন। এই পদ্ধতিটি পরবর্তিতে সালোকসংশ্লেষনের কার্যপদ্ধতি আরো বিস্তৃতভাবে বুঝতে সহায়ক হবে।
গবেষকরা দেখিয়েছেন যে, ক্যাক্টাসের পাতায় ঢুকানো একটি জৈব জ্বালানি কোষ প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে ৯ মাইক্রো ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। যেহেতু এটি আলোকের উজ্বলতার উপর নির্ভরশীল, তাই আরো উজ্বল আলো কোষটির জ্বালানি শর্করা এবং অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে দেয়। ভবিষ্যতে এটি পরিবেশ-বান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের একটি উত্তম পন্থা হতে পারে।
এছাড়াও এই আবিষ্কারের প্রয়োগ চিকিৎসাক্ষেত্রেও হতে পারে। এই জৈব জ্বালানি কোষটি শরীর থেকে শর্করা এবং অক্সিজেন সংগ্রহ করে ত্বকের নিচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে, যা কিনা উদাহরনস্বরূপ ডায়বেটিস আক্রান্ত রোগীদের গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাপকারী স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহকারী হতে পারে।
সূত্রঃ সায়েন্স ডেইলি
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


